শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Tollywood : বেশে আবেশে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী!

নিজস্ব সংবাদদাতা | ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ১১ : ৫৬


শ্যামশ্রী সাহা :  ‘সম্পর্ক"। এই একটা শব্দকে ঘিরে বরাবরই গুঞ্জনের ঝড়। কখনও ইতিবাচক। কখনও নেতিবাচক। বিশেষ করে একজন বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা যখন নতুন সম্পর্কে জড়ান, রে রে করে আসে সমাজমাধ্যম। শুরু হয় ট্রোলিং। যার তলায় চাপা পড়ে যায় আসল কারণ। ঠিক যেমনটা হয়েছিল কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজের ক্ষেত্রে। সম্পর্কের স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা দুই অভিনেতা শোনালেন বন্ধুত্বের গল্প।
কে প্রথম কাছে এসেছি
কাঞ্চন- বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক একটা বিশ্বাসের ব্যাপার। একদিনে সেটা হয় না। একটা নির্ভরতা থাকে। আমাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে মজবুত হয়েছে। অসময়ে বা সুসময়ে শ্রীময়ীকে পাশে পেয়েছি। 
শ্রীময়ী- আমার ফ্যামিলির কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলেন না। কিছুই জানতাম না। আমার প্রথম কাজ কাঞ্চনদার সঙ্গে ‘বাবুসোনা’-তে। তবে কাঞ্চনদার সঙ্গে প্রথম আলাপ আমি যখন স্কুলে পড়ি। মানুষটার মনটা খুব সরল আর সৎ। এটাই আমাকে অ্যাট্রাক্ট করেছিল। এই ২৬ বছর বয়সে অনেক ওঠাপড়াই তো দেখলাম। আমি খুব ভাগ্যবান যে কাঞ্চনদার মতো ফ্রেন্ড, ফিলোজফার, গাইড পেয়েছি। যে আমাকে আগলে রেখেছে। ওর সঙ্গে আমি সব কিছু শেয়ার করতে পারি।
মন্দ বলে লোকে বলুক না
শ্রীময়ী- আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কাটাছেঁড়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে আক্রমণ করা হত। খুব খারাপ লাগত। নিজের জন্য নয়। আমি একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে। মা-বাবা, দাদু-দিদা আছেন। ওঁদের জন্য। এখন আর এসব গায়ে মাখি না। ঘটনাটা এতটাই আচমকা হয়েছিল, আমি কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার দিকে আঙুল উঠেছিল, আমি কাঞ্চনদার ঘর ভেঙেছি। আমি বাইরে থেকে এসে এতদিনের একটা সম্পর্ক ভেঙে দিলাম? এতটাই আলগা ছিল সেই সম্পর্ক? মজবুত ছিল না বলেই ভেঙেছে। এখানে আমাকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। কিন্তু আমাকেই বলির পাঁঠা করা হল। আসল ঘটনা না জেনেই যাঁরা বাজে কথা লিখতেন তাঁদের আপব্রিগিং-এ সমস্যা আছে বলে আমার মনে হয়।
কাঞ্চন- সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ট্রোলিং করা হত আমাদের। ভিতরে কী ঘটেছে না জেনে যা নয় তাই মন্তব্য করা হত। এরা আসলে পিছিয়ে পড়া অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতের বাসিন্দা। আমি পাত্তা দিতাম না। সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল পড়ার মতো ফালতু সময় আমার ছিল না। কিন্তু খারাপ লাগত শ্রীময়ীর জন্য। ও উত্তর কলকাতার সম্ভ্রান্ত, রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। আমার জন্য ওকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। ওর সঙ্গে যেটা হয়েছে একটা খুন করার মতো অপরাধ। 
মিল-অমিল
শ্রীময়ী- কাঞ্চনদা ভীষণ ইনট্রোভার্ট, আমি এক্সট্রোভার্ট। চারটে প্রশ্ন করলে একটার উত্তর পাওয়া যায়। তাই আমাদের তর্ক-বিতর্কের জায়গা নেই। আমি অনেকটাই ছোট। তাই কিছুটা প্যাম্পারড। কাঞ্চনদা রেগে গেলে দেওয়ালে ঘুসি মারে। ফোন বন্ধ করে দেয়।
কাঞ্চন- ও খুব অর্গানাইজড। সব কাজ গুছিয়ে করতে পারে। পুরো সংসার একা সামলানোর ক্ষমতা রাখে। সত্যি কথা মুখের উপর বলে দেয়। তবে রেগে গেলে একেবারে মা কালী।
তুমি এলে তাই


শ্রীময়ী- মা মারা যাওয়ার পর কাঞ্চনদা একটা খারাপ ফেস দিয়ে যাচ্ছিল। চোখের সামনে একজন শিল্পী শেষ হয়ে যাচ্ছিল। বাড়িতে বসে কাঁদত। কখনও বলতে শুনেছি, আমার সব কিছু থাকতেও আমি খুব একা। ডিসপেপসিয়া ধরা পড়ল। এতটাই ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিল, সুইসাইডও অ্যাটেম্পড করতে গিয়েছিল। তখন আমি আর চুপ থাকতে পারিনি। বলেছিলাম, তুমি তো একজন শিল্পী। নিজের চেষ্টায় এই জায়গায় উঠেছ। এখনও তুমি মঞ্চে এলে হাজার হাজার মানুষ তোমার কথা শোনেন, তাঁদের মুখে হাসি ফোটে। সেই মানুষটাই কাঁদছে, ভাল থাকতে পারছে না। এভাবে তো একজন শিল্পী শেষ হয়ে যেতে পারে না। তোমাকে ওভারকাম করতেই হবে। এই বোঝানোটাই হয়তো কাজে লেগেছিল। এখন পার্টিতে ওকে খুব একটা দেখা যায় না। অনেকেই বলেন, তোমার জন্য কাঞ্চনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমার মনে হয় ও না চাইলে আমি একা কিছুই করতে পারতাম না।
কাঞ্চন- মা চলে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল এই পৃথিবীতে আমি একা। যাদের আমার পাশে থাকার কথা ছিল তাদের কাউকেই পাইনি। ভেঙে পড়েছিলাম। শ্রীময়ী তখন আমার হাত ধরেছিল। আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু সুন্দরভাবে আমাকে বুঝিয়েছিল। এটা সম্ভব হয়েছে শ্রীময়ীর জন্য। এটা আবার ও মানতে চায় না। ইচ্ছাশক্তিটা আমার ছিল। ও আমাকে মোটিভেট করেছে। কোথাও মনে হয়েছিল, যেটা করছি সেটা ঠিক হচ্ছে না।
আর এখন
কাঞ্চন- আমরা খুব ভাল আছি।
শ্রীময়ী- ভাল আছি। এই ফ্যাশন শুটে এসে মনটা আরও ভাল হয়ে গেল।
কাঞ্চন- শ্রীময়ীর সম্পর্কের রং ছড়িয়ে গিয়েছিল পোশাকেও। শীত মানেই পার্টি থেকে বিয়েবাড়ি। কেউ ঐতিহ্য মেনে সাজতে চাইলে চোখ রাখুন যুগলের পোশাকে। পার্টির জন্য শ্রীময়ীর পছন্দের হলুদের উপরে ফ্লোরাল প্রিন্টের শিফন আদর্শ। সঙ্গে হালকা গয়না, আর গাঢ় রূপটান। কাঞ্চন বেছে নিয়েছিলেন সমুদ্র সবুজ রঙের পাঞ্জাবি। তাতে সোনালি জরির ছিমছাম নকশা।
ধরুন, কাছের জনের বিয়ে। সঙ্গীত-মেহেন্দির আয়োজন। কেমন সাজবেন? কালো কিন্তু এখন উৎসবের রং। সেই রঙের বেনারসি শাড়ি আর ব্রোকেডের ব্লাউজে গর্জাস অভিনেত্রী। পরিপাটি শাড়ি পরতে চাইলে কোমরে জরির কোমরবন্ধ জড়িয়ে নিতে পারেন। ঘিয়ে পাঞ্জাবির উপরে কালো বন্ধগলা জ্যাকেট চাপিয়ে কাঞ্চন কেতাদুরস্ত। জ্যাকেটে জরির কাজ বিয়েবাড়ির গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে।
রঙের বৈপরীত্য মানেই প্রেমের বৈপরীত্য নয়। যেমন, কাঞ্চন-শ্রীময়ী। বিয়ে মানেই বাঙালির কাছে বেনারসি আর পাঞ্জাবি। শ্রীময়ীর তাই পছন্দ পেটা জরির স্কার্ট পাড়ের শ্যাওলা সবুজ বেনারসি। জমিন জুড়ে সোনালি জরির আঁকিবুকি। আঁচলেও ভরাট কাজ। বিধায়ক-অভিনেতা সেজেছেন লাল পাঞ্জাবিতে। দুপিয়ান সিল্কের পাঞ্জাবিতে সোনালি ব্লক প্রিন্ট। কলার আর ঘাড়ে সুতোর সূক্ষ্ম কাজ।
বাকি বৌভাত। নতুন বৌয়ের মতোই সেজেছেন শ্রীময়ী। গাঢ় দুধে আলতা বালুচরিতে, হাতখোঁপায়, সোনার গয়নায় অপরূপা তিনি। কাঞ্চন সাহসী কালো পাঞ্জাবিতে। দুপিয়ান সিল্কের উপরে সোনালি ব্লক প্রিন্ট উদ্‌যাপন আমেজে মাখামাখি। ভাত-কাপড়ের অনুষ্ঠানের সাজ এমন হতেই পারে।

শ্রীময়ীর পছন্দ কাঞ্চন বললেন
বেড়াতে ভাল লাগে- পাহাড়ে
অবসর কীভাবে কাটায়- ঘুমিয়ে
পছন্দের পোশাক- বলতে পারব না
কাঞ্চনের পছন্দ শ্রীময়ী বললেন
বেড়াতে ভাল লাগে- পাহাড়ে
অবসর কীভাবে কাটায়- বই পড়ে
পছন্দের পোশাক- ক্যাজুয়াল






মডেল- কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ
পোশাক- শেহবাজ আহমেদ (৭২৭৮০৮৯৯০৯) ইরেকইন্ডিয়া
মেকআপ, হেয়ার- মুনমুন চক্রবর্তী
ছবি- সায়ন্তন দত্ত
লোকেশন সহায়তায়- কানেকশনস অ্যান্ড ফ্রিডমফরএভার
ভাবনা- শ্যামশ্রী সাহা
শুট কো-অর্ডিনেটর- উপালি মুখোপাধ্যায়



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া