বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: টলিউডে এখনও পুলিশের উর্দি-পদমর্যাদায় ভ্রান্তি! ব্যতিক্রম সৃজিত: অলোক সান্যাল

নিজস্ব সংবাদদাতা | ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০০ : ০০


দৃশ্য এক, বেহালায় পথদুর্ঘটনায় এক শিশু-মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত অঞ্চল। পরিস্থিতি সামলাতে পথে নামতে হয়েছিল তাঁকে।

দৃশ্য দুই, মঙ্গলবার তিনিই শুটিং করেছেন উত্তর কলকাতার এক বনেদি বাড়িতে। এক ভাড়াটের চরিত্রে! শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর ‘সাদা রঙের পৃথিবী’র প্রিমিয়ার। রাজর্ষি দের এই ছবিতে তিনি সিটি কমিশনার (নর্থ)। 

তিনি কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অলোক সান্যাল। এরকম আরও ‘ব্যতিক্রম’ আছে তাঁর। ছোটবেলায় স্কুলে ‘আলেকজান্ডার’ চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর ইচ্ছে ছিল, রাজা ‘পুরু’র চরিত্রে অভিনয় করবেন। যুবা বয়সে প্রেয়সীর জন্য কলম ধরেছেন। তাঁর লেখনি প্রেমের কবিতারও জন্ম দিয়েছে! এখানেই শেষ নয়। তিনি মেদিনীপুরের এক জনপ্রিয় লিটন ম্যাগাজিনের সম্পাদকও ছিলেন! ৬ ফুট উচ্চতার সেই মানুষটির মুখোমুখি আজকাল ডট ইন। মাথা পরিষ্কার কামানো। চোখে ঈষৎ মোটা, কালো ফ্রেমের চশমা। শুটিংয়ের কারণে সবুজ রঙের শার্ট-বেজরঙা প্যান্ট। চশমার আড়ালে থাকা চোখে প্রশাসনিক ক্রুরতার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই! বদলে বুদ্ধিমত্তায় ঝকঝকে একজোড়া আতসকাচ। যেখানে সবকিছু অনায়াসে ধরা দেয়।

দুঁদে প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের এহেন ‘ব্যতিক্রম’ খুব কম নজরে পড়ে... কথা তুলতেই তাঁর দাবি, ‘‘নাটক দেখা আমার নেশা। পিটিএসে থাকতাম, ব্যাচেলার্ অফিসার্স মেস। সন্ধেবেলায় অ্যাকাডেমিতে হেঁটে চলে যেতাম। বন্ধুরা মিলে দেখতাম। পাশাপাশি, ছায়াছবিও দেখি। সেই থেকেই বলতে পারেন ইচ্ছে বা স্বপ্ন।’’ অলোক সান্যাল প্রথম সুযোগ পান কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের একটি ডক্যু ফিচারে। রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের উপরে তৈরি। রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের উপরে তৈরি। পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন প্রশাসনিক অফিসার-অভিনেতার বিভাগীয় প্রধান সোমেন মিত্র। সেই শুরু। 




বাস্তবের পুলিশকে কি পর্দাতেও পুলিশের চরিত্রেই নেওয়া হয়? আজকাল ডট ইন প্রশ্ন রাখতেই মৃদু হাসি। জবাব এল, ‘‘বেশির ভাগ তাই। তবে সবটা নয়। যেমন, ‘সম্পূর্ণা ২’-তে বিচারক, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’তে গ্রাফোলজিস্ট, ‘একটু সরে বসুন’ ছবিতে ঋত্বিকের সঙ্গে ছিলাম। এরকম বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছি। এখনও মুক্তির অপেক্ষায় আরও কিছু ছবি-সিরিজ।’’ ছোটপর্দাতেও তাঁর অনায়াস গতিবিধি। ইতিমধ্যেই জি বাংলার ‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকে তিনি ‘ডিজি’র ভূমিকায় অভিনয় করছেন। এক আইপিএস অফিসারের ছেলের অন্তর্ধান-রহস্যের জট ছাড়াতে দিয়েছেন তাঁর অধস্তন ‘জগদ্ধাত্রী’কে। কথায় কথায় জানালেন, ইচ্ছে থাকলেও কাজ সামলে এর বেশি হয়ে ওঠে না। আবার বেশি বড় চরিত্রও করতে পারেন না ছুটির অভাবে। তবে দিন তিনেকের শুটিং থাকলে কোনও সমস্যা হয় না। কাজ সামলে দিব্যি ক্যামেরার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়েন। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর এই ভিন্ন রূপ দেখতে উপরমহল যথেষ্ট উৎসাহী। তাই তাঁরা বরাবর তাঁকে সহযোগিতা করে এসেছেন। তার মধ্যেই শখ, জবরদস্ত খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার। আফসোস, বাংলার ডনদের নিয়ে ছবিই হয় না!




বিনোদন আর বাস্তব দুনিয়ায় জমিন-আসমান ফারাক। রূপটান নিয়ে ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে কিছু সময় রঙিন জগতে বিচরণ। তারপরেই যখন রূঢ় বাস্তবের মাটিতে পা, প্রাণ হাঁসফাঁস করে ওঠে? প্রশ্ন শুনে ঝকঝকে চোখজোড়া কি আরও বেশিই চকচক করে উঠল? সামান্য বিরতি। তারপরে স্বীকারোক্তি, ‘‘হয় তো। শুরুতে বেশি হত। রুপোলি পর্দায় কল্পনার বাস। বাস্তবে পথদুর্ঘটনা সামলানো থেকে হাজারো ঝক্কি। তেলেজলে কখনও মিশ খায় না। কিন্তু জীবনের আরেক নাম ভারসাম্য। থানায় পোস্টিং দিয়ে জীবন শুরু। বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে গিয়েছি। জানি, কোনটা, কীভাবে সামলাতে হয়।’’ পথেঘাটে যখন ‘তারকা পুলিশ’ দেখে পথচারী থমকে দাঁড়ায়? এবার দরাজ হাসি, অফিস তাঁকে আদর করে ‘সেলেব কপ’ বলে সম্বোধন করে! অনুরাগিনীদের থেকে এখনও অনেক আবেদন-নিবেদন পান!

তবে পর্দার ‘কপ ইউনিভার্স’ দেখে মোটে সন্তুষ্ট নন বাস্তবের পুলিশ! কেন? এবার সপাট অনুযোগ, ‘‘বাংলা ছবির পুলিশেরা এখনও ভুল ঊর্দি পরেন! এসপি ডিআইজি-র পোশাক পরেন। সাব ইন্সপেক্টরকে আইপিএস অফিসারের কলার ব্যাজ লাগিয়ে দেওয়া হয়। আর পুলিশ কমিশনারের পোশাক পরে তো সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছেন! পদমর্যাদাতেও বিশাল ভ্রান্তি। প্রশাসনিক তথ্য অনেকেই জানেন না। ফলে, সেগুলো যখন দেখি, চোখে বেঁধে। ব্যতিক্রম সৃজিত মুখোপাধ্যায়। একেবারে নিখুঁত কাজ। ওঁর ‘দশম অবতার’ ছবিতে ছোট্ট ভূমিকায় অভিনয় করেছি। তখনই দেখলাম ওঁর পড়াশোনা। হলিউড, বলিউড, দক্ষিণী বিনোদন দুনিয়ায় কিন্তু এই ভুল নেই। আমাদের থেকে একটু জেনে যদি দৃশ্যগুলো সাজানো হয় তা হলে টলিউডও এই ভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।’’ জানিয়েছেন, বাস্তবে পুলিশ পর্দার মতো উড়ে উড়ে এসে মারামারিও করে না। গায়ে হাত তোলার কোনও অনুমতিই তাদের নেই। বরং তুললে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হবে।



বলিউডের নিজেকে নিখুঁত রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা সম্প্রতি তিনি অনুরাগ কাশ্যপকে করেছেন। ফরাসি চলচ্চিত্র উৎসবে বলিউডের পরিচালক কলকাতায় পা রেখেছিলেন। সেখানেই ছবি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তাঁকে জানান সে কথা। একই সঙ্গে কথা বলেছেন অনিল কাপুরের সঙ্গেও। তাঁর অনিল কাপুর অভিনীত প্রিয় ছবি ‘নায়ক’, ‘স্লামডগ মিলেনিয়ার’, ‘তেজাব’। নিজে অভিনয় করেন। পাশাপাশি, নানা ভাষার ছায়াছবি দেখেনও। তিনিও কি অনুরাগের মতো বাংলা ছবিকে ‘ঘটিয়া’ বলবেন? যার মান নাকি এভারেস্ট থেকে আছড়ে পড়ার সামিল? মানতে রাজি নন অলোক সান্যাল। উল্টে উদাহরণ দিয়েছেন, ‘‘বলিউডে অরিজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল ছাড়া কণ্ঠশিল্পী কই! প্রীতম, তনিষ্ক বাগচি— এঁরাই এই প্রজন্মের। এঁরা সবাই বাঙালি। ওখানে প্রচুর বাঙালি টেকনিশিয়ান কাজ করেন। তাই বাংলার মান খারাপ বলা যাবে না। আর করোনার পরে দর্শক এমনিতেই এখন আর প্রেক্ষাগৃহে যেতে চান না। ওটিটি-র অপেক্ষায় থাকেন।’’







বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া