সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Exclusive: আমার স্ত্রী যদি খুব সাধারণ কোনও মহিলা হতেন, তা হলে আমাদের সম্পর্কটা টিকত না: শিলাজিৎ

Rahul | ০৯ জুন ২০২৪ ২০ : ০৭


বড়পর্দায় সদ্য মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি 'অযোগ্য'। ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জুটি থাকলেও সমালোচকদের নজর কেড়েছেন শিলাজিৎ। ছবিতে 'রক্তিম'-এর চরিত্রে তাঁর অভিনয়ে মজেছেন দর্শক। 'রক্তিম' থেকে শুরু করে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণাকে নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার নানা কথা যেমন এই আজকাল.ইন-কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে এসেছে তেমনই ঘুরে ফিরে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের অজানা টুকরো টাকরা কিসসা। ফোনের এপার থেকে শিলাজিৎ-এর কথা শুনলেন রাহুল মজুমদার।  


প্রশ্ন : টলিপাড়ার তাবড় তাবড় অভিনেতাদের তো চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন!

শিলাজিৎ: সে কি! কেন? 

প্রশ্ন : প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির ছবিতে অন্যতম নায়ক শিলাজিৎ, ছবির পরিচালকের নাম আবার কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়…

শিলাজিৎ: (হাসতে হাসতে) ধ্যাৎ! না, না। মোটেও এরকম কিছু নয়। তবে একটা কথা বলতে পারি, 'অযোগ্য' ছবিতে যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সে রকম একটি চরিত্র যে কোনও অভিনেতার কাছে লোভনীয়। চট করে এরকম চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়া মুশকিল। সেক্ষেত্রে যদি অন্য কোনও অভিনেতা ভাবেন যে তিনি এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ ফেলে ফাটিয়ে দিতেন, সেই ভাবনা তো কোনও দোষের নয়। আমি তো নিজেও ভেবেছি 'দিওয়ার' ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের 'বিজয়' চরিত্রে যদি অভিনয়ের একবার সুযোগ পেতাম, হেব্বি হতো!

প্রশ্ন: আচ্ছা, প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার মতো অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করতে হবে, ও দিকে খুঁতখুঁতে পরিচালক হিসাবে কৌশিকের সুনাম আছে। অভিনেতা শিলাজিৎ কি শুটিংয়ের সময় আদৌ ফুরফুরে ছিলেন?

শিলাজিৎ: বিশ্বাস করো, ছিলাম! (জোর গলায়)। দ্যাখো, পরিচালক যখন আমাকে তাঁর ছবিতে পছন্দ করেছেন, আমার অভিনয় ক্ষমতা সম্বন্ধে ওঁর স্পষ্ট ধারণা আছে বলেই করেছেন। এখানেই তো আমার অর্ধেক কাজ শেষ। তারপর তো নির্দেশকের থেকে 'রক্তিম' সম্বন্ধে একটা ধারণা পেয়েছিলাম। ওদিকে 'অযোগ্য'র আগে ঋতুপর্ণার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। কৌশিকের সঙ্গে তো করেইছি। তবে হ্যাঁ, বুম্বা'দার সঙ্গে এই প্রথমবার অভিনয় করেছি। এতটুকু অস্বস্তি হয়নি আমার। পাশে থেকে সাহায্য করেছে বুম্বা'দা। 

প্রশ্ন: নিন্দুকেরা তো বলে, প্রসেনজিতের ছবিতে দ্বিতীয় নায়ক হওয়া 'হুইস্কি নয়, রিস্কি!' 

শিলাজিৎ: শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকে বুম্বা'দা বুঝতেই দেয়নি উনি কত বড় তারকা। বরং দলের ক্যাপ্টেন যে ভাবে সবাইকে আগলে রাখে, বুম্বা'দা ঠিক তাই করেছে। যখনই বুঝেছে এই ব্যাপারটা করলে পর্দায় আমাকে একটু বেশি ভাল লাগবে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে এসে পরামর্শ দিয়েছে। এই তো একটা সাক্ষাৎকারে বুম্বা'দা বলল, "এই ছবির ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ কিন্তু শিলাজিৎ!" 

প্রশ্ন: তাই?

শিলাজিৎ: একদম তাই! এই যে 'অযোগ্য'র শুটিংয়ে কোন রঙের পোশাক পরলে আমাকে ভাল লাগবে তার দিকেও নজর ছিল বুম্বা'দার। নিজের একটা জামা নিয়ে এসে বলল,"এটা পরবি, তোকে ভাল লাগবে"। বিশ্বাস করো, এরপর শ্রদ্ধা না করে পারি? বুম্বা'দাকে প্রণাম করেছি আমি। ৩৫০ ছবি করে বাজারে এখনও টানটান দাঁড়িয়ে আছে ভাই। সহজ কথা নয়! রশিদ খান আমার থেকে দু'বছরের ছোট ছিল, ওঁকেও প্রণাম করেছিলাম আমি। ওঁর গুণের জন্য। রশিদের কাছে গান শিখতে গিয়েছিলাম, যা শিখেছিলাম শেষে প্রণাম না করে পারিনি। 

প্রশ্ন: 'রক্তিম' এর বিষয় কিছু বলুন না...

শিলাজিৎ: দ্যাখো, এক কথায় বলব 'রক্তিম' কিন্তু শিলাজিৎ নয়। ছবিতে ঋতুপর্ণার স্বামী সে। এক সময়ে ব্যাঙ্কের চাকুরে ছিল। ব্যাস! এর থেকে বেশি কিছু বললে মজা নষ্ট হয়ে যাবে। 

প্রশ্ন: 'রক্তিম' এর সঙ্গে কোনওদিন যদি দেখা হলে তাঁকে কী কী টিপস দেবেন শিলাজিৎ?

শিলাজিৎ: 'অযোগ্য' ছবিতে প্রসেনজিৎ যে যে টিপস দিয়েছে 'রক্তিম'কে আমিও ঠিক ওই কথাগুলোই ওঁকে বলতাম। আমার ভাষায়, আমার মতো করে বোঝাতাম 'রক্তিম'কে । 

প্রশ্ন: স্বামী না প্রেমিক -নিজের কোন স্বত্ত্বাকে বেশি নম্বর দেবেন?

শিলাজিৎ - হিসাব বলছে প্রেমিক বেশি নম্বর পাবে। স্বামী খুব কম। 

প্রশ্ন: কেন?

শিলাজিৎ : এত কিছু কেন বলতে যাব? (জোরে হাসি) আর একটা কথা বলি? 

প্রশ্ন: বলুন না!

শিলাজিৎ- (একটু চুপ থেকে)আমার স্ত্রী যদি খুব সাধারণ কোনও মহিলা হতেন, তা হলে আমাদের সম্পর্কটা টিকত না। আমার এবং ওঁর মধ্যে যখন গণ্ডগোল হয়েছে পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছি। কোনওদিন পরস্পরের সঙ্গে এমন ব্যবহার করিনি যাতে আমাদের ছেলের মনে হতে পারে কিংবা বলতে পারে যে আমরা পরস্পরকে ঘেন্না করি। এই এবার একটু 'অযোগ্য'-য় ফেরো তো (হাসি)

প্রশ্ন: আচ্ছা, 'অযোগ্য'য় ফিরে আসি। প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, কৌশিক - এই তিন জনের কোন কোন গুণ আপনাকে আকৃষ্ট করে? 

শিলাজিৎ : প্রথমেই বলব, তিনজনের এনার্জি লেভেল অবিশ্বাস্য। কৌশিকের মতো ঠাণ্ডা মাথার মানুষ খুব কম দেখেছি আমি। মনের ভিতরে যতই উথালপাথাল হোক, মুখে কখনও প্রকাশ করবে না ও। বুম্বা'দা একজন আদ্যপান্ত ভদ্রলোক। আমি বয়সে ছোট হলেও যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে।  

প্রশ্ন : কাম অন! কে সম্মান দেবে না শিলাজিৎকে? 

শিলাজিৎ: (হাসি) তুমি তো ভাই মুশকিলে ফেলে দিচ্ছ। উম...উম...বুম্বা'দার মতো এতো নিয়ম মেনে চলা মানুষ আমি দেখিনি। আর সিনেমা। লোকটা সারাক্ষণ সিনেমা নিয়ে ভাবছে, আলোচনা করছে, সিনেমার চিন্তা মাথায় নিয়েই ঘুমোতে যাচ্ছে। অবিশ্বাস্য! 

প্রশ্ন : আর ঋতুপর্ণা?

শিলাজিৎ: উফ্! ঋতুর সম্বন্ধে কত বলব (হাসি) ও একসঙ্গে যে কত কাজ সামলাতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। তোমাকে 'একটু আসছি' বলে যে ও মুহূর্তে কত কাজ সেরে ফেলতে পারে তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। ধরো, দুপুর একটার সময় শুটিংয়ের পরে ঋতুকে সন্ধ্যা ছ'টায় কল টাইম দিল কৌশিক। নির্ধারিত সময়ের বড়জোর আধ ঘন্টা দেরিতে সেটে ঢুকল ঋতু। নির্বিঘ্নে শুটিং হল। পরে আড্ডা মারতে মারতে জানতে পারলাম এই মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে টুক করে বর্ধমান গিয়ে একটা কাজ সেরে ফিরে এসেছেন ম্যাডাম! 

প্রশ্ন : 'অযোগ্য'র শুটিং সেটে প্রসেনজিতের সঙ্গে কোনও মজার অভিজ্ঞতা?  

শিলাজিৎ: গোটা শুটিংটা জুড়ে মজা করেছি। প্রচুর মুহূর্ত। আলাদা করে বলাটা একটু ডিফিকাল্ট... তবু ধরো, একদিন বুম্বাদা শট দিয়ে বেরোচ্ছে আর আমি পাশ থেকে জোর গলায় বলে উঠলাম এই বুম্বা বেশি দেরি করবি না। চটপট ফিরে আসবি! (জোরে হাসি) বুম্বাদাও চোখ বড় করে, মুখ টিপে হেসে মাথা নাড়িয়ে চলে যেত। 


প্রশ্ন: আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন। কৌশিক-প্রসেনজিতের সঙ্গে এত বন্ধুত্ব। তাঁরা শিলাজিতের গড়গড়িয়া গ্রামের বাড়িতে আসবেন না? 

শিলাজিৎ: কথা হয়ে গিয়েছে। বোলপুরে কোনওদিন শুটিংয়ে গেলেই চলে আসবে। আগে থেকে জানাতেও হবে না। ওদিকে গেলেই ঢুঁ মেরে যাবে।




বিশেষ খবর

নানান খবর

Advertise with us

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া