বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: সুদীপ-নয়না নিজেদের পাড়ার 'মমতা ব্যানার্জি' ভাবেন

Riya Patra | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৫ : ৩৬


রিয়া পাত্র

ছাত্র পরিষদ, সিটি কলেজ থেকে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পেরিয়ে বরানগর উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তিনি। ইউএসপি "রাজনৈতিক প্রার্থী", ভোটে জিতলে বরানগরের মানুষের জন্য তিন অ্যাজেন্ডা তৈরি। দিন নয়, ঘণ্টা গুনে প্রচার সারছেন সজল ঘোষ

* ছাত্র পরিষদ থেকে শুরু, এখন বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী। লম্বা সময়ে রাজনীতি নিয়ে মানুষের মনের বদল কী দেখলেন?

সজল: আমার কাছে রাজনীতির মূল বিষয় মানুষের জন্য যথাসাধ্য করা। কিন্তু ভোট প্রয়োগ আসলে বদল হয় সময়ের সঙ্গে। যাঁরা সিপিএমকে ভোট দিতেন, তাঁরা সকলে মার্ক্সকে চিনতেন না। তাঁরা বুঝেছিলেন শ্রমিকের লড়াই লাল ঝান্ডা লড়তে পারে। দিনে দিনে বামেরা ভুলতে লাগল শ্রমিকের কথা। তখন মমতা ব্যানার্জির প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে উত্থান। মধ্যবিত্ত মানুষ ঘাসফুল প্রতীক বেছে নিলেন। গ্রাস রুটের কথা বলে যিনি উঠে এলেন, তিনি সেটা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মানুষও সরে গেল। দিনে দিনে আইটির রমরমার সময়, প্রযুক্তির সময়ে মানুষ বিজেপির পথ গ্রহণ করল। মানুষ নিজেকে পরিবর্তন করে, সেই কারণেই ভোট ৫ বছর অন্তর অন্তর। 

* কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা? তাঁরা তো টিকিট না পেলেই গোঁসা করে বসে থাকেন।

সজল: আজকের রাজনীতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জায়গা কম। শাসক দলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অভাব। শাসক দলে গেলে সব পাওয়া যায় এই ধারনা। অরাজনৈতিকরা মনে করল ওটা পাওয়ার পিলার। আমি যেমন কখনোই টিকিট না পেয়ে দলবদল করিনি।

* এই প্রসঙ্গেই আসি। আপনার দলবদল সম্প্রতি চর্চায় উঠে এসেছে কুণাল - সুদীপ তরজার মাঝে।

সজল: উনি আজ বলছেন, আমি তিন বছর আগে বিজেপিতে এসেছি। উনি তিন বছর আগে বললে ভাল লাগত। আমরা পাড়ার রাজনীতি করেছি। কিন্তু একটা সময়ে দেখলাম এখানকার "মমতা ব্যানার্জি" হয়ে আছেন সুদীপ ব্যানার্জি, নয়না ব্যানার্জি। তাঁরা সাধারণ মানুষের রাজনীতি করছেন না।

* মমতা ব্যানার্জি কি জানতেন, "পাড়ায় মমতা ব্যানার্জি" তৈরি হচ্ছে?

সজল: আজকের দিনে উনি সব জানেন। কিন্তু ওঁর হাতে কিছু নেই। ওঁর ভাই টিকিট না পেলে দিল্লি চলে যাচ্ছেন। 

* এই পরিস্থিতির কারণ কী বলে আপনার মনে হয়?

সজল: লোভ। 

* একটা দলের সুপ্রিমোর কী ভূমিকা তাতে? 

সজল: তাঁর বয়স হয়েছে, লাগামও নেই। চিরঞ্জীবী হয়ে কেউ থাকেন না। রাশ আলগা হচ্ছে।

* তৃণমূল থেকে বিজেপি, কাউন্সিলরের পাড়ার পুজোয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসেন। ৩ বছরে উত্থানের গতি দেখে অনেকেই বলেন আপনি রাজনীতির স্ট্র্যাটেজি খুব ভাল জানেন।

সজল: দেখুন, স্ট্র্যাটেজিক হতেই হবে। বাকিটা আমি ডেসটিনিতে বিশ্বাস করি।

* কাউন্সিলর থেকে বিধানসভা ভোটের প্রার্থী, দলে গুরুত্ব বেড়েছে। বরানগরের মতো কেন্দ্রের প্রার্থী।

সজল: আমি গর্বিত, খুশি।

* কিন্তু এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বরাবরই খুব কম।

সজল: ভোট হয়নি, প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ ছিল মানুষের মনে।

* এবার প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ নেই?

সজল: গতবার তৃণমূল বলেছিল অভিনেত্রীকে ভোট দেবেন না, এবার আমরা বলছি।

* তাপস রায়ের ছেড়ে যাওয়া আসনে আপনার লড়াই। ঘটনাক্রমে দুজনেই তৃণমূলে ছিলেন, দুজনেই এখন বিজেপিতে। উনি আপনার হয়ে প্রচার করবেন?

সজল: উনি আমার হয়ে প্রচার করবেন এটা তো চাইবই। আশা করি তার ফল পাব।

* হাতে সময় দু" মাস। প্রচারের পরিকল্পনা কী?

সজল: আমি দিন, ঘণ্টা গুনে প্রচার করছি। প্রতিটা বাড়িতে পৌঁছতে চাই। মূল পরিকল্পনা ছোট ছোট মিটিং করা। যাতে আমি কী বলতে চাই, সেটা প্রত্যেকটি মানুষ শুনতে পারে।

* বরানগরে আপনি জিতে গেলে, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কী হবে?

সজল- যে রাঁধে সে চুল বাঁধে। কাউন্সিলরের কাজ অনেক কঠিন। রোজকার জীবন নিয়ে তাঁর কাজ। বিধায়কের কাজ জল কল রাস্তা আলো নিয়ে নয়। তাঁর কাজ নীতি নির্ধারণ। 

* দুটো দিক সামাল দেবেন কীভাবে? 
সজল: মেয়র, অতীন ঘোষ, দেবাশীষ কুমার যদি পারেন,আমি কেন পারব না? তাঁদের বয়স আমার থেকে বেশি। 

* রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নাকি বয়সটাই ফ্যাক্টর?

সজল: অভিজ্ঞতার কোনও তুলনা নেই। প্লেয়ার আর কোচের মধ্যে ফারাক আছে। রাজনীতিতেও তাই। সময়ের সঙ্গে কিছু জায়গা থেকে সরতে হয়। বিজেপিতে বলা হয়, একটা বয়সের পর তুমি রাস্তা দেখাও, রাস্তায় হেঁটোনা। তবে চাকরির মতো ৬০-৬৫ তে বেঁধে দিতে হবে এমনটা বিশ্বাস করি না। 

* আপনি কি দিলীপ ঘোষের আলটপকা মন্তব্যগুলো সমর্থন করেন? 

সজল: একেবারেই সমর্থন করি না। তবে মানুষ মেশিন নয়। মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায় কথা। নেতাদের মুখ দিয়ে কথা বেরোলে আর রক্ষা নেই। 

* এই ভোটে সজল ঘোষের ইউএসপি কী?
সজল: আমি একজন "রাজনৈতিক কর্মী"। আমার রাজনৈতিক খিদে আছে। একটা মাঠ তৈরি করলে, পরের দিন সেখানেই খেলতে চাইব। অরাজনৈতিক প্রার্থী হলে ভাবেন সব জায়গায় মানুষ তাঁকে দেখবে। সেলিব্রিটি আকর্ষণে তাঁকে ভোট দেবে। দায়বদ্ধতা কম থাকে তাঁর।

* ভোটে জিতলে কী করবেন বরানগরের মানুষের জন্য?
সজল: আমি দু তিনটে সমস্যা বেছে নিয়েছি। আমার প্রধান কাজ হবে ড্রেন নিয়ে। এখনও খোলা ড্রেন সেখানে। পানীয় জল কিনে খেতে হয় সকলকে। সব মিল বন্ধ সেখানকার। আগামী দুবছরে আমার অ্যাজেন্ডা এই তিনটি।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া