বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Shantiniketan: মমতার নির্দেশ, শান্তিনিকেতনে বুকে রবীন্দ্রনাথের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ মন্ত্রী, বিধায়কদের

Pallabi Ghosh | ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৩ : ১২


চন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বোলপুর: ফলক নিয়ে আন্দোলন শুরু হতেই নড়েচড়ে বসল বিশ্বভারতী। শীঘ্রই ফলক বদলের সিদ্ধান্ত। ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। উপাচার্যকে শোকজ।জানতে চাইলেন কেন বাদ রবীন্দ্রনাথ? কোনও গল্পই শুনতে নারাজ মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। বক্তব্য পরিষ্কার, রবীন্দ্রনাথের নামবিহীন ফলক না খোলা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ফলকে ব্রাত্য স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এই অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে মঞ্চ বেঁধে ধর্না শুরু করছে বোলপুরের তৃণমূল কংগ্রেস। গলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি নিয়ে বিক্ষোভে সামিল মন্ত্রী-বিধায়ক। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা ফলকে রয়েছে আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উপাচার্যের নাম৷ নাম নেই বিশ্বকবির৷ যা নিয়ে নিন্দার ঝড় সর্বত্র। শান্তিনিকেতনে ঘুরতে আসা দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরাও সামিল হলেন, কারণ সবার হৃদয় জুড়েই রবীন্দ্রনাথ। সেই রবীন্দ্রনাথের অপমান মানতে পারছেন না ব্যারাকপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সুদীপ চন্দ্র। তাঁর মতই অনেকেই রবীন্দ্রনাথের ছবি হাতে নিয়ে জানালেন প্রতিবাদ। 
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' বা 'বিশ্ব ঐতিহ্যের' তকমা দিয়েছে ইউনেস্কো। এই মর্মে ঐতিহ্যবাহী উপাসনা গৃহ, রবীন্দ্রভবন ও গৌরপ্রাঙ্গণে ৩ টি শ্বেত পাথরের ফলক বসানো হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, "ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।" নীচে নাম রয়েছে আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম৷ ব্রাত্য স্বয়ং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র।
এই নিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট সহ অধ্যাপক সংগঠন বিশ্বভারতীর পরিদর্শক তথা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, রেক্টর তথা রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে অভিযোগও করেছে। 
ফলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকায় সরব হতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। ২৬ অক্টোবর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "শান্তিনিকেতন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হয়েছে তার একমাত্র কৃতিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের নির্মাতা৷ তাঁর নামই নেই ফলকে। যা খুশি তাই শুরু করেছে।"
এরপরেই আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। সেই মত শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিনিকেতন রাস্তার উপর কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেটে মঞ্চ বেঁধে ধর্না শুরু করে তৃণমূল। গলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি নিয়ে ধর্না অংশ নেন রাজ্যের ক্ষুদ্র-মাঝারি ও কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার সহ তৃণমূল কাউন্সিলররা৷ 
মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের বিক্ষোভ। দফায় দফায় চলবে এই প্রতিবাদ৷ বিশ্বভারতীর উপাচার্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মুছে দিতে চাইছেন৷ বাঙালি তা মেনে নেবে না। বিশ্বভারতীর ছাত্রী মীনাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, "বিশ্ব ঐতিহ্যের ফলকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের নাম দেয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। হয় ফলক তুলে দিতে হবে, না হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম দিতে হবে৷ তা না হলে আন্দোলন চলবে।"
অন্যদিকে বিজেপি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বোলপুরে প্রাক্তন সাংসদ ডঃ অনুপম হাজরা তার এক্স হ্যান্ডেলে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই উপাচার্য বিজেপির বদনাম করার জন্য রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের নামে ফলক লাগিয়েছেন। তিনি উপাচার্যের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তায় আবেদন করেছেন নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এক্সটেনশন নেওয়ার জন্য দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর নাম লিখে তাঁর ক্ষতি করবেন না। বিজেপির ক্ষতি করবেন না। কারণ রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দেওয়াটা কোনও বাঙালি মানবে না, কোনও ভারতীয় মানবে না।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া