শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Mohun Bagan: এক গোলে এগিয়ে পাঁচ গোল হজম, জঘন্য ফুটবলে এএফসিতে যাত্রা শেষ মোহনবাগানের

Sampurna Chakraborty | ২৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৬ : ৩৯


মোহনবাগান -

ওড়িশা এফসি -

সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: লজ্জার হার। ঘরের মাঠে পাঁচ গোল হজম মোহনবাগানের। জঘন্য ফুটবল। এক গোলে এগিয়েও পাঁচ গোল খেল জুয়ান ফেরান্দোর দল। ঘরের মাঠে স্বপ্নের জলাঞ্জলি। মরণ-বাঁচন ম্যাচে শোচনীয় হার মোহনবাগানের। সোমবার যুবভারতীতে ওড়িশা এফসির কাছে ২-৫ গোলে হেরে এএফসি কাপ থেকে বিদায় নিল মোহনবাগান। আগের দু"বার আন্ত জোনালের সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেও এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব। পার্থক্য গড়ে দিলেন রয় কৃষ্ণ। চেনা মাঠে প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে গোল করলেন এবং করালেনও। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে বসুন্ধরা কিংস মাজিয়াকে ২-১ গোলে হারানোয় জেতা ছাড়া কোনও রাস্তা খোলা ছিল না মোহনবাগানের সামনে। কিন্তু ১৫,০০০ সমর্থকের উপস্থিতিতে মাথা হেঁট করে মাঠ ছাড়লেন কামিন্স, হুগোরা।‌ হতশ্রী রক্ষণ। আনোয়ার আলির অভাব বোধ হল। মাঝমাঠে কোনও বাঁধুনি নেই। তেমনই গোল করার লোকের অভাব। দিমিত্রি পেত্রাতোসের অনুপস্থিতিতে আরও তালকানা দেখাল বাগানের আক্রমণকে। কামিন্স নব্বই মিনিট পর্যন্ত কী করলেন বোঝা গেল না। তেমনই সাদিকু। মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই প্রথম পাঁচ গোল হজম ফেরান্দোর। বছর দুয়েক আগে মুম্বই সিটির কাছে আইএসএলের ম্যাচে পাঁচ গোল খেয়েছিল সবুজ মেরুন। 

দলে একাধিক চোট-আঘাত। নেইয়ের তালিকায় অনেকেই। ম্যাচের আগের দিন ফেরান্দো দাবি করেছিলেন, কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু হল উল্টোটা। আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে রক্ষণে কম্পন ধরিয়ে দেন রয় কৃষ্ণ, মরিসিওরা। রক্ষণের ভুলে দু"মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল হজম। প্রাক্তনীই কাঁটা হয়ে দাঁড়াল বাগানের। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। রয় কৃষ্ণ গোল করলেন, এবং করালেন। হুগো বুমোসের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। আশিস রাইয়ের ক্রস নামিয়ে দেয় জেরি। সেখান থেকে ১-০ করেন হুগো। তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সবুজ মেরুন। আচমকা ওড়িশার একটা ঝাপটায় বাগানের নৌকাডুবি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে ১-১। পুইতিয়ার ক্রস হেড করে নামিয়ে দেন আশিস রাই। জেরির মাথা ছুঁয়ে পড়ে রয় কৃষ্ণর পায়ে। গোলার মতো শটে গোল বাগানের প্রাক্তনীর। নিশ্বাস ফেলার আগেই আবার গোল। মাত্র দু"মিনিটের ব্যবধানে। জহুর ফ্রিকিক থেকে বয় কৃষ্ণর মাইনাস। গোলে ঠেলতে ভুল করেননি মরিসিও। নিরব দর্শক বাগানের রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৪১ মিনিটে গ্লেন মার্টিন্সের নাকের ডগা দিয়ে বল টেনে নিয়ে যান মরিসিও। তিন নম্বর গোলটা করেন সাকামতো। প্রথমার্ধের শেষেই ১-৩। 

অনিরুদ্ধ থাপার বদলে কেন গ্লেন মার্টিন্সকে দিয়ে শুরু করেছিলেন ফেরান্দো জানা নেই। তবে কোচের কয়েকটা সিদ্ধান্তও ফারাক গড়ে দেয়। যদিও ৫৭ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপা এবং কিয়ান নাসিরি নামার পর ম্যাচে ফেরে বাগান। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে হুগোর বাঁ পায়ের ক্রস থেকে স্পট হেডে অনবদ্য গোল কিয়ানের। সেই সময় ওড়িশার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছিল বাগান। সমতা ফেরান আপ্রাণ চেষ্টা করেন কিয়ানরা।‌ কিন্তু ভাগ্যও সঙ্গ দেয়নি। লিস্টন এবং সাহালের শট ক্রসপিসে লাগে। শেষদিকে গোল পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় অলআউট যেতে গিয়ে রক্ষণের কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পাঁচ মিনিটে আরও দু"গোল ওড়িশার। ৯০+২ মিনিটে রয় কৃষর মাইনাস থেকে ২-৪ করেন পরিবর্ত ফুটবলার অনিকেত যাদব। তিন মিনিটে ফের গোল। ৯০+৫ মিনিটে বাগানের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন ইশাকা রালতে। ১১ ডিসেম্বর মাজিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ শুধুই নিয়মরক্ষার। বরং এদিনের জয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ বাড়ল ওড়িশার। 

ছবি: অভিষেক চক্রবর্তী



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া