বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

BUDGET: কর ছাড়ে নজর থাকবে বাজেটে

Sumit | ০৪ জুলাই ২০২৪ ১২ : ১৮


সুশান্ত কুমার সান্যাল :
তৃতীয়বার দেশে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বিশ্ব অর্থনীতির বিচারে গত দশ বছরে ১১ নম্বর থেকে ৫ম স্থানে পৌঁছেছে ভারতের অর্থনীতি। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাঙ্কিং ব্যবস্থা এই মুহূর্তে ভারতে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলোর মুনাফা বেড়েছে ভাল রকমই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরকারি ব্যাঙ্কের মুনাফা ২০২৩–২৪–তে পৌঁছে গেছে প্রায় ১,৪০,০১৪ কোটি টাকায়, যা গতবছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এবার বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে ভারত।
কিন্তু সাধারণ শ্রমিক, কর্মচারী বা কৃষকদের আর্থিক পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। দিনে দিনে নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। দৈনন্দিন খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত কমাতে হচ্ছে ভোগ্যপণ্যের পরিমাণ। বেকারত্বের জালায় জর্জরিত এমনকি দেশের উচ্চশিক্ষিত যুবক–যুবতীও। গত চার দশকে সর্বোচ্চ বেকারত্ব প্রশ্ন তুলছে সরকারি পরিসংখ্যান বাদ দিলে কি সত্যিই ভাল আছেন দেশের সাধারণ মানুষ?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের হাতে আরও বেশি নগদের জোগান চাই। তবেই বাড়বে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা। ১ ফেরুয়ারি, ২০২৪–এর অন্তর্বর্তী বাজেট ছিল ‘‌ভোট অন অ্যাকাউন্টস’‌, প্রত্যাশা থাকলেও যেখানে কর ব্যবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এবার কিন্তু দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে (যা জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা) চোখ থাকবে দেশের কর ব্যবস্থার ওপর। কর ব্যবস্থায় এবারের বাজেটে ঠিক কোন কোন বিষয়ে নজর থাকবে একটু দেখে নেওয়া যাক।
প্রথমত, দেশের প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থার নতুন ব্যবস্থাকে (‌regime)‌ আবার তুলে ধরার চেষ্টা। ২০২০ সালে সরকার এই নতুন ট্যাক্স রিজিম প্রবর্তন করেছিল। গত ৩ বছরে অনেক চেষ্টার পরও জনগনের মধ্যে এটা সেভাবে কোনও সাড়া ফেলেনি। তাই অনেকের মতে, এই নতুম রিজিমে নতুনভাবে প্রত্যক্ষ করের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। দেওয়া হতে পারে করছাড়ের বিশেষ ব্যবস্থাও। বাড়ানো হতে পারে করমুক্ত আয়ের পরিমাণও। নইলে নতুন রিজিমে ট্যাক্স তার জনপ্রিয়তা একেবারেই হারাবে।
দ্বিতীয়ত, পুরনো প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন। এক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের পরিমাণও বাড়াতে হবে। বিশেষত আয়কর আইন, ১৯৬১ অধীনে ৮০সি ধারায় ছাড়। এলআইসি, পিপিএফ, ৫ বছরের জন্য ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট ইত্যাদির মাধ্যমে ১.৫০ লক্ষ টাকা ছাড়ের পরিবর্তে অবিলম্বে তা করা উচিত কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা‌। ২০১৪–র পর, বিশেষত প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থায় কর কাঠামোর তেমন কোনও পরিবর্তনই হয়নি। এই মুহূর্তে আমজনতার হাতে নগদের জোগান বাড়াতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কর ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে দেশের আভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বাড়াতেও কাজে লাগবে এই ব্যবস্থা। কারণ ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এই বিনিয়োগের অবদান অনস্বীকার্য।
তৃতীয়ত, শুধুমাত্র আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় করছাড়। সঙ্গে প্রয়োজন বর্তমান কর কাঠামোর আপাদমস্তক পরিবর্তন। এখনকার ৩ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে প্রদেয় কর থেকে ১৫ লক্ষের বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ হারে প্রদেয় কর ব্যবস্থার আমূলে পরিবর্তন প্রয়োজন। আর এই কর কাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে যথাসম্ভব বাস্তবমুখী হয়েই। কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, আয় ও সম্পদের অসম বণ্টনের যে কাঁটা ভারতের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে, তা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যাবে এই পরিবর্তনে। তাই সরকারের নজরে থাকবে এই বিষয়টিও।
চতুর্থত, বিকল্প শক্তিকে গুরুত্ব । ২০৭০–এর মধ্যে নিট কার্বন নিঃসরণের মাত্রা নামিয়ে আনতে হবে একেবারে তলানিতে, অঙ্গীকার রয়েছে ভারতের। তাই এই বিকল্প শক্তির প্রসার ঘটাতে প্রয়োজন এই শিল্পে প্রয়োজনীয় কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা, তাহলে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি, অনেকের ধারণা, এবার চালু হতে চলেছে কার্বন নিঃসরণের ওপর বাড়তি করও, যাতে ওই সব শিল্পের ওপরেও গ্রিন এনার্জির চাপ থাকে। এই শিল্পে জোরাল দাবি থাকবে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর পরিবর্তনের ওপর।
পঞ্চমত, ব্যাটারিটালিত গাড়ি ব্যবসা। এখন ভারতে ইলেকট্রিক গাড়িতে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি নেওয়া হলেও এই শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য জোরাল দাবি রয়েছে এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, যেমন– বিশেষত এর ব্যাটারি, ইত্যাদির ওপর করের বোঝা কমানোর। ২০৩০ সালের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে হলে এই মুহূর্তের সবচেয়ে প্রয়োজন এটাই।
ষষ্ঠত, কর্পোরেট ট্যাক্স। বর্তমানে দেশে আয় ও সম্পদের অসম বণ্টন ভাবাচ্ছে অর্থনীতিবিদদের। তাই অনেকের মতে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর করের বোঝা যথাসম্ভব কমিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি আয়ের ক্ষেত্রে কর বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি, কর্পোরেট ট্যাক্সের কর বাড়ানো হলে দেশের শিল্পে তার কী প্রভাব পড়বে, সেটাও দেখার। তবে দেশের কর ব্যবস্থায় একটা ভারসাম্য রক্ষা করাই এবারের বাজেটে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।‌




বিশেষ খবর

নানান খবর

Advertise with us

সোশ্যাল মিডিয়া