রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Tollywood: ছবি তৈরির পিছনে অনেক লড়াই, গৌতমদা হয়তো সেটা এড়াতে চেয়েছিলেন: লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

উপালি মুখোপাধ্যায় | ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৩ : ০০


শুক্রবার সকালে আচমকা চলে গেলেন গৌতম হালদার। খবরটা শুনে স্তব্ধ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। প্রবীণ পরিচালকের বাংলা ছবি ‘ভাল থেকো’র কাহিনিকার তিনি। পুজোয় লীনা বাবাকে হারিয়েছেন। আজকাল ডট ইনকে কাহিনি-চিত্রনাট্যকার জানিয়েছেন, সেই শোক সামলে ওঠার আগেই নতুন শোক। তাঁর কথায়, ‘‘পরশু দিনই কথা হল। বাবা চলে গিয়েছেন। ফোনে আমায় স্বান্তনা দিলেন। বললেন, খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছ। আমি জানি, তুমি সামলে উঠবে। একদিন সময় বের করো। এসো, অনেক কথা হবে। তুমি না পারলে জানিও, আমি যাব।’’ সেই দিনটা আর এল না। তার আগেই বিনা প্রস্তুতিতে বিদায় নিলেন তিনি। লীনার চারপাশ খুব ফাঁকা লাগছে।

লীনা তখনও কাহিনি-চিত্রনাট্যকার নন। তখন থেকে তিনি গৌতমবাবুকে চেনেন। অগাধ পাণ্ডিত্য। ভীষণ অমায়িক, আড্ডাবাজ। নানা বিষয় নিয়ে অনর্গল কথা বলে যেতে পারতেন। তাঁর কথায়, ‘‘আরও দুটো বিশেষ গুণ তাঁর আছে। খুব কম মানুষ জানেন। এক, গৌতমদা ভীষণ ভাল গাইতে পারতেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ওঁর কণ্ঠে আলাদা মাত্রা পেত। গৌতমদার উদাত্ত কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করত। দুই, দুর্দান্ত রাঁধতে পারতেন তিনি। আমি মাংস খাই না। শুনেছি, ওঁর হাতের রান্না করা মাংস নাকি একবার খেলে ভোলা সম্ভব নয়। চিংড়ি দিয়ে দুর্দান্ত একটা পদ বানাতেন। শুধু কলকাতায় নয়, মু্ম্বইয়ে ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করতে গিয়েও হাতা-খুন্তি ধরতেন। ওঁর একটা দল ছিল। তাঁদের নিয়ে নিজেই বাজার করতে যেতেন। পরশু যখন ফোন করেছিলেন, তখনও খাওয়াদাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওঁর আতিথেয়তার জুড়ি নেই।’’

বরাবর ভাল ছবির পরিচালক হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর। গৌতম হালদারের ছবি তৈরির সংখ্যা তাই যেন তুলনায় কম। সংখ্যাটা বাড়লে বাংলা বিনোদন দুনিয়া আরও সমৃদ্ধ হত? প্রশ্ন রাখতেই লীনার উত্তর, ‘‘অবশ্যই হত। কিন্তু ছবি তৈরির পিছনে অনেক লড়াই থাকে। হয়তো তিনি সেটা করে উঠতে পারতেন না। তাই হয়তো সংখ্যাটা কম। আবার চাইলেই যে ছবি বানিয়ে ফেলা যায় তাও না। এটাও কিন্তু একটা কারণ। তবে ওঁর কিন্তু আরও ছবি পরিচালনার ইচ্ছে ছিল।’’ এই নিয়ে তিনি আলোচনাও করতেন লীনার সঙ্গে। যদিও মাঝে অনেক বছর দু’জনের যোগাযোগ ছিল না। কাহিনি-চিত্রনাট্যকারের মতে, হয়তো চলে যাবেন বলেই করোনাকালে আবার যোগাযোগ হয় তাঁদের। 

ছোটপর্দার কাজ নিয়ে কোনও দিন আলোচনা হয়েছে? লীনার দাবি, ‘‘ছোটপর্দা নিয়ে আলাদা করে কোনও দিন আলোচনা হয়নি। তবে কথায় কথায় জানিয়েছিলেন, সংস্কৃতির বিভিন্ন আঙিনায় আমার সাফল্যে গৌতমদা গর্ব বোধ করতেন। দাদা আমায় শুরুরও আগে থেকে দেখেছেন।’’ গৌতম হালদারের জীবনের অনেকগুলো স্তর। ছবি পরিচালনার আগে তিনি নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খুব ভাল স্যুভেনির বানাতেন। সেই সময় কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যতগুলো বই এবং স্যুভেনির তৈরি হত সবটার দায়িত্বে তিনি ছিলেন। তাঁর দক্ষতায় সেই সব কাজ আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে যেত।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া