আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুই শতাধিক আসন পেয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় বিজেপির। নতুন সরকার গঠন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী শনিবার, ৯ মে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথগ্রহণ করবেন।
আজ, বুধবার দুপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, "শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান। তার আগে ৮ মে বিধায়কদলের বৈঠক হবে নিউটাউন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে।"
শনিবার ব্রিগেডে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানের আগেই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতেই ময়দানে নেমেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যেই খুঁটিনাটি পরীক্ষা করতে এদিন হাজির হয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ব্রিগেডেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথের জন্য মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হবে কিছুক্ষণেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হাজির থাকবেন এসপিজে আধিকারিকরাও।
গত সোমবার বাংলা এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বাংলার নতুন ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে, বাংলার মসনদে কে বসবেন তার সিদ্ধান্তও এদিনই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
এরপর রাজ্য বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল গতকাল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা-সহ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ওই বৈঠকেও রাজ্যের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় সহপর্যবেক্ষক হিসেবে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরন মাঝিকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, টানা তিনবার নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক হলেন শুভেন্দু অধিকারী। দু'বার হারালেন মমতা ব্যানার্জিকে। বুধবার নন্দীগ্রামে পা দিতেই শুভেন্দুকে নিয়ে জনজোয়ারে ভাসলেন সেখানকার বিজেপি সমর্থকরা। এরপর শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করবই।” হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, “বিজেপি ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে।” দলের কর্মী-সমর্থকদের হিংসা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়ে বললেন, “আইনি পথে সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।”
ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, বাংলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজাল্ট দুর্দান্ত। দুটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। ফলাফল ঘোষণার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলেই তিনি গিয়েছিলেন ভবানীপুরে। সেখানকার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলে। বুধবার সকালে নিজের গড় নন্দীগ্রামে গেলেন শুভেন্দু। পুজো দিলেন বজরংবলির মন্দিরে। ভূমিপুত্রকে ঘিরে কার্যত জনজোয়ার।
















