আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঠিক যখন মমতা ব্যানার্জি নিজের হারের ধাক্কা সামলে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন, তখনই দলের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হল। মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির  ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন তৃণমূলের ৯  জন নবনির্বাচিত বিধায়ক।  একজন কাজল শেখ, একজন রথীন ঘোষ। রথীন বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

 

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই প্রথমবার দলের সমস্ত নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে পৌঁছেছিলেন ৭০ জন। অর্থাৎ ১০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিধায়করা কি বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখছেন, নাকি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ থেকে তাঁরা দূরত্ব বজায় রাখলেন? পরাজয়ের এই আবহে দলের সংহতি বজায় রাখাই এখন মমতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।


এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিধানসভায় 'বিরোধী দলনেতা' কে হবেন তা নির্ধারণ করা। যেহেতু মমতা নিজে পরাজিত হয়েছেন এবং এই মুহূর্তে বিধায়ক নন, তাই বিধানসভার ভেতরে আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ মুখ খুঁজছে তৃণমূল। পাশাপাশি, বিজেপির নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূল কী কৌশল নেবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।


নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বহু কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের একটি 'ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি' গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মমতা বৈঠকে বিধায়কদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, দল সবসময় তাঁদের পাশে আছে।


কয়েকদিন আগেই মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, "আমরা হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।" তাঁর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, মানুষ যেখানে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেখানে মমতা এখনও হারের বাস্তবতা স্বীকার করছেন না। ১০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। সব মিলিয়ে, হারের ক্ষত সামলানোর আগেই তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি দানা বাঁধছে, তা স্পষ্ট।