আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৫,১০৫ ভোটে খাস ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। এরপরেও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, এদিন মমতা বৈঠকে জানান, "সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে দল নির্বাচন নিয়ে। একত্রিত হয়ে চলার সময় এটা আমাদের। যাঁরা অন্তর্ঘাত করেছেন, তাঁদের নাম দিন। একা আমিও ছিলাম একসময়, ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দল ঘুরে দাঁড়াবেই। আগামী সপ্তাহে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম যাবে এলাকায়।
তিনি এও জানান, "নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথের দিন দলীয় কার্যালেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজাও। আমি, চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র্যাকট্রিস করব। নানা কেস যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান ব্যানার্জি সবাই আইনজীবী হিসাবে মামলা দেখব।"
বুধবার বিকেলে বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো ফের বলেন, "আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক, আমি চাই, সেই দিনটি হোক একটি কালো দিন। অভিষেক অনেক হার্ড ওয়ার্ক করেছে। আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। জ্ঞানেশ কুমার হলেন আসল ভিলেন। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি যুক্ত আছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব।"
ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ, "ওদের সাহস দেখুন, জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তি ভেঙে দিয়েছে। আমাকে মেরেছে, ববি'কে মেরেছে। আমাদের এখানে হারানো হলেও, দিল্লি আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। গোটা 'ইন্ডিয়া' টিম একসঙ্গে লড়াই করব। দেখেছেন চারিদিকে কি হচ্ছে? নেতাজী-গান্ধীজীকে গেরুয়া আবির মাখাচ্ছে!"
আজ নব নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি এদিনের বৈঠকে বলেন, "মমতা ব্যানার্জিই দল দেখবেন। আমি ছিলাম, আছি থাকব। যেখানে অভিযোগ নিচ্ছে না, সেখানে অনলাইনে অভিযোগ জানান।"
এমনকী তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, গত ছ'মাস ধরে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের মতোই চলেছে। যাঁরা দল ও দলের নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই প্রথমবার দলের সমস্ত নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে পৌঁছেছিলেন ৭১ জন। অর্থাৎ ৯ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিধায়করা কি বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখছেন, নাকি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ থেকে তাঁরা দূরত্ব বজায় রাখলেন? পরাজয়ের এই আবহে দলের সংহতি বজায় রাখাই এখন মমতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিধানসভায় 'বিরোধী দলনেতা' কে হবেন তা নির্ধারণ করা। যেহেতু মমতা নিজে পরাজিত হয়েছেন এবং এই মুহূর্তে বিধায়ক নন, তাই বিধানসভার ভেতরে আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ মুখ খুঁজছে তৃণমূল। পাশাপাশি, বিজেপির নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূল কী কৌশল নেবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বহু কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ১০ সদস্যের একটি 'ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি' গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মমতা বৈঠকে বিধায়কদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, দল সবসময় তাঁদের পাশে আছে।















