সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

নতুন পাঠ্যক্রমে উচ্চমাধ্যমিক, চালু হচ্ছে সেমেস্টার পদ্ধতি#উত্তরবঙ্গ

Riya Patra | ১৫ জানুয়ারী ২০২৪ ১০ : ৩১



নীলাঞ্জনা সান্যাল: এতদিন যেভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে এসেছে, সেই ধাঁচ আমূল বদলে যেতে চলেছে। শুধু পরীক্ষা নয়, উচ্চমাধ্যমিকেও এবার চালু হতে চলেছে সেমেস্টার সিস্টেম। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন মিললে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কার্যকর হতে চলেছে এই বদল। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হবে সেমেস্টার পদ্ধতিতে। এর সঙ্গে সিবিএসই-র পাঠ্যক্রম এবং এনসিইআরটি–র পাঠ্যবইকে বেঞ্চমার্ক ধরে এই স্তরের সিলেবাসও বদলাচ্ছে।
সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে এই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃত্তিমূলক কোর্সের ১৩টি বিষয়কে বাদ রেখে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বাকি ৪৭টি বিষয়ের সিলেবাসেই বদল আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা ৪ থেকে ৬ সদস্যের সাব কমিটি গড়া হয়েছে। কমিটিগুলিতে স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আছেন। বিজ্ঞান–সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের এই কমিটিতে শহরের কয়েকটি প্রথম সারির সিবিএসই বোর্ডের অধীনস্থ স্কুলের শিক্ষকরাও রয়েছেন। এই মাসের মধ্যেই সেমেস্টার ভিত্তিক সিলেবাস বদলের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা এই কমিটিগুলির। আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সেমেস্টার পদ্ধতিতে বিভক্ত সব মিলিয়ে চারটি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন এবং মডেল প্রশ্নপত্র তৈরির কাজও শেষ হয়ে যাবে।
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শেষবার পাঠ্যক্রম বদলের কাজ হয়েছিল ১০ বছর আগে। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যক্রম এবং সেমেস্টার পদ্ধতি একসঙ্গে চালু করতে চায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। হঠাৎ কেন এই বদল?‌ তার ব্যাখ্যায় সংসদের বক্তব্য, সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আমূল বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে সিবিএসই–‌র পাঠ্যক্রম এবং তার ভিত্তিতে এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইগুলিকে অনুসরণ করা হচ্ছে। কারণ, জাতীয় স্তরের যাবতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে ডাক্তারি, বাণিজ্য শাখার পরীক্ষা, সর্বোপরি সারা দেশের কলেজগুলিতে ভর্তির যে পরীক্ষা এখন শুরু হয়েছে, তা এই পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতেই হয়। ফলে বিজ্ঞান সহ মূল বিষয়গুলির সিলেবাস বদলের ক্ষেত্রে এনসিইআরটি-র বইগুলিকে ‘‌ফলো’‌ করা হচ্ছে, যাতে সর্বভারতীয় স্তরে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে না পড়ে। তারা যাতে সর্বভারতীয় স্তরের সব রকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‌‌পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ভিত যাতে মজবুত হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।  তবে এনসিইআরটি-র পাঠ্যবইগুলির কপি পেস্ট করা হচ্ছে না। ভাষা এবং ইতিহাস-ভূগোলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিষয়গুলিকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। জিএসটি চালু হওয়ার পর দেশের কর ব্যবস্থাই পাল্টে গেছে। কিন্তু সংসদের অ্যাকউন্টেন্সি, অর্থনীতি, বিজনেস স্টাডিজের মতো বিষয়গুলিতে তা এতদিন অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। এবারে নতুন বিষয় হিসেবে জিএসটি ঢুকতে চলেছে।
পাঠ্যক্রম বদলের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি, সংসদের প্রস্তাব অনুযায়ী, একাদশ ও দ্বাদশ বা উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে হবে চারটি সেমেস্টার। প্রথম সেমেস্টার হবে নভেম্বরে। দ্বিতীয় সেমেস্টার ফেব্রুয়ারি বা মার্চে। প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা এমসিকিউ এবং ওএমআর শিটে হবে। দ্বিতীয় সেমেস্টারে থাকবে সংক্ষিপ্ত এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন। দুটি সেমেস্টারে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই একজন পড়ুয়া সফল না অসফল তা স্থির হবে।
সেক্ষেত্রে প্রথম সেমেস্টারে পাশ ফেল থাকছে না। এবছর মাধ্যমিক পাশ করে যারা একাদশে ভর্তি হবে তারা এই নতুন সিস্টেমে এবং পরিবর্তিত সিলেবাসে পড়াশোনা করবে। সেক্ষেত্রে এবছরের নভেম্বরে হবে একাদশের প্রথম সেমেস্টার এবং ২০২৫ ফেব্রুয়ারি বা মার্চে হবে দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা। দ্বাদশে ওঠার পর এই ছাত্রছাত্রীদের দ্বাদশের প্রথম সেমেস্টার হবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে। এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সেমেস্টার পদ্ধতির প্রথম ব্যাচ হিসেবে এরা উচ্চমাধ্যমিক দেবে।



বিশেষ খবর

নানান খবর

Earth day 2024 #Aajkaal #EarthDay2024 #EarthDay #aajkaalonline

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া