শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

দণ্ড সংহিতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে ডিসেন্ট নোট দিতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট

Pallabi Ghosh | ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ০৮ : ৪৮


বীরেন ভট্টচার্য, দিল্লি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লিখিত আপত্তি বা ডিসেন্ট নোট দিতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটভুক্ত দলগুলি। আগামী শুক্রবার বেলা ১২টায় ভারতীয় দণ্ড সংহিতা নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও সে বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়ার দলগুলি। বিশেষ করে তৃণমূলের তরফে শুক্রবার বৈঠকের দিন ধার্য করার তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। কারণ, সেদিন কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভাল এবং শনিবার লক্ষ্মীপুজো। উৎসবের মরশুমে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
মূলত ভারতীয় দণ্ড সংহিতা নিয়ে খসড়া রিপোর্ট গ্রহণ করতে শুক্রবারের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, রিপোর্ট তৈরি করার আগে কমিটির সদস্যদের খসড়া পাঠাতে হয়। সেগুলি পড়ে সদস্যরা সংশোধনী জমা দেন। তারপর সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর রিপোর্ট গৃহীত হয়। রিপোর্টের খসড়া ভালভাবে পড়ে তার সংশোধনী জমা দিতে যথেষ্ঠ সময় প্রয়োজন। কংগ্রেস, তৃণমূল সহ ইন্ডিয়া শিবিরের সাংসদদের অভিযোগ, এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় দণ্ড সংহিতা বিলটি পাস করাতে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রিপোর্টের খসড়া পড়ার জন্য যথেষ্ঠ সময় না দেওয়ায় সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিজ লালকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়েন এবং কংগ্রেসের পি চিদম্বরম। গত ২৩ অক্টোবর ডেরেক এবং ২২ অক্টোবর চিদম্বরম ব্রিজ লালকে চিঠি দিয়েছেন। কমিটির বৈঠক এবং বিলটি নিয়ে তাড়াহুড়ো করার বিষয়ে বেশ কয়েকটি দিক তুলে ধরেছেন তাঁরা। চিঠিতে ডেরেক ও ব্রায়েন উল্লেখ করেছেন, "২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় খসড়া রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। ফলে তিনটি রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিবেচনা করার জন্য মাত্র ৫ দিন সময় পাওয়া যাচ্ছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিলের রিপোর্টের ক্ষেত্রে এই সময় যথেষ্ঠ কম।" খসড়া রিপোর্টে বেশ কিছু ভুল চিহ্নিত করেছে ডিএমকে সাংসদ এলানগো এবং পি চিদম্বরম। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিলের খসড়া রিপোর্ট তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি।
২৭ অক্টোবর বৈঠক ডাকা নিয়েও চিঠিতে আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল। চিঠিতে ডেরেক ও ব্রায়েন লিখেছেন, "উৎসবের মরশুমে সাংসদদের নিজেদের এলাকায় অনেক কাজ থাকে। ইউনেস্কো দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর বাংলার দুর্গাপুজো অন্য আকার নিয়েছে। এবার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হবে ২৭ অক্টোবর। ২৮ অক্টোবর লক্ষ্মী পুজো। ফলে ২৭ তারিখে চলবে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। কেন বাংলার সাংসদদের এই বৈঠকে হাজিরা থেকে বঞ্ছিত করা হচ্ছে?" সংসদীয় কমিটির এক সদস্য বলেন, "বাংলার দুর্গাপুজো সম্পর্কে এটা বিজেপির অসংবেদনশীলতা। তারা বাংলা এবং বাংলার উৎসব সম্পর্কে সংবেদনশীল নয়। সেই কারণেই এমন একটি সময়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।" মাত্র ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তিনটি রিপোর্ট পড়া সম্ভব নয় বলে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন পি চিদম্বরমও।
শুক্রবারের বৈঠকে কমপক্ষে ১০টি ডিসেন্ট নোট জমা হতে চলেছে। তবে লক্ষ্মী পুজোর কারণে বৈঠকে থাকতে পারবেন না কাকলি ঘোষদস্তিদার, ভোটের ব্যস্ততায় থাকতে পারবেন না দিগ্বিজয় সিং, অন্য কর্মসূচি থাকায় গড়হাজির থাকবেন পি চিদম্বরম। এই বিল এবং যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে বিলটি নিয়ে সংসদীয় কমিটি রিপোর্ট তৈরি করার চেষ্টা করছে, তার বিরোধিতার ক্ষেত্রে জোটবদ্ধ ইন্ডিয়া শিবির। কমিটির এক সদস্য বলেন, "ইন্ডিয়া জোটের সব দলের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। শুক্রবারের বৈঠকে সব সদস্যাই ডিসেন্ট নোট দেবেন।"



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া