রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Review: শিরশিরানি ভয়ের সফর ‘পর্ণশবরীর শাপ’

পরমা দাশগুপ্ত | ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ০৪ : ০১


অডিও মাধ্যমের পরে এবার ওয়েব সিরিজ। প্রত্যাশা মেটাল ‘পর্ণশবরীর শাপ’? দেখলেন পরমা দাশগুপ্ত

কুয়াশার চাদরে আপাদমস্তক মোড়া জঙ্গল। নীলচে, হিমশীতল, গা শিরশিরে। লেপচাজগৎ তার মায়া মায়া পাহাড়ি সৌন্দর্য নিয়েও কেমন যেন বিষাদ মাখা। একের পর এক গাছ কেটে তার মাঝেই থাবা বাড়াচ্ছে হোটেল ব্যবসা। এমনই এক ঠিকানায় পৌঁছল চার জন। পুলিশ অফিসার অমিয় (গৌরব চক্রবর্তী), তার হবু স্ত্রী মিতুল (সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়), বন্ধু হোটেল ব্যবসায়ী পল্লব (অর্ণ মুখোপাধ্যায়) এবং তার চিকিৎসক স্ত্রী তিতাস (অনিন্দিতা বসু)। গহীন জঙ্গলে ছোট্ট ছুটিই যে সব হিসেব ওলোটপালট করে দেবে, কে জানত! 




শৌভিক চক্রবর্তীর লেখা ‘পর্ণশবরীর শাপ’ অডিয়ো মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। তাকেই এবার ওয়েব সিরিজ আকারে হইচইয়ে নিয়ে এসেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ছয় পর্বের এই পুরাণ-নির্ভর ভুতুড়ে কাহিনিতে প্রেত-বিশারদ নীরেন ভাদুড়ির ভূমিকায় চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। 

চমকপুরের হোটেলে যাওয়ার পথে ঘন জঙ্গলে পাথরের উপরে দাঁড়িয়ে শ্যাওলা মাখা এক মূর্তি। দেবী পর্ণশবরী। না জেনেবুঝেই একলা এগিয়ে গিয়েছিল মিতুল। একটু ভাল করে দেখতে চেয়ে রুমাল দিয়ে তার মুখটা ঘষে পরিষ্কার করতে যেতেই কী যে হল! ছিটকে পড়ল মিতুল। বাকিদের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরলেও কেমন যেন পাল্টে গেল হাসিখুশি মেয়ে। অদ্ভূত সব আচরণে, আচমকা নেপালি কথায় ভয় পাইয়ে দিতে থাকল সঙ্গীদেরও। এ দিকে চার পাশে ঘটে যাচ্ছে অদ্ভুতুড়ে সব কাণ্ডকারখানা। হোমস্টে-র কর্মী পেমা ও তার স্ত্রী ডুবচেন-সহ গোটা গ্রাম ভয়ে কাঁটা। নীরেন ভাদুড়ির ডাক পড়ল এর পরেই। কিন্তু কেন এমন করছে মিতুল? দেবী পর্ণশবরীর অভিশাপেই কি এই হাল? নীরেন ভাদুড়ি কি পারবেন সবটা স্বাভাবিক করে দিতে? তা নিয়েই এগিয়েছে কাহিনি। 




ভুতুড়ে ছবিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তার দৃশ্যায়ন আর শব্দকল্পের। গল্প যেমনই হোক, তাতে গা শিরশিরে ভয়ের আমেজ তৈরি করার অনেকটা দায়িত্ব তাদেরই। গাঢ় নীল, ছাই রঙা সিনেমাটোগ্রাফি সেই বরফঠান্ডা ভয়ের আবহ তৈরি করতে পেরেছে বেশ খানিকটাই। ফ্ল্যাশব্যাকের হাসিখুশি সময়গুলোকে উজ্জ্বল হলুদ-কমলা রঙা উষ্ণতায় বুনে দিয়ে গ্রামের এখনকার বিষাদমাখা দিনযাপনের বৈপরীত্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরেছেন কালারিস্ট। সাউন্ডস্কেপের মুন্সিয়ানায় গায়ে কাঁটা দেওয়া মুহূর্তও তৈরি হয়েছে কিছু। তবে হ্যাঁ, প্রতিটা পর্বের শেষে ভূত-দেখানো জাম্প-স্কেয়ার বেশ একঘেয়ে লাগে। অশরীরীর কাহিনিতে সবটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে না দিলেই তো বোধহয় শিরশিরে ভয় হানা দেয় বেশি। কিছু অকারণ দৃশ্যেও গল্পের তাল কেটেছে খানিক। শেষ পর্বে এসে ভুতুড়ে গল্পে হিতোপদেশের পাঠও মনে ধরেনি একেবারেই।  

শুরুতে হাসিখুশি শহুরে কন্যে আচমকা ভূতে ধরে পাল্টে গেল আমূল। মিতুলের চরিত্রে সুরঙ্গনা সেই বদলটাকে ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। পেরেওছেন। মরা জন্তুর শরীরে হাত ভরে রক্ত-মাংস মাখা কিংবা নখের আঁচড়ে কাঠের মেঝেতে আঁকিবুঁকির মুহূর্তগুলো ভয় পাইয়ে দেয়। কিন্তু তার পরেই কেমন যেন পশ্চিমি আদল তাঁর অভিনয়ে। দেবী পর্ণশবরী, উত্তরবঙ্গের জংলা পাহাড়ি স্বাদ, নেপালি গ্রামের জীবন-রীতিনীতি—সবটাই তো এ দেশের একান্ত নিজের। সেই আবহে ভূতে ধরা মেয়ে হয়ে উঠতে মেকআপে, অভিনয়ে ‘এক্সরসিস্ট’-এর হলিউডি ধাঁচ না হলেই বরং ভাল লাগত আরও।



পুলিশি কর্তব্য পালন করা আর হবু স্ত্রীকে বাঁচাতে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না গৌরবের। এক কালে সাম্যবাদে বিশ্বাসী, এখন স্রেফ টাকা চেনা পল্লবের ভূমিকায় ধারালো লাগে অর্ণকে। তবে শেষ পর্বে বিবেকের ভূমিকা না নিলেও পারতেন! অনিন্দিতার ব্যক্তিত্ব, মিতুলকে আগলে রাখতে চাওয়া স্নেহের পরশে জীবন্ত লাগে তিতাসকে। এ গল্পে সুরঙ্গনার পাশাপাশি সমানতালে চোখ টানেন তিনিও। ভূত-বিশারদ ভাদুড়িমশাইকে যত্নে ফুটিয়েছেন চিরঞ্জিত। তবে এ সিরিজের প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে রোজা পারমিতা দে। সহজ-সরল পাহাড়ি গৃহবধূ থেকে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠা এক নারী— গোটা যাত্রাপথে লাগাতার নজর কেড়ে গিয়েছেন তিনি। 

ভুতুড়ে ছবির স্বাদে-আমেজে ভাল লাগে ‘পর্ণশবরীর শাপ’। তবে প্রেতের চেহারায় আশির দশকের বলিউডি ছবির ভূতকে ফিরিয়ে আনা কি খুব জরুরি ছিল? পরিচালক পরমব্রতর হাতে হাত ধরে আরও একটু পরিণত ভূতের দেখা মেলার আশা ছিল যে!



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া