বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

PRICE: খাদ্যদ্রব্যের দাম লাগামছাড়া

Sumit | ২৭ জুন ২০২৪ ১৩ : ২৬


সুশান্ত কুমার সান্যাল: বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন কমছে, তখন ভারতের সাধারণ মানুষ খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল। খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুতেই বশে আনা যাচ্ছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য গড়ে বার্ষিক ৮ শতাংশ হারে বেড়ে চলেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, গত বছর দেশের বেশ কিছু অংশে খরা এবং সম্প্রতি অত্যধিক গরমের ফলে ব্যাপক মার খেয়েছে খাদ্যশস্য ও শাকসবজির ফলন। তথ্য বলছে, দেশে অর্ধেকের বেশি অংশেই এবার তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৯ ডিগ্রি বেশি। জায়গায় জায়গায় জলের সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়েছে। ফলে ফলনে ঘাটতি থাকছে বিশেষত পেঁয়াজ, টম্যাটো ও বিভিন্ন ধরনের সবজির, যা প্রকট হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। সরকার কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানি হ্রাস এবং আমদানিতে উৎসাহ দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। অত্যধিক তাপপ্রবাহের পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের দামের ছেঁকায় নাজেহাল দেশের আমজনতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারেও হয়তো দেশের অনেকাংশেই সময়ে বা প্রয়োজনমতো বর্ষা হবে না। কারণ হিসেবে তাঁরা তুলে ধরছেন, সম্প্রতি দেশের দক্ষিণভাগের বর্ষাকে। যেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বর্ষার আগমনেও খুব একটা আশার আলো এই মুহূর্তে নেই বলা চলে। সম্প্রতি সরকার ধান/চালের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়েছে ৫.৪০ শতাংশ। সুতরাং চালের মূল্যেও এর প্রভাব আবার পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে গমের সরবরাহও কমছে। আবার সরকারও এই মুহূর্তে গম আমদানিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। ফলে খুব শিগগিরই গমের দামও বাড়তে চলেছে।
মিনিস্ট্রি অফ কনজিউমার অ্যাফেয়ার্সের তথ্যও বলছে, প্রতি বছরেই বাড়ছে গম ও চালের মূল্য। দিন দিন বাড়ছে দুধের দাম। চাহিদার তুলনায় জোগান কমার ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিম ও মাংসের দামও। চিনির দামও বৃদ্ধি পাবে আগামী দিনে এমন সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে, কারণ দেশের বহু অংশেই ব্যাহত হয়েছে আখের উৎপাদন। সব মিলিয়ে আগামী দিনে ঘাটতি দেখা দেবে সরবরাহে, বাড়বে সমস্ত ধরনের খাদ্যের মূল্য।
সম্প্রতি খাদ্যশস্যের মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৮.৬৩ শতাংশে, আবার সবজির ক্ষেত্রে সেটা হয়েছিল ২৭.৮ শতাংশ। গত ৭ মাসে সবজির মুদ্রাস্ফীতি বাস্তবে রয়েছে দু’‌অঙ্কের সংখ্যাতেই।
এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে কীভাবে? খাদ্যের মুদ্রাস্ফীতির কবল থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী?
আবহবিদরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনে বিশ্বের যে ১০টি দেশের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে, তার অন্যতম ভারত। তাই দিন দিন সঙ্কট বাড়বে বই কমবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই মুহূর্তে প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রথমত, শক্তিশালী সরবরাহ–ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেমন– সহজ–পচনশীল খাদ্যসামগ্রী পরিবহণে আরও বেশি রেফ্রিজারেটেড গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক ব্যবস্থার হিমঘর আরও বেশি গড়ে তুলতে হবে এবং তা কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, কৃষিকাজে আরও বেশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। যেমন প্রয়োজন ‘‌ড্রিপ ইরিগেশন’‌–এর ব্যবহার, যার ফলে কম জল ব্যবহারে পাওয়া যাবে বেশি ফসল। তৃতীয়ত, দাম নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণের শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। এটা কালোবাজারি বন্ধ করে অনেকটাই নামিয়ে আনবে কৃষিজাত পণ্যের দাম। চতুর্থত, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন– ডিভাইস ‘‌আম্বি ট্যাগ’‌–এর ব্যবহার পরিবহণের সময় কৃষিজাত সামগ্রী নষ্ট হওয়ার পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনবে। এই ব্যবস্থায় কিন্তু একবার চার্জের মাধ্যমেই এই ডিভাইস ৯০ দিনের জন্য মাইনাস ৪০ ডিগ্রি থেকে +৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রা বজায় রাখবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ডিভাইস নির্ধারিত তাপমাত্রা ছাড়ালেই জানান দেবে যা থেকে সাবধান হয়ে বাঁচানো যাবে ক্ষতি। পঞ্চমত, এই মুহূর্তে প্রয়োজন কৃষিকাজে বৈচিত্র আনা। বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পরিবর্তিত আবহাওয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বদলাতে হবে। যেমন– খরাপ্রবণ এলাকায় গবেষণার মাধ্যমে জেনে নিতে হবে, কোন ধরনের খাদ্যশস্য ফলানো সম্ভব। আবার অতিবৃষ্টির জায়গাগুলোয় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে কোন ধরনের সবজি খাদ্যশস্য উৎপাদন করা যায়। এই গবেষণায় বিনিয়োগ অনেক বাড়াতে হবে, যা আগামিদিনে ফল দেবে। ষষ্ঠত, সরকারের উচিত কিছু কৃষিজাত পণ্যের সর্বাধিক খুচরো বিক্রয়মূল্য আবশ্যিক ভাবে বেঁধে দেওয়া। এর ফলে বাজারে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে। এছাড়াও সরকারের উচিত গণবণ্টন ব্যবস্থায় ভরতুকি দিয়ে যথাসম্ভব পরিস্থিতির মোকাবিলা করা।
পাশাপাশি, অনেকেই আবার মনে করছেন, এবছর বর্ষা কিছুটা দেরি করে এলেও এর ভাল প্রভাব পড়বে কৃষিকাজে। ভাল ফলন হলে ধীরে ধীরে মুদ্রাস্ফীতিও কমে আসবে। তবে এই মুহূর্তে দাড়িয়ে সেই সম্ভাবনা খুব একটা শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে না। অন্যদিকে বিশ্বে ভূ–রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থা। ঘুরপথে আসা আমদানিকৃত পণ্যের জন্য মাশুল গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ। একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক প্রভাবকে অস্বীকার করা যাবে না, অন্যদিকে আবার আবহাওয়ার পরিবর্তন, দুয়ে মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল, তা নিয়ে দ্বিমত নেই।




বিশেষ খবর

নানান খবর

Advertise with us

সোশ্যাল মিডিয়া