আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঠিক যে সময় দিল্লিতে উপস্থিত খোদ মমতা ব্যানার্জি, সেই সময়ই ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর স্পিকারকে চিঠি দিয়ে এলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কীসের চিঠি? তৃণমূলের সংসদীয় দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করলেন তাঁরা। সোমবার ঠিক দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে ওই চিঠি জমা পড়েছে স্পিকারের কাছে। এদিন বেশ কয়েক জন সাংসদের সই নিয়ে ওই চিঠি জমা দেওয়া বলে খবর। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীও দেখা করেন। কিন্তু আসল চমক বাকি ছিল বিকেলে। 'যুদ্ধজয়ের' পর বিদ্রোহী সাংসদরা সকলে জড়ো হন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে। সেখানে চা-চক্রের আয়োজনও করা হয়। আর সেখানেই সটান গিয়ে হাজির হন খোদ শুভেন্দু। সকালের পর ফের বিকেলে। যা নিয়ে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজধানীতে।
মমতার হাত ছেড়ে যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নয় তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। এই অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদ রয়েছেন বিদ্রোহী ব্লকে।
মমতার 'সঙ্গ' ছেড়ে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান কী? কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না তাঁরা। তবে, এনডিএ-তে যোগ দেবেন তাঁরা। অর্থাৎ তৃণমূলের একটি পৃথক ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান তাঁরা। এই চিঠি গৃহীত হলেই, তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙে যাবে। তবে, সোমবার ওম বিড়লা লোকসভায় উপস্থিত নেই। তাই চিঠিটি তাঁর অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।
আর তৃণমূলের সংসদীয় দলও যখন ভেঙে গেল, তখন বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠক যাঁর বাড়িতে, সেই সাংসদ শতাব্দী রায় রীতিমতো আতিথেয়তার আয়োজন করেছেন। ফলে বিধানসভার মতো সংসদেও যে বিপর্যস্তই হলেন মমতা ব্যানার্জি, তা একপ্রকার স্পষ্টই হয়ে গেল।















