আজকাল ওয়েবডেস্ক: মণিপুরের দাঙ্গা শুধু যে বুলেটের শব্দে বা পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়িতেই থমকে নেই, তার চেয়েও এক ভয়াবহ এবং নীরব মানবিক বিপর্যয় নিঃশব্দে দানা বাঁধছে রাজ্যের ত্রাণ শিবিরগুলোতে। তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যান। ২০২৩ সালের মে মাসে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণ শিবির এবং অস্থায়ী বাসস্থানে আশ্রয় নেওয়া অন্তত ৭৩১ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য কোনও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, স্বয়ং জেলা প্রশাসনগুলোর সংকলিত নথি থেকে সামনে এনেছেন সমাজকর্মী হরেশ্বর গোস্বামী।
এই পরিসংখ্যানের আসল ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে মৃত্যুর কারণ এবং স্থানগুলোর গভীরে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে চুরাচাঁদপুর জেলায়, যেখানে ২৪৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরই রয়েছে বিষ্ণুপুর এবং কাংপোকপি, যেখানে যথাক্রমে ১৫১ এবং ১২৮ জন মারা গেছেন। কিন্তু এই মানুষগুলো কীভাবে মারা গেলেন? রিপোর্টের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, তীব্র মানসিক অবসাদ ও ট্রমার কারণে অন্তত ২৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা, অসাবধানতাবশত জলে ডুবে যাওয়া এবং একটি নৃশংস যৌন নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
এর বাইরে সবচেয়ে বড় ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ও মারণব্যাধি। ইম্ফল ইস্টের ত্রাণ শিবিরগুলোতেই শুধু ২১৭ জন শরণার্থী ক্যানসার বা যক্ষ্মার মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন, যাদের চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান এই পরিকাঠামোয় অত্যন্ত অপ্রতুল। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আজও ৪৩ হাজারেরও বেশি মানুষ এই শিবিরগুলোর দমবন্ধ করা পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে, জীবিকা হারিয়ে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি এই মানুষগুলোর কাছে হিংসা থমকে গেলেও, বেঁচে থাকার লড়াইটা প্রতিদিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এই রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মণিপুরের ক্ষত কেবল রাজনৈতিক সমঝোতায় সারবে না, সেখানে এই মুহূর্তে প্রয়োজন এক বিশাল মানবিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি হস্তক্ষেপ।















