আবু হায়াত বিশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য ফৌজদারি মামলায় টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে তাঁদের পদ থেকে অপসারণের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ রবিবার বলেন, বিচার শেষ হওয়ার আগে এবং আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগেই শুধুমাত্র বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার ভিত্তিতে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেশের বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তাঁর কথায়, 'ভারতের আইনে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ বলে গণ্য হন।' রমেশের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারির মাধ্যমে এই আইনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁর দাবি, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে অস্থিতিশীল করাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনও মন্ত্রী পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য কোনও অপরাধে অভিযুক্ত হন এবং ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁকে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের দ্বারা অথবা স্বয়ংক্রিয় ভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এদিন বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন সরকারের নেই। তাই সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিলের পাশাপাশি মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করতে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিলেরও বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। রমেশের অভিযোগ, সংসদে সংখ্যা বাড়াতে বিরোধী দলগুলিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাঁর দাবি, তাতেও সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবে না।

এদিকে সূত্রের খবর, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) আগামী ১৭ জুলাই সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী) বিল নিয়ে তাদের রিপোর্ট গ্রহণ করতে পারে। এরপর ২০ জুলাই শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে বিলগুলি উত্থাপন করা হতে পারে।প্রস্তাবিত বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই আইন বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আইনজীবী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়েছে জেপিসি। তবে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দলের অভিযোগ, এই আইন বিচারাধীন ব্যক্তিকে আগেভাগেই শাস্তির মুখে ফেলবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিরোধীদের আরও অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনের বিধানগুলি অগণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এছাড়া স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী। কারণ, এতে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে কেবল হেফাজতে থাকার জন্যই শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। পালটা সরকার পক্ষের দাবি, ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার জামিন চাওয়ার সময় পাওয়া যাবে। তাই এতে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন হয়নি। তবে এই আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেদিকটিও থাকতে হবে বলে এনডিএ শরিকদের মধ্যে দাবি উঠেছে।