আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের জেলাস্তরে ফের ভাঙন। পশ্চিম বর্ধমানের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ ছাড়লেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সদ্য তৃণমূলের জেলা সংগঠন নতুন করে সাজানো হয়েছিল।

কিন্তু তাও বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। একের পর এক পদত্যাগের খবর সামনে এসেছে। শুক্রবার নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি লেখেন নরেন্দ্রনাথ।

সেখানে তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়া মারফত তিনি জানতে পেরেছেন তাঁকে পশ্চিম বর্ধমানে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

শুক্রবার তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। কারাবাসের পরেও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। জানিয়েছিলেন, তাঁর মন্ত্রিসভায় সবথেকে ভাল কাজ করেছেন তিনিই।

ভোটে হারের পর, মমতা ব্যানার্জি যখন তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে নতুন করে গড়লেন, তাতে এক্সিকিউটিভ মেম্বার করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়কে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উত্তর চব্বিশ পরগনারও। ঠিক তার কয়েকদিনের মাথায় ইস্তফা।

সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে, দলের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সুগার এবং কিডনির সমস্যার  কথা। জানিয়েছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে দলের দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব নয়।

সেই কারণ দেখিয়েই ইস্তফা দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেবও। সূত্রের খবর, দলনেত্রীকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

এই খবর সামনে আসতেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবারই তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা (সমতল) কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয় গৌতম দেবকে।

দলের অন্দরের মতে, সাংগঠনিক কাজে তাঁকে আরও সক্রিয় ভূমিকা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরদিনই মেয়র পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়র হিসেবে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারার কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গৌতম দেব। বৃহস্পতিবার পুরনিগমে মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।

সেই বৈঠকেই মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে মেয়র পারিষদদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন গৌতম।