আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ত্রিপল চুরির মামলা করা হয়েছিল। তবে এবার এগরায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নেতার বাড়ি থেকে কয়েক হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। 


পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা ২ ব্লকের পানিপারুল বাজার এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতির ঘনিষ্ঠ নেতা শিবশঙ্কর ভারতীর বাড়ি থেকে কয়েক হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।


স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে শিবশঙ্কর ভারতীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠছিল। মঙ্গলবার এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে থরে থরে সাজানো সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত ত্রিপল বাজেয়াপ্ত করে এগরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুঃস্থদের সাহায্যের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রিপল যথাসময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে মজুত রাখা হয়েছিল পাচারের উদ্দেশ্যে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।


এগরার বর্তমান বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, “এই সমস্ত চোরেরাই মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মিথ্যে ত্রিপল চুরির মামলায় জড়িয়েছিল। আজ প্রকৃত চোরেদের বিচার হবে।” পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রাক্তন বিধায়ক তরুণ মাইতির সঙ্গে যুক্ত একটি স্কুলেও বেআইনি সামগ্রী থাকতে পারে। সেই তদন্তেরও দাবি তোলেন তিনি।

 


যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতি। তাঁর দাবি, বিধায়ক কোটার মাধ্যমে ইদের পোশাক ও বর্ষার জন্য ত্রিপল বরাদ্দ হয়েছিল। ইদের সামগ্রী বিতরণ করা হলেও নির্বাচন থাকায় ত্রিপল বিতরণে দেরি হয়। এই ঘটনাকেই সাজিয়ে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।