আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের কিছু দিন আগেই বামফ্রন্ট ছেড়ে অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি শুক্রবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বার্তা দিয়েছেন, ‘যাঁরা যেতে চান তাঁরা যেতে পারেন।’ নতুন করে দল গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি এই পরিস্থিতিতে প্রতীক উর সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের বিপদের দিনে হাত ছেড়ে দেওয়ার বান্দা তিনি নন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে প্রতীক উর লেখেন, ‘বিপদের দিনে হাত ছেড়ে পালিয়ে যাবো, এমন অকৃতজ্ঞ নই। জয় বাংলা।’ আজকাল ডট ইনকে তৃণমূল নেতা সাফ জানিয়ে দেন, কে কী ভাবল বা কে কী বলল সেসব তিনি পরোয়া করেন না।
তাঁর বিপদের দিনে যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাঁর বিপদের দিনে তিনিও পাশে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কে কী ভাবল, কে কী ভেবে দল ছেড়েছে সেটা আমার জানা নেই। সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমার দুঃসময়ে যে হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিটার নাম অভিষেক ব্যানার্জি আর দলটার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ছাড়ার হাজারটা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু তৃণমূলে থেকে যাওয়ার একটাই কারণ আছে। একজন ভাল মানুষ হতে গেলে এথিক্যালি তো বলতে হয় বিপদের সময় বন্ধুর হাত ছাড়তে নেই। তো এখন যে সবচেয়ে বিপদে আছে তার হাত ছাড়া উচিত নয়।’
তাহলে বিপদের সময় প্রতীক উর সিপিএম ছাড়লেন কেন? তৃণমূল নেতা সাফ জানালেন, ‘যখন সিপিএম সবচেয়ে বেশি বিপদে ছিল তখন প্রতীক উর রহমান সিপিএমের ঝান্ডাটা তুলে নিয়েছিল। প্রতীক উর রহমান সিপিএমের বিপদের দিনে সিপিএম ছাড়েনি। বরঞ্চ সিপিএম প্রতীক উর রহমানকে বিপদে ফেলে হাত ছেড়ে দিয়েছিল। তৃণমূল সেখান থেকে হাতটা ধরেছিল। একটা পরাজয়ের উত্থান পতন আছে। এটাই রাজনীতির নিয়ম, এটাই একটা অঙ্গের নিয়ম। একটা দল উঠেছিল, একটা দল পড়েছে এটাই স্বাভাবিক। আর আমি বিরোধী রাজনীতি করে উঠেছি, বিরোধী রাজনীতিতে স্বচ্ছন্ন বোধ করি। ফলে আমার কাছে এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। আমি মনে করি মানে মানুষ সঠিক সময় তার রায় দেবেন। সেইজন্য মানুষের উপর আস্থা, ভরসা রাখা উচিত, মানুষের পাশে থাকা উচিত।’
প্রতীক উরের দাবি, ‘এখনও ৪০% মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তো ফলে সেই মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে এই দলটার পাশে থাকা উচিত বলে আমি মনে করছি।’
ডায়মন্ড হারবারের ফলাফল নিয়ে মুখ খোলেন প্রতীক উর। বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অনেকে অনেক রকম কথা বলতেই পারে। আপাতত ডায়মন্ড হারবারে সাতটার মধ্যে ছ’টা বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছে। পাঁচটায় তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের রায় নিয়ে জিতেছে। একটা যেখানে হেরেছে সেখানে মাত্র চারশো ভোটে হেরেছে। এখন তো বিজেপি বলতে পারবে না ফেয়ার ইলেকশন হয়নি। মানুষ তার রায় দিয়েছেন। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে ছিল এটা স্পষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসআইআরে নাম বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে কাউন্টিংয়ের দিন ভিতরে ম্যানিপুলেশন শুরু করে অনেক কিছু হয়েছে। সেটা বাংলার মানুষ কিছুটা জানে। কিছুটা আমাদের দল বলার চেষ্টা করেছে। তারপরেও বিজেপি যে জিতেছে এটা ফ্যাক্ট। বিজেপি এখন সরকারে আছে এটা ফ্যাক্ট। বিজেপিকেও স্বীকার করতে হবে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ তৃণমূলকেই জিতিয়েছে।’















