আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ বীরভূমে। জেলার তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ ও প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নিরাপত্তায় বড় ধরনের কাটছাঁট করল জেলা পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তুলে নেওয়া হয়েছে পাইলট, এস্কর্ট ও হাউস গার্ডের মতো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূলের বীরভূম কোর কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। বোলপুরের নিচুপট্টিতে তাঁর বাসভবনে ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন থাকত পুলিশ বাহিনী। শুধু বাড়িতেই নয়, রাজনৈতিক সভা, দলীয় বৈঠক কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেখানেই যেতেন, সেখানেই তাঁর সঙ্গে থাকত নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি মহিলা নিরাপত্তারক্ষীও নিয়োগ করা হয়েছিল।
কিন্তু নতুন নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকবেন মাত্র একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। তুলে নেওয়া হয়েছে পাইলট ও এস্কর্টের ব্যবস্থাও। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতেই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক পুলিশ কর্মীকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে নিরাপত্তা কমানো হয়েছে হাসনের বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের ক্ষেত্রেও। এতদিন তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট, এস্কর্ট ও হাউস গার্ড প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে বিধায়ক ও সভাধিপতি হিসেবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তায় থাকবেন দু’জন সশস্ত্র রক্ষী।
প্রাক্তন মন্ত্রী ও বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর বাড়িতেও ছিল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও হাউস গার্ড। কিন্তু এখন বিধায়ক হিসেবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দেওয়া হয়েছে মাত্র দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। বিভিন্ন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। সেই আবহেই বীরভূমের এই তিন নেতার নিরাপত্তায় রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তৃণমূলের জমানায় বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ ও চন্দ্রনাথ সিনহার প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁদের বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা মোতায়েন থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর ব্যবস্থাও করেছিল জেলা পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এক ঝটকায় সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা তুলে নেওয়ায় জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শোরগোল। যদিও গোটা বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি এই তিন নেতা।
















