পর্তুগাল-১ কঙ্গো-১
(নেভেস) (উইসা)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেসির জাদু সকালে। রোনাল্ডো নিষ্প্রভ রাতে। বুধবারের বিশ্বকাপে দুই মহাতারকার দুই গল্প লেখা হল কানসাস সিটি ও হিউস্টনে। আর্জেন্তিনা উড়িয়ে দিল আলজেরিয়াকে। অন্যদিকে পর্তুগাল ও কঙ্গোর খেলা শেষ হল ১-১ গোলে।
বিশ্ব ফুটবলের আকাশে দুই সূর্য--মেসি ও রোনাল্ডো। দু'জনের আলোর ছটায় চোখে ঝিলমিল লেগে যায়। এক জন সাফল্য পেলে তুলনায় চলে আসেন আরেক জন। ফুটবলপ্রেমীদের বহু দিনের অভ্যাস এটাই। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তার ব্যতিক্রম হল না।
সকালে মেসির পায়ে যখন রূপকথা লেখা হল, তখন থেকেই অপেক্ষা শুরু হয়েছিল, রাতে মাঠে নেমে রোনাল্ডো কী করেন?
আর্জেন্টিনাকে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেন মেসি। তাঁর হ্যাটট্রিকে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ফুটবল বিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় চর্চা। চায়ের পেয়ালায় তুফান ওঠে। একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে, রোনাল্ডো কী করবেন?
৪১ বছরের কিশোর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন। একই সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলে লিওনেল মেসির গড়া রেকর্ডেও ভাগ বসালেন। এই ২০২৬-এ এসেও দুই মহাতারকা একে অপরের রেকর্ড ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছেন।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি মাঠের পারফরম্যান্সে রাঙাতে আর পারলেন কোথায় রোনাল্ডো! মেসির পারফরম্যান্সের পাশে তিনি নিস্তেজ। মেসির ছটায় ঢাকা পড়ে গেলেন রাতের রোনাল্ডো। কোথায় গেল রোনাল্ডোর সেই বিখ্যাত স্টেপ ওভার? কোথায় গেল উইং ধরে আগুনে গতিতে বল নিয়ে দৌড়? কোথায় সেই গোলের খিদে? রোনাল্ডো কিন্তু রাঙিয়ে দিতে পারলেন না প্রথম ম্যাচ। অবশ্য পারফর্মারদের কথা বলা যায় না। যে কোনও সময়ে তাঁরাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। পরের ম্যাচগুলোয় রোনাল্ডোই হয়তো লক্ষ ওয়াটের আলো জ্বেলে দিয়ে যাবেন।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ হয়েছিল পর্তুগালের। ষষ্ঠ মিনিটেই হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও নেভেস। পর্তুগালের জার্সিতে এটি ছিল পিএসজি মিডফিল্ডারের চতুর্থ গোল।
গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল পর্তুগালের হাতেই। রোনাল্ডো কয়েকবার বল পেয়েছেন, আক্রমণ গড়ার চেষ্টাও করেছেন। গোলের সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে। কিন্তু সেই চেনা ফিনিশিং দেখা যায়নি। বারবার চেষ্টা করেও জালে বল জড়াতে পারেননি। ম্যাচজুড়ে নিজেকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করলেও রোনাল্ডো-সুলভ ঝলক কোথায়? প্রশ্ন উঠতে পারে রোনাল্ডো আপনি কি স্কিল হারিয়েছেন?
অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোর লড়াই চোখে পড়ল। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আফ্রিকার দলটি প্রথমার্ধের অ্যাডেড টাইমে সমতা ফেরায়। ডান দিক থেকে আর্থার মাসুয়াকুর নিখুঁত ক্রসে হেড করে গোল করেন ইওয়ান উইসা। তাঁকে কেউ মার্কিংই করেননি। এটাই বিস্ময়ের। পর্তুগালের ডিফেন্সের রক্তাল্পতা চোখে পড়ল। গোলের পর ধারাভাষ্যকাররা বলতে থাকেন, ''উই হ্যাভ হিস্ট্রি ইন হিউস্টন!''
কঙ্গো সমতায় ফেরার পরই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগাল জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জোয়াও ক্যানসেলো একবার দুর্দান্ত গোলও করেছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারির পতাকা উঠে যায় সঙ্গে সঙ্গেই। অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয় সেই গোল। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কেউই আর গোল করতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয় ১-১-এ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল পর্তুগাল।
একই দিনে ফুটবল বিশ্ব দেখল দুই মহাতারকার দুই ভিন্ন ছবি। একদিকে মেসির পায়ে হ্যাটট্রিক। অন্যদিকে রোনাল্ডোর রাত রয়ে গেল গোলহীন। রেকর্ডের পাতায় নাম তুললেও স্কোরশিটে নিজের ছাপ রাখতে পারলেন না সিআর সেভেন। বিশ্বকাপের প্রথম দিনের শেষে তাই সব আলো কেড়ে নিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ব্যক্তিগত লড়াইতেও মেসি কিন্তু এগিয়ে গেলেন।















