ইস্টবেঙ্গল - ২ ( এজ্জেজারি, রশিদ)

ইন্টার কাশী - ১ (অ্যালফ্রেড)

সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ম্যাচের বয়স ৭৩ মিনিট। এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপিনের পাস থেকে রশিদের ডান পায়ের আলতো টাচ। কাশীর গোলকিপারকে পরাস্ত করে বল চলে যায় জালে। এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল হাজার হাজার লাল হলুদ সমর্থক। আট হাজারের স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল গর্জনে। অবশেষে গ্যালারির রং লাল। শুরু বাজির ছটা। লিগ না পাওয়ার হতাশা, হাহাকার অতীত। নতুন ইতিহাস রচনা। ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। এই রেজাল্ট ভবিতব্য ছিল। চলতি আইএসএলে যেভাবে খেলছিল অস্কার ব্রুজোর দল, এটা পোয়েটিক জাস্টিস। সুভাষ ভৌমিকের পর অস্কার ব্রুজো। ২২ বছর পর এক বিদেশি কোচের হাত ধরে সর্বভারতীয় ট্রফি ঢুকল ইস্টবেঙ্গলে। এদিন একই সঙ্গে চারটে ম্যাচ ছিল। পেন্ডুলামের মধ্য ভাগ্য দুলছিল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, পাঞ্জাব এফসি এবং মুম্বই সিটি এফসির। প্রথমার্ধের শেষে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে গোলশূন্য ছিল মোহনবাগান-দিল্লি ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরল ম্যাচের মোড়। ২৩ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল ইস্টবেঙ্গলের। তাতেই বাজিমাত। ফিরল ২২ বছর আগের স্পর্ধা।  

ম্যাচের প্রথমার্ধ ইন্টার কাশীর। দ্বিতীয়ার্ধ ইস্টবেঙ্গলের। প্রথম ৪৫ মিনিটে খেলা শেষ করে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল অভিজিৎ মণ্ডলের দল। কিন্তু তেকাঠির নীচে ঢাল হয়ে দাঁড়ান প্রভসুখন গিল। দলে এদিন একটি পরিবর্তন করেন অস্কার। অ্যান্টনের জায়গায় শুরু করেন রশিদ। বাকি ফর্মেশন এক।

ম্যাচের ৬ মিনিটে প্রথম সুযোগ। মিগুয়েলের ব্যাকভলি বাঁচান ইন্টার কাশীর গোলকিপার শুভম। একটি আক্রমণ ছাড়া প্রথম ৩০ মিনিট ব্যাকফুটে ছিল ইস্টবেঙ্গল। খেলা ধরতে পারছিল না লাল হলুদের মাঝমাঠ। প্রথমদিকে কিছুটা ফিকে দেখায় মিগুয়েল, রশিদকে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। মাঝমাঠের কিছুটা পেছন থেকে লং বল বাড়ায় ডেভিড মুনোজ। চলন্ত বলে দুরন্ত লব অ্যালফ্রেড মোয়ার। প্রভসুখন গিলের মাথার ওপর দিয়ে গোল। নিখুঁত প্লেসিং। ম্যাচের ২৩ মিনিটে নিশ্চিত সুযোগ মিস ইস্টবেঙ্গলের। বিপিনের ক্রস থেকে এজেজ্জারির শট পোস্টের ওপর দিয়ে ভেসে যায়। তার এক মিনিটের মধ্যে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল ইন্টার কাশীর সামনে। অ্যালফ্রেডের শট বাঁচান প্রভসুখন। জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল কাশীর। 

সুযোগ পেয়েও নষ্টের খেসারত দিতে হল। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ ইন্টার কাশীর। সার্জিও পারদোর শট বাঁচান গিল। বিরতির আগে ফের গোলের সুযোগ পায় কাশী। কিন্তু ফের ঢাল হয়ে দাঁড়ান গিল। বিরতির ঠিক আগে চোট পাওয়া রাকিপের বদলে ডেভিডকে নামান অস্কার। আক্রমণ বাড়িয়ে চলে যান তিন ডিফেন্সে। তাতেই আক্রমণ বাড়ে ইস্টবেঙ্গলের। বিরতির পর ঘুরল খেলার মোড়। ম্যাচের ৫০ মিনিটে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ারের থেকে বল পেয়ে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন এজেজ্জারি। এগিয়ে আসেন বিপক্ষের কিপার শুভম। তাঁকে কাটিয়ে নিখুঁত প্লেসিং এজেজ্জারির। এরপর বিষ্ণুর জায়গা নন্দকুমার। জয় গুপ্তর পরিবর্তে নামেন চুংনুঙ্গা। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর রোখার সুযোগ ছিল না ইস্টবেঙ্গলকে। ৭৩ মিনিটে জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে লোকে লোকারণ্য স্টেডিয়াম। গোটা গ্যালারি নেমে পড়ে মাঠে। সবুজ গালিচা ভরে যায় লাল হলুদে। কানায় কানায় লাল হলুদ। গ্যালারিতে জ্বলল মশাল। এজ্জেজারি, অস্কারকে কোলে, কাঁধে তুলে নাচ সমর্থকদের। অবশেষে খরা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস লাল হলুদের।