আজকাল ওয়েবডেস্ক:বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। জানা গিয়েছে, তোলাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসকে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের থেকে টাকা তুলতেন তিনি। একদিকে যখন মেসি কাণ্ড নিয়ে দাদা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে সেই পরিস্থিতিতেই এবার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল স্বরূপ বিশ্বাসকে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্বরূপ বিশ্বাসকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। প্রসঙ্গত, বুধবার টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ভেঙে দেন ফেডারেশন।
এমনকী, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর একচ্ছত্র আধিপত্য বন্ধ করার বার্তাও দেন। এক ছাতার তলায় টলিউডকে আনার কথা বলেন। ঠিক তার পরের দিনই বৃহস্পতিবার গণ্ডগোল ফেডারেশনের বৈঠকে নিয়ে। ছোঁড়া হয় ইট, ডিম।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হয় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশকে। ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক ছিলেন মহম্মদ হাসান এবং সহসম্পাদক ছিলেন বাবাই।
এই দু'জনকে তাঁদের পদ ছাড়তে বলা হয়। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে টলি পাড়ার সমস্ত টেকনিশিয়ানরা বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক ডাকেন। আর সেই বৈঠকে যোগ দিতে বিপুল ভিড় হয়।
এত সংখ্যক মানুষ নিয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে মিটিং করা সম্ভবপর না হলে, পাশের মাঠে বৈঠক শুরু করা হয়। কিন্তু সেখানেই দু'টো দল আড়াআড়ি ভাবে ভেঙে যায়, একদল যাঁরা হাসান এবং বাবাইয়ের সমর্থক।
আরও এক দল তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। হাসান এবং বাবাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠে 'চোর চোর' স্লোগান। উল্টো পক্ষ থেকে ছোঁড়া হয় ডিম এবং ইট। তাঁরা তাঁদের পদ ছাড়তে চাইছেন না বলেই জানিয়েছেন টেকনিশিয়ানরা।
এছাড়াও তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ও উৎস নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। টেকনিশিয়ানদের দাবি বাবাই এবং হাসান টলিউডে 'ব্যান কালচার' চালিয়ে যাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পাপিয়া অধিকারী বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে টালিগঞ্জকে নতুনভাবে সাজাবেন, টালিগঞ্জ সোনার সংসার হবে।
এবার সেই পদক্ষেপ শুরু করলেন পাপিয়া অধিকারী। বুধবার তিনি টেকনিশায়ান স্টুডিওতে এসে বলেন,"এখন থেকে টালিগঞ্জ এক ছাতার তলায় আসবে। টালিগঞ্জ এখনও ইন্ড্রাস্ট্রি হয়নি। আমরা ইন্ড্রাস্ট্রি করার জন্য, কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল-এর অধীনে সমস্তটা থাকবে। ২৬টা গিল্ড থাকবে না। তিন থেকে চারটি ভাগ থাকবে। এতদিন পরিচালকদের এতদিন চাকর-বাকর করে রাখা হয়েছিল, বলতে আমার অত্যন্ত খারাপ লাগছে। পরিচালক ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ, একজন অভিভাবক, তাঁকে পর্যন্ত তাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটা বিভাগে দু'জন কো-অর্ডিনেটর থাকবেন৷ যাঁরা বিষয় সম্পর্কে জানেন, পুরনো লোক৷ আমি সমস্ত অভিনেতা অভিনেত্রী কলাকুশলীদের আবেদন জানাচ্ছি সকলে আসুন, যাঁরা কাজ না পেয়ে অবসাদে আছেন, যাঁরা নানাভাবে শোষিত হয়েছেন, যাঁরা আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন সকলে আসবেন। পুরনো যাঁরা আছেন তারা দয়া করে আসুন, আপনাদের ছাড়া হবে না।"















