আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলের রাশ নিয়ে 'আসল তৃণমূল' বনাম 'কালীঘাটপন্থী তৃণমূল'। জোর টানাপোড়েন। তার মাঝেই নয়া মোড়। এবার লড়াই ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস ‘দখল’কে কেন্দ্র করে। ঋতব্রত ব্যানার্জিদের দাপাদাপির মাঝেই মেট্রোপোলিটনে পৌঁছে গিয়েছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমলের কুণাল ঘোষ। সঙ্গে আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী।

দিল্লি থেকে ফিরেই শুক্রবার সোজা ইএম বাইপাসের তৃণমূল ভবন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিমরা। বিকেল থেকেই সেখানে চলে ম্যারাথন বৈঠক। এর মাঝেই দেখা যায়, তৃণমূলের ওই অফিসের সামনে উপস্থিত হয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, "যাঁরা একানে এসেছেন তাঁরও তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে নির্বাচিত। ফলে তাঁরা এসেছেন। কিন্তু, কেউ কেউ এই পার্টি অফিসে কতদিন পর এলেন সেটা বলা যাবে না। কেন সন্ধে বেলা এলেন সেটাও ভাবার বিষয়। আমি কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করব না। শুধু বলতে চাই, পার্টির বহু কর্মী সমস্যায় রয়েছেন। তাঁরা যদি সেইসব কর্মীদের দিকে নদর দেন তাহলে উপকার হয়।"

এদিন মেট্রোপোলিটনে তৃণমূল অফিসের বাইরে নতুন করে দলের দু'টি পোস্টার ঝোলায় ঋতব্রত-শিবির। সেখানে গেটে ঢোকার মুখে বাঁদিকের পোস্টারে মমতা ব্যানার্জি ছবি দেখা যায়। উধাও অভিষেক ব্যানার্জির ছবি। তবে, ডানদিকের পোস্টারে চেয়ারপার্সন হিসেবে নাম রয়েছে অরূপ রায়ের। কেন মমতার ছবি? জবাবে ঋতব্রত বলেছেন, "মমতা ব্যানার্জি আমাদের পরামর্শদাতা। আর কিছু বলতে চাই না।"

ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে উর্দিধারীরা। 

পরে প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ জানান কুণাল ঘোষ। যাতে  মেট্রোপোলিটনের দলীয় দপ্তরে আচমকা কেউ এসে ঢুকতে না পারে তাই কড়া নিরাপত্তার আবেদন জানান হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। কুণাল ঘোষের কথায়, ঋতব্রতদের কাজকে ফলো আপ করার ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে ঋতব্রত শিবির সাফ দাবি করে এসেছে, ঘাসফুল শিবিরের আসল নিয়ন্ত্রক আসলে তাঁরাই। দল বা প্রতীক নিয়ে কোনও ধোঁয়াশাই নেই।

নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের ঋতব্রতের নেতৃত্বে ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল হাজির হয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন ৯ জন বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত দাবি করেছিলেন, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের পাশেই আছেন। ফলে প্রতীক বা দলের নাম হাতছাড়া হওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই।