বিউ সরকার
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে এসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রথমেই তিনি ইকো পার্কে যান। সেখানে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে ভবানীপুরে ৭৭ আশুতোষ মুখার্জি রোডে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাড়িতে যান। শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করে মিলন মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তিনি একটি বীজ পুতেছিলেন। আজ ওই বীজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “আজ আমার মত অনেকের আবেগপ্রবণ হওয়ার দিন। দেশের প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদ পদত্যাগ করেছিলেন। ওনার মৃত্যুর এত বছর পর আজ বাংলায় ওনার মূর্তি স্থাপনের শিলান্যাস হল। শ্যামাপ্রসাদের পার্টির সরকার এসেছে বাংলায়। এই ভূমি পুজোকে আমি অন্য ভাবে দেখছি এটা সোনার বাংলা গড়ার ভূমিপুজো।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলার পুনর্নির্মাণ এত বছর পর এই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে থেকে শুরু হল। শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন। এত বছর পর বাংলার বাঘের ছেলে শ্যামাপ্রসাদকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ঝিলে পাড়ে এত বড় মূর্তি হচ্ছে। আমি বলেছি ভারতের সুরক্ষার জন্য, রিসার্চ করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউশনও ওখানে করার কথা।”
শাহ বলেন, “তিনি একটি বীজ পুতেছিলেন। আজ ওই বীজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে। আজাদ ভারতের নীতি, ভারতের মাটি থেকে হোক এটাই উনি চেয়েছিলেন। এক দেশে দুই বিধান চলবে না। কাশ্মীরে ওনার মৃত্যু হয়। কিন্তু কংগ্রেস কোনও তদন্ত করেনি সেই সন্দেহজনক মৃত্যুর। আজ মোদিজি ওনার স্বপন সফল করেছে। ৩৭০ ধারা কাশ্মীর থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে থাকা হিন্দুদের চিন্তা সেদিন করেনি কংগ্রেস। তাই তিনি সেদিন মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। আজ আমাদের সরকার সব হিন্দুদের সিএএ চালু করে নাগরিকত্ব দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে। ভারতের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বার করব।”

বক্তব্যের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী আর বন্দেমাতরম-এর ১৫০ বছর একই বছর আসা, এটা বিধির লিখন। ভারতীয় রাষ্ট্রবাদের বীজ বপন করার কাজ করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম গানের রচনার মধ্যে দিয়ে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে বলেছিলাম আজ ছুটি দেওয়ার জন্য।”
বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অমিত শাহকে প্রণাম। ওনার নেতৃত্বে এ রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মঞ্চে আছেন মাখনলাল সরকার। তাঁকেও প্রণাম। মাখনলাল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করছেন। আছেন গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। রয়েছেন আমার প্রধান পরামর্শদাতা রাজ্যসভার সংসদ শমীক ভট্টাচার্য। আজকে এই পশ্চিমবঙ্গের যে ভারতে অন্তর্ভুক্তি হয়েছে, সেটা সম্ভব হয়েছে এই মহামানবের জন্য। এই কঠিন বাস্তবকে কংগ্রেসিরা যারা দেশ ভাগ করেছিল, কমিউনিস্টরা ও তৃণমূলীরা আসল সত্যকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের বিধানসভা, তখনকার আইন সভাতে ১৯৪৭ সালে ভোটে ৫১-২১ ভোটে আমরা এই দেশে অন্তর্ভুক্তি হয়েছি। যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। পাঠ্যবইতে উল্লেখ নেই। ২০ জুন যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যপাল ‘স্টেটহুড ডে’ পালন করত, তখন আগের সরকার মানেনি। ওরা পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করত। আমি ক্ষমতায় এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর অমিত শাহ ফোন করে বলেন, ২০ জুন বড় করে করতে। আমরা নির্দেশিকা দিই এবার থেকে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। আজ ১২৫ ফুট এর মূর্তি হওয়ার ভূমি পুজো হল জিরাটে মিউজিয়াম হবে । জমি নেওয়া হয় হয়েছে । এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান এই স্লোগান ছিল। ভারত সরকার ৩৭০এ বাতিল করেছে। প্রণাম জানাই। পুরো বছর শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে এই ধরনের অনুষ্ঠান হবে।”














