আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে এবং ইরানের মোকাবিলা করতে পাকিস্তানকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা ইজরায়েল-আরব শান্তি চুক্তিতে যোগ দিতেই হবে। ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা, যারা এই জোটে থাকবে না, ভবিষ্যতের কোনও শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের জায়গা হবে না।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, আমেরিকা অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছে। এবার পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডনের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলির উচিত ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। 

ট্রাম্পের আশা, এই জোটের হাত ধরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় অর্থনৈতিক জোয়ার আসবে। এমনকী ভবিষ্যতে ইরানও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইসলামাবাদ অবশ্য ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে কান দিতে রাজি নয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও চাপে পড়ে তারা নিজেদের দীর্ঘদিনের নীতি বদলাবে না।

যতক্ষণ না ১৯৬৭ সালের সীমান্ত মেনে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “যাদের একটা কথাও বিশ্বাস করা যায় না, তাদের সঙ্গে টেবিলে বসা অসম্ভব।” একই সুর শোনা গিয়েছে উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের গলাতেও। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ইজরায়েল নীতিতে কোনও বদল আসছে না।

২০২০ সালে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েলের সঙ্গে বেশ কিছু আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে চুক্তি হয়, তাকেই বলা হয় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’। এর আগে কেবল মিশর ও জর্ডনের সঙ্গেই ইজরায়েলের সম্পর্ক ছিল। 

এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো, প্যালেস্টাইন সমস্যার সমাধান না করেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিনের মতো দেশগুলি ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মেলায়। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল ও সামরিক সহযোগিতার রাস্তা খুলে যায়। মূলত ইরানের দাপট রুখতেই এই জোট তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান যদি কোনওদিন এই চুক্তিতে সই করেও ফেলে, তবে প্রথম ধাক্কাটা আসবে আমলাতান্ত্রিক স্তরে। কারণ, পাকিস্তানি পাসপোর্টের ভেতরে স্পষ্ট লেখা থাকে- “ইজরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য এই পাসপোর্ট বৈধ।”

ইজরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত মেলালে এই আইনি নিষেধাজ্ঞা আর টিকিয়ে রাখা যাবে না। কারণ, একদিকে একটা দেশকে বন্ধু বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, আর অন্যদিকে নাগরিকদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হবে- এই দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গেলে ভিসা, বিমান চলাচল ও দূতাবাস চালু করার জন্য পাসপোর্ট থেকে এই লাইনটি বাদ দিতেই হবে।

এর আগে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে গিয়ে তাদের ই-পাসপোর্ট থেকে ইজরায়েল সংক্রান্ত এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছিল। ফলে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া মানে শুধু বিদেশনীতি বদলানো নয়, দেশের পাসপোর্টের আইনও খোলনলচে বদলে ফেলা।