আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাদ্রাসাগুলিতে স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড রাজ্যের সব জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়েছে।


এর আগে রাজ্যের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু থাকলেও, তা আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পড়ুয়াদের প্রতিদিনের উপস্থিতি আধার-সংযুক্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে।


যে সমস্ত মাদ্রাসায় এখনও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক যন্ত্রপাতি বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নতুন উপস্থিতি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।


রাজ্য সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল মাদ্রাসাগুলিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভুয়ো উপস্থিতি, অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। নতুন আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু হলে সেই ধরনের অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।


শুধু উপস্থিতি চালু করাই নয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জেলা পর্যায়ের আধিকারিকদের এই ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে। কোথাও প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে উপস্থিতি ব্যবস্থায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় বায়োমেট্রিক উপস্থিতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।


গত এপ্রিল মাসের শেষদিকে বারাবাঁকি জেলার একটি মাদ্রাসার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, প্রকৃত বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের বদলে প্লাস্টিকের কার্ড ব্যবহার করে শিক্ষকদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।


এর আগে জৌনপুর জেলাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেখানে মাদ্রাসা পরিচালকের পরিবারের সদস্যদের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভুয়ো উপস্থিতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


এই ঘটনাগুলির পর বিশেষজ্ঞরা জানান, আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন না থাকা, পর্যাপ্ত পরিদর্শনের অভাব এবং অফলাইন উপস্থিতি রেকর্ডের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এই ধরনের প্রতারণা সম্ভব হচ্ছিল। সেই কারণেই এবার আধার-সংযুক্ত বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 


সরকারের আশা, নতুন ব্যবস্থার ফলে উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুল হবে, ভুয়ো হাজিরা দেওয়ার সুযোগ কমবে এবং মাদ্রাসাগুলির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আসবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিও নিশ্চিত করা সহজ হবে। এই পদক্ষেপকে উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি ও প্রশাসনিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।