আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে এক অভিনব ঘটনা৷ নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম হলো, যার নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)। নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী বলেছে তারা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই হাই প্রোফাইল সাংসদ যোগ দিয়েছেন তাতে৷ 

আক্ষরিক অর্থে রাজনৈতিক দল না হলেও, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তৈরি হয়েছে এই গোষ্ঠী। আত্মপ্রকাশের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই সংগঠনে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ- মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে। তিনি আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অতীতে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইতিমধ্যেই এই ভার্চুয়াল দলের সদস্যসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। গত সপ্তাহে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি মন্তব্য করেন, কর্মহীন বা বেকার যুবকেরা কোথাও সুবিধা করতে না পেরে সাংবাদিকতা, সমাজকর্মী কিংবা আইনের মতো পেশাকে আঁকড়ে ধরেন। অভিযোগ ওঠে, এই প্রসঙ্গে তিনি বেকারদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা প্রশ্ন তোলেন, শীর্ষ আদালতের সর্বোচ্চ আসনে বসে এমন মন্তব্য কীভাবে করা যায়? যদিও প্রধান বিচারপতি পরে সাফাই দিয়ে জানান, এটি তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণ মাত্র এবং এর ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। 

বিতর্ক থামেনি। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে শরীরে আরশোলার ছবি এঁটে বিক্ষোভ দেখান বহু মানুষ। আর এই আবহে রাতারাতি জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিনব দলের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি লেখেন, এমনিতেই তাঁকে ‘দেশদ্রোহী পার্টির সদস্যতা’ দেওয়া হয়েছে। পাল্টা জবাবে CJP তাঁকে ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে দলে স্বাগত জানায়। 

আরেকদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন ক্রিকেটার-সাংসদ কীর্তি আজাদ জানতে চান, এই দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা কী? CJP-র তরফে 'মজাদার' জবাব আসে, “১৯৮০ সালের বিশ্বকাপ জয় করার যোগ্যতাই যথেষ্ট।”

CJP-র ৫ দফার ইস্তাহার

নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস’ দল হিসেবে দাবি করে ইতিমধ্যেই ৫ দফার একটি ইস্তাহার প্রকাশ করেছে CJP। সেখানে বলা হয়েছে-

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা অবসরের পর রাজ্যসভার সাংসদ হতে পারবেন না।

সংসদের আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে।

দলবদল বিধায়ক ও সাংসদেরা অন্তত ২০ বছর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না।

সিবিএসসি-তে খাতা পুনর্মূল্যায়নের নামে যথেচ্ছ টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দলে যোগ দেওয়ার শর্ত কী?

ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য হতে গেলে প্রার্থীকে বেকার ও অলস হতে হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং পেশাদারদের মতো ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। যুবসমাজ তথা 'জেন-জি' প্রজন্মকে টানতে শীঘ্রই একটি বিশেষ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে তারা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ২১০০-র বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি জাতীয় এবং ৬০টি আঞ্চলিক দল। বাকি ২০৪৯টি দল নথিভুক্ত হলেও স্বীকৃতিহীন।

এই আবহে CJP কি নির্বাচন কমিশনে খাতাকলমে রাজনৈতিক দল হিসেবে নাম নথিভুক্ত করবে, নাকি এটি নিছকই একটি ডিজিটাল প্রতিবাদ বা সমাজমাধ্যমের হিড়িক হয়েই থেকে যাবে- তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত যুবসমাজের একাংশের মধ্যে এই 'আরশোলা বাহিনী' যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।