আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের কারাগারগুলিতে বন্দি প্রবীণ এবং মরণাপন্ন কয়েদিদের জন্য মানবিকতার খাতিরে নয়া নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের আগাম মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করা হবে। যা দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কার্যকর করতে হবে বলে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই নীতি প্রণয়নের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ নালসার-র একটি আবেদনের ভিত্তিতেই দেশের শীর্ষ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এ দিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বন্দিদের আগাম মুক্তির এই পুরো আবেদন প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হবে ডিজিটাল 'ই-প্রিজন' পোর্টালের মাধ্যমে। এই পোর্টালে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট এবং ডেডলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া, পোর্টালটি নিজে থেকেই কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট তৈরি করতে পারবে। যা রাজ্য সরকার এবং রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এসএলএসএ-এর মতো সংস্থাকে বিষয়টির ওপর নজর রাখতে সাহায্য করবে। তবে এ ক্ষেত্রে বন্দিদের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে বলেও শীর্ষ আদালত জানিয়েছে।
এই ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে থাকা ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি)-কে এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, সফটওয়্যার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মী প্রশিক্ষণের কাজে সাহায্য করতে হবে কেন্দ্রকে।
আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে যে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির দ্বারা তৈরি নয়া নীতিতে বন্দিদের যোগ্যতার মাপকাঠি এবং মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া পরিস্কার ভাবে জানাতে হবে। কোনও বিভ্রান্তি রাখা চলবে না। বন্দীদের কোন কোন শারীরিক অবস্থাকে 'মরণাপন্ন ব্যাধি' হিসেবে গণ্য করা হবে, তার একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে।
















