আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেট্রোল-ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং স্বল্প পারিশ্রমিকের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন গিগ কর্মীরা। অ্যাপ-ভিত্তিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত চালক ও ডেলিভারি পার্টনার গিগ কর্মীরা (যেমন- ওলা, উবার, সুইগি, জোম্যাটো) এই প্রতিবাদে শামিল। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট চলবে পাঁচ ঘন্টা ধরে। 

'গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিসেস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন' সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এর মাধ্যমে সারা ভারতের গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রতি লিটার জ্বালানির দাম প্রায় ৩ টাকা হাড়ানোর পরেই এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চালকদের দৈনিক আয়ের ওপর প্রভাব:

জ্বালানির এই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি ক্যাব চালক এবং ডেলিভারি কর্মীদের দৈনিক আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এই কর্মীরা তাদের দিনের অধিকাংশ সময় রাস্তায়ই কাটান। একটি অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ক্যাব চালক মহম্মদ বলেন, "যখনই জ্বালানির দাম বাড়ে, আমাদের খরচ সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। কিন্তু গ্রাহকদের ভাড়ার হার সেই অনুপাতে বাড়ে না। কমিশন এবং জ্বালানির খরচ মিটিয়ে ফেলার পর, দিনের শেষে আমাদের হাতে খুব সামান্য টাকাই অবশিষ্ট থাকে।"

আর্থিক সঙ্কট:

চালকদের অভিযোগ অ্যাপ কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত ভাড়া বাড়ায়নি। অনেক চালকই এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ তাদের উপার্জনের একটি বড় অংশে থাবা বসাবে। তাদের অভিযোগ, বর্ধিত খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাপ কোম্পানিগুলি ভাড়ার হার পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি করেনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

জ্বালানির দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেল সংস্থার আধিকারিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জ্বালানির দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে সরকারের অনুমোদন এবং কখন ও কতটুকু দাম বাড়ানো হবে- সে সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, তেল কোম্পানিগুলো এখনও তাদের উৎপাদন ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছে না। রেটিং সংস্থা 'ক্রিসিল'-এর হিসাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিক্রেতা সংস্থাগুলো বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ১০ টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেলে ১৩ টাকা করে লোকসান গুনছে।