সম্প্রতি তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে৷ রূপা গাঙ্গুলি বলেন, "ডিম ছোড়াটা আমার কাছে এখনও অবধি সুস্থ সমাজ বলে মনে হচ্ছে না। ওটা আমার একেবারেই ভাল লাগছে না।"
বিধায়ক আরও বলেন, "আমরা কালচারালি নিজেদেরকে এতটা নীচের দিকে নামিয়ে এনেছি, কারণ পশ্চিমবঙ্গের প্রচুর মানুষ রাজনীতি নির্ভর ছিলেন। তাদের অর্থ, তাদের জীবন, খাওয়া-পরা রাজনীতি নির্ভর ছিল বহু বছর ধরে। এবং সেই জন্য এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে রাজনীতি ছাড়া আমরা খাব কী? তোলাবাজি করা বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু একটা করে হল্লা করতে হবে, শান্তভাবে ব্যবহার করা, ভদ্রভাবে চলা, ঠিকভাবে গাড়ি পার্ক করা এগুলো তো যাঁরা করেন তাঁরা ন্যাকা, ভালভাবে কথা বললে তারা ন্যাকা। অভিনয় করছে, এই ধরনের মন্তব্য আজকের তারিখেও মানুষ করছে। তো মানুষকেই তো পালটাতে হয়। সমাজ তো আর বাইরের জগত থেকে কেউ এসে বা রাজনৈতিকভাবে কেউ সমাজ পালটাতে পারে না।"
'শুরু থেকে শুরু'তে অভিনয় করবেন রূপা গাঙ্গুলি। রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের শুরু থেকে তাঁকে সেভাবে পর্দায় আর দেখা যায়নি৷ আক্ষেপও করেছেন, রাজনীতির কারণে চ্বনা মানুষেরা কথা বলতেন না৷ মনখারাপ হত৷ তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে বিধায়কের দায়িত্ব সামলে কি অভিনয়ে ফিরছেন রূপা গাঙ্গুলি?
রূপা গাঙ্গুলি বলেন, এখন আর ইচ্ছে করে না৷ ১২ বছর ধরে আন্দোলন করেছি, অভিমান হত, আমার পশ্চিমবঙ্গ কেন কেন এরকম হয়ে যাচ্ছে, এই পশ্চিমবঙ্গের নামটা রক্ষা করার জন্য, রাজনাথজির কাছে পাতার পর পাতা নিয়ে গিয়ে জমা দিতাম। রাহুল সিনহাজি তখন আমাদের রাজ্য প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বাংলা বাংলা করার একটা চেষ্টা হয়েছিল। অমিত শাহজির কাছে কাগজ জমা দিতাম যাতে নাম বদলানো না হয়, এই থেকে আন্দোলনের শুরু, তারপর তো মানুষের প্রতি অত্যাচার, মহিলাদের প্রতি অত্যাচার, ১২টা বছর, এবং একটাই স্বপ্ন দেখেছি আমার পশ্চিমবঙ্গে একটা সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে।"
"রাজনীতি তো আমি করতেই এসেছি শুধু সমাজে মানুষের জন্য ভাল করবার জন্য। আমি তার আগে প্রচুর সোশ্যাল ওয়ার্ক করেছি। তখন এইসব সোশ্যাল মিডিয়া হয়নি। সোনারপুর দক্ষিণের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তারা এই পরিশ্রম করার জন্য আমাকে দায়িত্বটা দিয়েছে।"
রূপা গাঙ্গুলি বলেন, "আগেও আমি বলতাম যে ময়লা করবেন না, বাইরে ময়লা দুমদাম গাড়ি থেকে, বাস থেকে, চলছেন, হাঁটছেন, ফিরছেন, খাচ্ছেন, ফেলে দিচ্ছেন, এটা করবেন না। তখনও মানুষকে আমি একই সতর্কবার্তা জানাতাম, যেখানে সুযোগ পেতাম। আজও তাই বলছি। কারণ যারা ময়লাটা পরিষ্কার করছে, যারা ড্রেনটা পরিষ্কার করছে তারাও মানুষ। তারাও আপনার আমার মতো রক্তমাংসে গড়া মানুষ। তারা আপনার ফেলা ময়লা তারা ড্রেনটা থেকে তুলছে। যতই হাতে গ্লাভস থাক না কেন। তো সেটাও তো ভাবতে শিখতে হবে মানুষকে।"
রূপা গাঙ্গুলি আরও বলেন, "এক-দু মাসে ৫০ বছরের ঘাঁটা মানসিক এবং সাংস্কৃতিক এবং ব্যবহারিক যে দুরবস্থা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনযাপনের মধ্যে হয়েছে, সেটা কিছুতেই এক-দু মাসে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই সময়টুকু মানুষের কাছ থেকে আমরা আবেদন করছি, চাইছি।















