টলিউডের সোনালী দিনগুলোর কথা উঠলেই যে কয়েকটি সম্পর্কের সমীকরণ আড়ালে থেকেই ইতিহাস তৈরি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহ। গত জুন মাসেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এই গুণী পরিচালককে। তবে লড়াই জিতে তিনি বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর এই কঠিন সময়ের মাঝেই উদযাপিত হল তাঁর জন্মদিন। বিশেষ দিনে আদরের 'সুজিতদা'কে সারপ্রাইজ দিতে সোজা তাঁর বাড়িতে হাজির হলেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন আরেক খ্যাতনামা পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী!

বর্ষীয়ান পরিচালকের জন্মদিনে প্রসেনজিতের উপস্থিতি এমনিতেই আবেগঘন আবহ তৈরি করেছিল, তবে আসল চমক লুকিয়ে ছিল বার্থডে কেকটিতে। ‘অমর সঙ্গী’ ছবিতে প্রসেনজিতের সেই চিরস্মরণীয় লাল-সাদা পোশাক ও মাফলারের মতোই লাল-সাদা রঙের বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল জন্মদিনের কেকটি। পুরোনো স্মৃতি আর শ্রদ্ধার এই মেলবন্ধন দেখে দৃশ্যতই অভিভূত হয়ে পড়েন অসুস্থ পরিচালক। আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে প্রিয় 'বুম্বা'কে জড়িয়ে ধরে অস্ফুটে ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

কেক কাটার পর্ব শুরু হতেই ঘরে যেন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। শারীরিক অসুস্থতা ভুলে কেক কেটে প্রসেনজিতের মুখে পরম স্নেহে নিজ হাতে টুকরো পুরে দেন সুজিত গুহ। পিছিয়ে থাকেননি হরনাথ চক্রবর্তীও। তিনি কেক খেতে একটু ইতস্তত করতেই প্রসেনজিৎ ও সুজিত গুহ দুজনে মিলে মিষ্টি ধমক দিয়ে পরম আদরে তাঁকে কেক খাইয়ে দেন। তিন পুরোনো সহকর্মীর এই মুহূর্ত যেন নস্টালজিয়ার এক ফ্রেমে বাঁধানো ছবি তৈরি করে।

অসুস্থ পরিচালকের পাশে যে ‘বুম্বাদা’ অভিভাবকের মতোই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তা স্পষ্ট হলো তাঁর বিদায়বেলার কথায়। সুজিত গুহের ভাগ্নিকে স্পষ্ট জানিয়ে যান, সুজিতদার যে কোনও প্রয়োজনে যেন সরাসরি তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়। এই মানবিক দায়বদ্ধতা আর ভালোবাসা শুনে আবেগে আপ্লুত বর্ষীয়ান পরিচালক সস্নেহে চুম্বন এঁকে দেন প্রসেনজিতের হাতের কব্জিতে। পাল্টা উষ্ণ আলিঙ্গনে প্রিয় পরিচালককে ভরিয়ে দেন 'বুম্বাদা'।

 

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সুন্দর ও টুকরো টুকরো ভালোবাসার মুহূর্তগুলোর ভিডিও পোস্ট করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, "যার জন্য অমর সঙ্গী সেই সুজিত গুহর জন্মদিনে একটা মন ভাল করে দেওয়া আড্ডা হলো ওর বাড়ি গিয়ে... সাথে আরেক বন্ধু পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী... চিরদিনই অটুট থাকুক এই ভালবাসা।"

উল্লেখ্য, সুজিত গুহ ব্যক্তিগত জীবনে চিরকুমার। বিগত ৩৩ বছর ধরে তিনি তাঁর দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গেই থেকেছেন। যদিও তাঁরা আজ আর বেঁচে নেই, বর্তমানে বোনপো ও তাঁর স্ত্রীই সন্তানসম পরম মমতায় দেখাশোনা করছেন এই বর্ষীয়ান পরিচালকের। ইন্ডাস্ট্রি যখন সম্পর্কের জটিলতায় প্রায়শই খবরের শিরোনামে আসে, তখন প্রসেনজিৎ ও সুজিত গুহের এই অকৃত্রিম শ্রদ্ধার রসায়ন নেটপাড়ায় ছড়িয়ে দিল এক একমুঠো উষ্ণতা।