আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের জন্য বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশ বা সরকারি কর্মীদের উপরে হামলার ঘটনায়  দুটি বিল অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। তারপরে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে তা পেশ করা হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল। এই প্রসঙ্গে অভিমিত্রা পাল বলেন, যারা ভাঙচুর করবে তাদের কাছ থেকে সেই ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। এতদিন ধরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন সরকার সঠিকভাবেই নিজের কাজ করবে। 


প্রসঙ্গত, অশান্তির জেরে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশ বা সরকারি কর্মীদের উপরে হামলার ঘটনায় যে কড়া আইন আনতে চলেছে রাজ্য— সেটা আগেই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই সংক্রান্ত দু’টি বিল অনুমোদনের জন্য পেশ করবে। তারপরে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে তা পেশ করা হবে। এই দু’টি বিলের মধ্যে একটি ১৯৭২–এ তৈরি ‘পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’ সংশোধন করার প্রস্তাব সংক্রান্ত। অন্যটি নতুন বিল— এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল’।


দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, বিস্ফোরক ব্যবহার বা আইন–শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো নির্দিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় তৈরি ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট’–এর সংশোধনীতে এর পরিসর আরও বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশকেও বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন বিল ‘পাবলিক সেফটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি’র লক্ষ্য— শুধু আইন–শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, জন–নিরাপত্তা।

 বহু ঘটনায় পুলিশ–প্রশাসন আক্রান্ত হচ্ছে। থানায় ঢুকে সমাজবিরোধীরা আক্রমণ করেছে, প্রাণ ভয়ে লুকোতে বাধ্য হয়েছেন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা— এমন ঘটনাও ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সম্প্রতি ফলতায় এই ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে রাজ্য সরকার এমন কড়া আইন আনছে, যাতে আগামী দিনে এই কাণ্ড করার আগে যে কেউ পাঁচ বার ভাববে। তাঁর নির্দেশেই কড়া আইন আনছে রাজ্য সরকার।


উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা গুজরাটেও সমাজবিরোধী মোকাবিলায় এই ধরনের আইন রয়েছে। তবে ওই তিন রাজ্যে সমাজবিরোধীর সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন। উত্তরপ্রদেশে এই আইন মূলত গ্যাং–মাফিয়া, তোলাবাজি, জমি দখল, সংগঠিত অপরাধ চক্রের মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের রাষ্ট্রবিরোধী বা উগ্রপন্থী সংগঠনের কার্যকলাপের উপরে গুরুত্ব দিতে এই ধরনের আইন রয়েছে। গুজরাটের সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ককে মাথায় রেখে আইন তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট সরকারের এই সংক্রান্ত বিশেষ আইনে তদন্তকারী সংস্থাকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে।


কেউ সরকারি সম্পত্তি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, তা হলে অভিযুক্ত অপরাধীর সম্পত্তি বিক্রি করে সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব রাখা হচ্ছে এই নতুন বিলে। ইতিমধ্যেই এই বিল তৈরির প্রস্তুতি চলছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে। সূত্রের দাবি, এতে অপরাধের সংজ্ঞা বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপও আইনের আওতায় আসতে পারে।