গোপাল সাহা 

রাজ্য সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি, সেন্টার অব এক্সেলেন্স, কলকাতা-এর সাইকিয়াট্রিক এপিডেমিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ রিয়াল দাসকে তাঁর বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জেনারেল সার্ভিস ক্যাডারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে ডিরেক্টরেট অব হেলথ সার্ভিসেস, পশ্চিমবঙ্গের অধীনে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। 

সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে ডাঃ রিয়েল দাস আর পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। পরিবর্তে তিনি পশ্চিমবঙ্গ জেনারেল সার্ভিস ক্যাডারের একজন মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু পদাবনতি বা ক্যাডার পরিবর্তনই নয়, সরকারি নির্দেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকার সময় যে অতিরিক্ত বেতন ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, সেই অতিরিক্ত অর্থ সরকারি নিয়ম মেনে তাঁর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয়, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়কালে তাঁর ঘনিষ্ঠ ডাঃ এসপি দাসের কন্যা ডাঃ রিয়েল দাসকে সরকারি অধ্যাপকের পদে নিয়োগ করা হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগে। যদিও চিকিৎসক রিয়েল দাসের শিক্ষকতা করার মত যে ডিগ্রি অর্থাৎ এমডি (ডক্টর অফ মেডিসিন) ডিগ্রি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি কোথা থেকে এই ডিগ্রি অর্জন করেছেন তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেনি রিয়েল দাস তাঁর দপ্তরকে। আর তারপরেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে। তারপরেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী। আর এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কীভাবে এসএসকেএম হাসপাতালে এই পদ অতিরিক্ত ভাবে তৈরি করে এই বিভাগে তাকে নিয়োগ করা হল? যদিও এই নিয়ে আজকাল ডট ইন-এর তরফ থেকে ডাঃ এসপি দাস বা তাঁর কন্যা রিয়েল দাস কোনও উত্তর দিতে চাননি। 

এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণ সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও, ক্যাডার পরিবর্তনের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। 

রিয়েল দাসের নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি বলেন, “তাকে তাxর যোগ্য স্থানে অর্থাৎ রিয়েল স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক কথায় রিয়েল দাসকে তাঁর রিয়েল স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এতদিন তিনি যে দপ্তরে চাকরি করেছেন অর্থাৎ সহকারি অধ্যাপক হিসাবে, সেই ডিগ্রীও তাঁর নেই। কাজেই তাঁকে তার যে প্রাপ্য বেতন তা বাদ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা তাকে ফেরত দিতে হবে। তিনি অন্যায় ভাবে পদে ছিলেন, তাঁর বাবার ডিগ্রী দ্বারা অলংকৃত হয়েছেন।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মমতার অতীব ঘনিষ্ঠ ছিল এই এসপি দাস। কিন্তু কী কারণে এত ঘনিষ্ঠ, তা স্পষ্ট নয়। তিনি কোনও সরকারি জায়গায় চাকরি করেননি কোনও দিন, তারপরেও তাঁর এত প্রভাব কী করে? আর তাঁর মেয়ের বেআইনি নিয়োগ তখনই হয়েছে, যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার অগোচরে কিছুই নয়। সবটাই হয়েছে প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে। সবটাই তদন্ত হবে। যে অতিরিক্ত টাকা রিয়েল দাস নিয়েছেন সেটাও ফেরত দিতে হবে। আর যদি কোনও ভাবে দেখা যায় মমতা ব্যানার্জি সরাসরি বা ঘুরপথে কোনও ভাবে এর সঙ্গে যুক্ত আছেন, তবে তাঁকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে।”

এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা অধ্যাপক মানষ গুমটা বলেন, "ডক্টর এস পি দাস এর কন্যা রিয়েল দাস এসএসকেএম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগে (সাইক্রিয়াটিক এপিডেমিয়লজি বিভাগ) অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হয়ে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি কোথা থেকে এমডি করেছেন সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আদৌ এমডি করেছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। রাজ্য সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার চাকরি করা কালীন একাধিক প্রশ্ন ছিল বিগত তিন বছর ধরে। তবে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের আরো দাবি এর জন্য সঠিক তদন্ত হয়। কোনভাবেই জানো এটা ধামাচাপা না পড়ে যায়। যে কিভাবে সেই সময় পোস্ট ক্রিয়েট হল এবং কোন ক্ষমতা বলে তাকে পোস্ট দেওয়া হল, সবকিছু তদন্ত করে দেখতে হবে রাজ্য সরকারকে।"