আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি সরকারে আসার আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আরজি কর কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তকে এদিন সাসপেন্ড করে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অভয়ার পরিবারের বক্তব্য, ঘটনার সময়ই যদি এই পদক্ষেপ নেওয়া হত সেক্ষেত্রে লড়াইটা আরও সহজ হত, অপরাধীরা সামনে আসত।

অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ জানান, ‘সেই সময় এই পদক্ষেপ নিলে আরও একটা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা থাকতে পারত। রাজ্য প্রশাসনের কাছে এটা বড় সাফল্য হয়ে থাকতে পারত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিরই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তিনি সেটা না করে উল্টে ব্যাপারটাকে চাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন, অপরাধীদের আড়াল করেছেন। এখন সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল।’

অন্যদিকে, অভয়ার মা এবং বর্তমান পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের অভিযোগ, 'মৃতদেহের সামনেই ওর বাবার কাছে টাকা ধরাতে এসেছিল। সেটা যেন আমরা না বলি তার জন্য মানে আমাদের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। হুমকি দেওয়া হয়েছিল, এটা যদি বলা হয়, তাহলে মেয়ে আর বিচার পাবে না।'

তিনি বলেন, ‘একটা ভিডিও করিয়ে নেওয়া হয়েছিল জোর করে আমাদের কাছ থেকে। বলা হয়েছিল, মুখ খুললে মেয়ের বিচার হবে না। সবসময় এটা বলা হত আমাদের, সত্যিই আমরা কিছু বলতাম না ভয়ে।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে তো হারিয়েই ফেলেছি। আমি ঠিক করেছিলাম ন্যায়ের পথেই থাকব, যা হয় হবে। আর সেদিন যদি আমি না বলতাম, হয়তো কোনওদিনই মুখ খুলতে পারতাম না। অন্যান্য বাবা-মায়েদেরও আমি বলব যে, প্রতিবাদ করতে শিখুন, ওই টাকাটা ধরবেন না।’

উল্লেখ্য, এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের এই তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের কী ভূমিকা ছিল, আদৌ তাঁরা পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তার পরের কিছু বিষয় নিয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানতে সম্প্রতি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কাজ করা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। ওই সময়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটাকে বিপথে পরিচালিত করা, সঠিক ভাবে এফআইআরের পর তদন্ত না করা। যেটা পুলিশের করা উচিত ছিল। আমরা মূল তদন্তের দিকে যাচ্ছি না। কারণ, ওটা সিবিআই করছে, আদালতে মামলা বিচারাধীন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র আমাদের সরকারের যে লোকরা ছিল বিশেষ করে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন সিপি সহ যারা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করব। সবচেয়ে বড় অভিযোগ যেটা, আমাদের কাছে সংবাদমাধ্যম মারফত নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ এসেছে যে দু'জন পুলিশ অফিসার রাজ্য সরকারের তরফে টাকা দিতে চেয়েছিলেন অভয়ার পরিবারকে।'

শুভেন্দু আরও বলেন, 'আর সংবাদমাধ্যমের সামনে একজন ডিসির ব্যবহার এবং ভাষা এটা আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর ছিল না। ওনাকে আরজিকর ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার জন্য কেউ লিখিত অনুমতি দেয়নি। আমরা তিনজন আইপিএসকে সাসপেন্ড করছি। বিনীত গোয়েল(বর্তমান এডিজি আইবি), ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তা। এই তিনজনকে আমরা সাসপেন্ড করলাম।'