আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন হয়নি এখনও। মাত্র পাঁচ জন পূর্ণ মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। সেই তালিকায় নাম ছিল না রাসবিহারীর বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তর। কিন্তু বুধবার বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পরই স্বপন দাশগুপ্তকে জরুরি নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ কী সেই নির্দেশ? সূত্রের খবর, স্বপন দাশগুপ্তকে আপাতত শিক্ষা দফতর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, এ দিন বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে রাসবিহারীর বিধায়ককে এই দায়িত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি নিজে একদিন শিক্ষা দফতর এবং একদিন স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন৷ দফতরগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তা তিনি নিজে পর্যালোচনা করবেন৷ কিন্তু আপাতত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুরো বিষয়টির তত্ত্বাবধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বপনবাবুকে।
বাংলার রাজনীতিতে বরাবরই বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে যাঁদের নাম বারবার উঠে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম স্বপন দাশগুপ্ত। সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সংসদীয় রাজনীতি—এই তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকেছেন তিনি। ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হয়েছিল তাঁর।
কলকাতায় জন্ম স্বপন দাশগুপ্তর। দার্জিলিংয়ের সেন্ট পলস এবং কলকাতার লা মার্টিনিয়ের স্কুলে পড়াশোনার পরে তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে উচ্চশিক্ষা নেন। পরে লন্ডনের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) থেকে পিএইচডি করেন। কিছু সময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিল্ড কলেজেও গবেষণা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের আগে তিনি ছিলেন পরিচিত সাংবাদিক ও কলামিস্ট। তাঁর লেখায় বরাবরই ডানপন্থী রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব স্পষ্ট ছিল।
২০১৫ সালে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। এরপর ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। সংসদে বিজেপির নীতির পক্ষে একাধিকবার সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। বাংলার সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ঘটে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপির টিকিটে তারকেশ্বর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সেই সময় সাংবিধানিক নিয়ম নিয়ে তাঁর প্রার্থীপদ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন। যদিও সেই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন স্বপন দাশগুপ্ত।
তবে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে যাননি তিনি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হন এবং দেবাশিস কুমারকে হারিয়ে জয়ী হন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি বাংলায় নিজেদের “বুদ্ধিজীবী মুখ” হিসেবে স্বপন দাশগুপ্তকে সামনে রাখতে চায়। বিশেষ করে শহুরে মধ্যবিত্ত ও ইংরেজি শিক্ষিত ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বাংলায় বিজেপি জেতার পর থেকেই দলের অন্দরে স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জোরাল হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা দফতরে বৈঠক করতে যাওয়ার নির্দেশ সেই সম্ভাবনাকেই জোরাল করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
















