রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

GDP: জিডিপি বাড়লেও প্রশ্ন থাকছে

Rajat Bose | ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১ : ৩৫


সুশান্ত কুমার সান্যাল: ‌‌সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, ২০২৩) দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৬০ শতাংশ, যদিও আগের ত্রৈমাসিকে তা ছিল ৭.৮০ শতাংশ।
এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের দ্রুততম এবং অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দাবিদার নিঃসন্দেহে। এই মহাদেশের অর্থনীতি বৃদ্ধির হার, অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের থেকে অনেকটাই ভাল জায়গায়। কারণ, শেষ ত্রৈমাসিকে চীনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার মাত্র ৪.৯০ শতাংশ।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চমকপ্রদ জিভিএ বৃদ্ধি (গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড গ্রোথ) ঘটেছে দেশের উৎপাদন শিল্পে। এই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গড় বৃদ্ধি ১৩.৯০ শতাংশ, যা গত বছর এই মেয়াদে ছিল মাত্র ৩.৮০ শতাংশ। অর্থাৎ, উন্নতি বেশ চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মাইনিং–এর জিভিএ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিদ্যুৎ, জল, গ্যাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে জিভিএ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশের মতো, যা গত বছর এই মেয়াদে ছিল মাত্র ৬.২০ শতাংশ।
অপরদিকে রিয়েল এস্টেট, প্রফেশনাল সেবা বা ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের ক্ষেত্রে জিভিএ বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে এসে থমকে গেছে, যা গত বছর একই মেয়াদে প্রায় ৭.১০ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার কিছুটা হলেও কমেছে এই ক্ষেত্রে। কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হতে চলেছে কৃষিক্ষেত্র। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের তথ্য অনুযায়ী কৃষিক্ষেত্রে জিভিএ বৃদ্ধি এই ত্রৈমাসিকে হয়েছে মাত্র ১.২০ শতাংশ, যা গত বছর এই মেয়াদে ছিল ২.৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, কৃষির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে সরকারের তরফ থেকে নানা ঘোষণা করা হলেও প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত্র নিয়ে। দেশের এখনও ৬৫ শতাংশের বেশি মানুষ বাস করেন গ্রামাঞ্চলেই, আর তাঁদের অর্থনৈতিক উন্নতি পুরোমাত্রায় নির্ভর করছে কৃষিক্ষেত্রে দেশের প্রগতির ওপর। গ্রামাঞ্চলে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে সর্বতোভাবেই। কারণ, ইতিমধ্যেই আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বেশ ভাল রকমের আঘাত আনতে শুরু করেছে যা পরোক্ষভাবে বেকারত্বও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে বেকারত্ব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেকের মতে, শুধুমাত্র অঙ্কের হিসেবে এই জিডিপির বৃদ্ধি না–দেখে সমস্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে এখন। যেমন– উৎপাদনের ক্ষেত্রে, বিশেষত স্টিল ও সিমেন্টে, বৃদ্ধির হার সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে দেশে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার এসেছে ঠিকই, কিন্তু একইভাবে গ্রামাঞ্চলে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা দিন দিন কমে আসছে যা গ্রামীন অর্থনীতিকেও টেনে নামাচ্ছে। তাই সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেমন উৎপাদন ও পরিষেবা শিল্পে অগ্রগতির একান্ত প্রয়োজনীয়তা আছে, ঠিক তেমনভাবেই কৃষিক্ষেত্রের বিকাশ না ঘটলে ভারতের মতো দেশের সার্বিক উন্নয়ন অভিযান কিন্তু কোনওভাবেই কার্যকর হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র অঙ্কের হিসেবে না গিয়ে দেখা প্রয়োজন সঠিকভাবে কোথায় কোথায় উন্নয়ন প্রয়োজন ও তার জন্য সঠিক সরকারি পরিকল্পনায় জোর দিতে হবে। আবার অনেকের মতে, চীনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার এই মুহূর্তে আমাদের থেকে অনেকটাই কম ঠিকই, তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে চীনের অর্থনীতির আয়তন কিন্তু আমাদের অর্থনীতির থেকে বেশ কয়েকগুণ বড়।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া