বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: ধারাবাহিকের চরিত্ররা নাকি অভিনয় করতে পারে না: অহনা

শ্যামশ্রী সাহা | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৩ : ১৯


‘মিশকা’ আর তিনি মোটেই এক নন। তবু কোথাও যেন মিল! তিনিও প্রেমের কারণে বাড়ি থেকে দূরে। এদিকে মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর ‘গসিপ পার্টনার’! তা হলে অহনা দত্ত কেমন? খোঁজে শ্যামশ্রী সাহা

প্রশ্ন: অ্যাক্সিডেন্টের পর মিশকা সেন কেমন আছেন?
অহনা: ভালই আছি। আবার দুষ্টুমি করছি। (হাসি)

প্রশ্ন: মিশকা অহনার থেকে বেশি পরিচিত, কেমন লাগে?
অহনা: (হাসি) এটাই তো চেয়েছিলাম। আমি জনপ্রিয়তা পছন্দ করি। জনপ্রিয় হতে চেয়েছিলাম। সিরিয়াল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়। সিনেমা হল নেই, কিন্তু বাড়িতে টিভি আছে। সিরিয়ালের চরিত্ররাও তাই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’য় আমার চরিত্র হিট। মিশকার দুষ্টুমি দর্শক পছন্দ করছে। তবে মিশকা সেন নয়, অহনা দত্ত হিসাবে দর্শক আমাকে মনে রাখুক সেটাই চাই। আশা, ছবি রিলিজের পর এই স্বপ্নটাও সত্যি হবে।

প্রশ্ন: এত দুষ্টুমি করতে ভাল লাগে?
অহনা: খুব এনজয় করি। বিশেষ করে স্ক্রিপ্টটা। আমার চরিত্রটা একঘেয়ে নয়। প্রত্যেকটা সিনই আমার কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। খুব কম সময়ে মিশকা জনপ্রিয় হয়েছে। আমি লাকি।

প্রশ্ন: মিশকা এরকম কেন করে?
অহনা: মিশকা যা করে ওর ভালবাসার জায়গা থেকে করে। ওর ভালবাসার পাগলামিটাই প্রকাশ পায়। মিশকা শুধু সূর্যকেই ভালবাসে। ওর জন্যই পাগল।

প্রশ্ন: সামনাসামনি মিশকাকে দেখে দর্শকের মন্তব্য? 
অহনা: শোতে গিয়ে ওরে বাবা, কত রকম প্রশ্ন! কেন তুমি এটা করলে, কেন তুমি কিডন্যাপ করলে, কেন ঝগড়া বাঁধালে...। প্রশ্নগুলো কোথাও যেন মিশকার সফল হওয়ার কথা বলে। আমার করা প্রত্যেকটা সিনই দর্শকের কাছে আইকনিক।

প্রশ্ন: বাস্তবে আপনার মতো নেগেটিভ ক্যারেক্টার দেখেছেন?
অহনা: প্রেমে পড়লে পাগলামি অনেকেই করে। তবে আমার মতো অবসেসড দেখিনি।

প্রশ্ন: আপনার লাভ লাইফে ‘মিশকা সেন’-এর মতো কেউ আছে?
অহনা: (হাসি) আমার লাভ লাইফে মিশকা সেন? না বাবা, আমি চাইও না কোনও মিশকা থাকুক। আমি দীপার মতো শান্ত নই। আমার কোনও জিনিস শেয়ার করি না। সেখানে প্রিয়জনকে শেয়ার করব? ‘মিশকা সেন’-এর মতো কেউ এলে তাকে খুন করে দেব।

প্রশ্ন: অভিনয় জীবনের শুরুতেই নেগেটিভ ক্যারেক্টার কেন?

অহনা: অভিনয় করতে হলে নায়িকা হতে হবে, এভাবে ভাবি না। আমার অভিনয় দর্শক পছন্দ করছে বলেই মিশকা সফল। আমারও মনে হয়েছে, অভিনয় করতে পেরেছি। একটা কথা খুব শোনা যায়, ধারাবাহিকের চরিত্ররা নাকি অভিনয় করতে পারে না। এই মিথটা ভাঙতে পেরেছি। ইন্ডাস্ট্রিতে বড়পর্দার অনেকেই আছেন যাঁদের ডেবিউ হয়েছে সিরিয়ালে। 

প্রশ্ন: একটা সিরিয়াল করেই বড়পর্দার অফার…
অহনা: আমি সত্যিই লাকি। ছবিতে আমার চরিত্রটাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নেগেটিভ না পজিটিভ আলাদা করে বলা যাবে না। ‘মিশকা সেন’-এর থেকে আলাদা। তবে পুরোটা নয়। কিছু মিল আছে। অভিনয় করার জায়গা আছে। এখনও শুটিং বাকি। চেষ্টা করছি আরও ভাল কাজ করার। আমার একটাই ভয়-টাইপকাস্ট হতে চাই না। নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন: তিন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করলেন, মিঠুন, রাজ, ঋত্বিক… 
অহনা: দারুণ অভিজ্ঞতা। সিরিয়াল আর সিনেমা দুটোই এসভিএফ প্রয়োজনা সংস্থার। রাজদার মনে হয়েছে, আমি চরিত্রটা করতে পারব। এটা আমার কাছে বিরাট পাওয়া। রাজদার পরিচালনায় কাজ করে আলাদা করে অভিনয় নিয়ে ভাবতে হয়নি। 

প্রশ্ন: অডিশন দিয়েছিলেন?
অহনা: এর আগে রাজদা একটা কাজের জন্য আমাকে ডেকেছিলেন। তখন অডিশন দিয়েছিলাম। কাজটা করতে পারিনি কনট্র্যাক্টে ছিলাম বলে।

প্রশ্ন: সিরিয়াল থেকে জাম্পকাট বড়পর্দা, তারকা অভিনেতা-পরিচালকের সঙ্গে কাজ, চারপাশটা বদলেছে?
অহনা: আমি খুব সিলেক্টিভ। সবার সঙ্গে কথা বলি না বা মিশতে চাই না। খুব কম কথা বলি। পজিটিভ ভাবি। কে হিংসা করছে, কে কী বলছে— এটা নিয়ে ভাবিই না। হিংসা করে কাউকে ভাল কাজ করা থেকে আটকানো যায় না। আমার মনে হয়, অভিনয় যাঁরা ভালবাসেন তাঁরা সহকর্মীর সাফল্যে খুশিই হন।  




প্রশ্ন: মিঠুনদা টিপস দিলেন?
অহনা: উনি খুব সুইট। প্রথম দিন পরিচয়ের সময় উনি বলেছিলেন, ‘‘নমস্কার, আমি মিঠুন চক্রবর্তী’’(হাসি)। এখন তো আমরা গসিপ পার্টনার। ফ্লোরে সুযোগ পেলেই আড্ডা দিই। মিঠুনদা, ঋত্বিকদা এত সুন্দরভাবে আমাকে ওয়েলকাম করেছেন আমার সব টেনশন উড়ে গিয়েছে। এই জন্যই তো ওঁরা সুপারস্টার।

প্রশ্ন: গসিপের বিষয়?
অহনা: সব কিছু নিয়ে কথা বলি। ফ্লোরে কী হচ্ছে, বাইরে কী হচ্ছে, এমনকী আমি রাতে কী খাই, সেই নিয়েও কথা হয়। মিঠুনদা বিরিয়ানি খেতে খুব ভালবাসেন। অসুস্থতার পর বিরিয়ানি খেতে পারছেন না। তবে ঠিক হয়েছে, একদিন ব্যারাকপুর থেকে বিরিয়ানি আনা হবে। মিঠুনদার নির্দেশ ডালডা ছাড়া বিরিয়ানি আনতে হবে।

প্রশ্ন: অভিনেতা হবেন ভেবেছিলেন?
অহনা: নাচ নিয়েই ভেবেছি বেশি। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এ পারফর্ম করার পর অভিনয়ের সুযোগ আসে। অডিশন দিয়ে ‘মিশকা’ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাই। কোনও ব্যাকডোর ছিল না। 

প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে ব্যাকডোর লাগে?
অহনা: শুধু এই ইন্ডাস্ট্রি নয়, সব জায়গায় কাজ পেতে ব্যাকডোর দরকার। যাঁদের এই সাপোর্ট থাকে তাঁরা লাকি। আমার নেই। থাকলে হয়তো আরও কাজ পেতাম। আমি যখন কাজ শুরু করি অনেকেই বলেছেন, ‘‘তুই একদিন আরও ভাল কাজ করবি।’’ আমার লিভ ইন পার্টনার (দীপঙ্কর)ও আমাকে উৎসাহ দেয় ভাল কাজ করার। আমিও এই বিশ্বাস নিয়ে বাঁচি।

প্রশ্ন: দীপঙ্কর খুব সার্পোটিভ?
অহনা: মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। আমি প্যানিক করি, ওভারথিংক করি। ও খুব সুন্দর করে বোঝায়।

প্রশ্ন: তার মানে আপনি রাগী?
অহনা: হুটহাট রেগে যাই। কেন বলতে পারব না। কখনও তো অকারণে ঝগড়া করতে ইচ্ছে করে। ঝগড়া করার পর বেশ ভাল লাগে।

প্রশ্ন: ধারাবাহিকের সেটে বেশি ভাব কার সঙ্গে?
অহনা: যার সঙ্গে বেশি ভাব বাস্তবে তার সঙ্গেই তো আছি। 

প্রশ্ন: সম্পর্ক নিয়ে আপনি বেশ খোলামেলা?
অহনা: আমি খোলা মনের। কিছুই লুকোতে চাই না। দীপঙ্করের সঙ্গে থাকব, এই বিষয়ে যখন নিশ্চিত তখন লুকোব কেন? এমন একজন কেউ জীবনে থাকা খুব দরকার, যাকে সব কথা বলতে পারব। যাঁরা লুকোন হয়তো ভাবেন তাঁদের কাস্ট করা হবে না। কেউ হয়তো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না বলে লুকোন।

প্রশ্ন: সম্পর্কের জন্যই তো পরিবার থেকে আলাদা?
অহনা: হ্যাঁ। আমরা সবাই পরিস্থিতির শিকার। সেই জন্যই পরিবার থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। ফ্যামিলিকে খুব মিস করি। আশা, আগামিদিনে সব ঠিক হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: বিয়ে কবে করছেন?
অহনা: ভালবেসেছি যখন বিয়ে তো করবই। ধুমধাম করে বিয়ে করব। পার্টি, গেট টুগেদার সব হবে। 

প্রশ্ন: ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় কাজ করার পর অনেকেই আর ছোটপর্দায় ফিরতে চান না। আপনি কী করবেন?
অহনা: ভাল সুযোগ এলে আর মন চাইলে সব পর্দাতেই কাজ করব।

     
   
 



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া