আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হতাশাজক পারফরম্যান্স। বিশ্বজুড়ে সিআর সেভেন-কে নিয়ে চলছে সমালোচনা আর সমালোচনা। তুলনায় উঠে আসছেন লিও মেসি। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন ম্যাজিশিয়ান। রোনাল্ডোকে বিবর্ণ লাগায় অনেকেই মনে করছেন, পরের ম্যাচে তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা উচিত। 

রোনাল্ডোকে নিয়ে এই সমালোচনার আবহে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি-র কয়েক বছর আগের একটি মন্তব্য। কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে তীব্র সমালোচনা কেমন লাগে, তা কোহলিও ভালভাবেই জানেন। কেরিয়ারের শেষলগ্নে এসে প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। রোনাল্ডো ব্যতিক্রম নন।  বিরাট কোহলিও ভাল করেই জানেন তা। ভারতের তারকা ক্রিকেটার আগে রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই পুরনো ঘটনাই নতুন করে ফিরে আসছে। 

২০২৩ সালে রিয়াধ অল স্টারসের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো খেলেছিলেন প্যারিস সাঁ জাঁ-এর বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন মেসি-নেইমার ও এমবাপে। রোনাল্ডো জোড়া গোল করে নিজের দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সেই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোহলি লিখেছিলেন, ''৩৮ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করছে। যারা প্রতি সপ্তাহে ওকে নিয়ে সমালোচনা করে, তারা এখন নিশ্চুপ। অথচ কয়েক দিন আগেও বলা হচ্ছিল, ওর সময় শেষ।''

যদিও রোনাল্ডো আর সেই দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকার নন, তবুও তাঁর গোল করার ক্ষমতা যে এখনও ফুরিয়ে যায়নি, তা পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে। ২০২৫-২৬ মরশুমে আল নাসের-এর হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮ গোল করেন তিনি।

অনেকেরই মত, রোনাল্ডোর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁর সতীর্থদের কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছেন না রোনাল্ডো। অনেকের মতে, রোনাল্ডোকে সম্মান দেন না তাঁর সতীর্থরা। সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়ে আসল সমস্যা। পর্তুগালের অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপের দ্রুতগতির ও কঠিন প্রতিযোগিতামূলক লিগে নিয়মিত খেলেন, যেখানে রোনাল্ডো বর্তমানে সৌদি আরবে খেলছেন। 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পরও কোহলি রোনাল্ডোর প্রতি নিজের সম্মান প্রকাশ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ''কোনও ট্রফি বা শিরোপা তোমার অর্জনকে মুছে দিতে পারে না। তুমি খেলাধুলার জগতে যে প্রভাব রেখেছ, তা কোনও পরিসংখ্যানে মাপা সম্ভব নয়। তুমি অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা।''

তারও আগে, ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছিলেন, ''আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো সবার উপরে। তাঁর পরিশ্রম, জয়ের খিদে অতুলনীয়। রোনাল্ডো আমাকে অনুপ্রাণিত করে।''

এবারের বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন রোনাল্ডো। তবে তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার দেখিয়েছে, প্রতিটি সমালোচনা ও ব্যর্থতাকে তিনি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেন।

তাই পর্তুগালের বাকি গ্রুপ ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ এখনও বিশ্বাস করেন, সমালোচকদের জবাব মাঠেই দিতে পারেন রোনাল্ডো। আর সেই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে কোহলির সেই পুরনো মন্তব্য, গ্রেটদের কখনও এত সহজে শেষ বলে ধরে নেওয়া যায় না।