বাঙালি পাঠকের কাছে শার্লক হোমসের পরিচয় নতুন করে দেওয়ার দরকার পড়ে না। শতাব্দী অতিক্রান্ত তার সঙ্গে আমাদের আলাপের। কিন্তু কারও যদি জানার ইচ্ছা হয়, ঠিক কবে আর কী চেহারায় হোমস বাংলার মাটিতে পা রেখেছিলেন, তবেই মুশকিল!‌ আসলে বাংলা গোয়েন্দা কাহিনীরও যে একটা ইতিহাস থাকতে পারে আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে পরতে পরতে জড়িয়ে থাকতে পারে ঔপনিবেশিক সমাজের নানা ঘাত–‌প্রতিঘাতের বৃত্তান্ত, সেই কথাটাই এতদিন আমাদের ভাবনার বাইরে থেকে গিয়েছে। শার্লক হোমসের গল্পের অনুবাদ যেমন বাংলায় আমদানি করেছিল শখের গোয়েন্দাকে, তেমন আবার মোড়বদল ঘটিয়েছিল বাংলা অপরাধ সাহিত্যেরও। সেকালের প্রকাশকেরা কেন শার্লক হোমস তথা বাংলা গোয়েন্দা কাহিনী ছাপতে এতটা আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তা জানাও গবেষণা। মুনাফার আশায় তবে কি প্রকাশকেরা গোয়েন্দা কাহিনী নিয়ে শুরু করলেন সিরিজ, আর লেখকেরাই বা কেন সায় দিলেন কিস্তিতে লেখার প্রস্তাবে, নানা টুকরো টুকরো ছড়িয়ে থাকা সূত্র থেকে তার ইঙ্গিত মেলে। গোয়েন্দা কাহিনী নামক অন্ত্যন্ত জনপ্রিয় এই পণ্যটিকে ঘিরে যেমন লেখকে লেখকে দেখা গিয়েছে রেষারেষি, আবার এক শ্রেণীর শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সমালোচনাতেও বারে বারে বিদ্ধ হয়েছে সাহিত্যের এই ধারাটি। বাংলা গোয়েন্দা কাহিনী পড়ার পাশাপাশি সেই ইতিহাসও মনে হয় সমান আকর্ষণীয়। ‘‌হোমস এলো বাংলায়’‌ শিরোনামে ১১ নভেম্বর, রবিবার সন্ধে ছটায়, অরিন্দম দাশগুপ্ত এই বিষয়ে আলোচনা করবেন উত্তরপাড়া জীবনস্মৃতি সভাঘরে।

জনপ্রিয়

Back To Top