বিভাস ভট্টাচার্য: পাতলাখাওয়া জঙ্গল থেকে আর গন্ডার তাড়ানো হবে না। বরং কোচবিহারের এই জঙ্গলটিতে কোনও গন্ডার পথ ভুলে চলে এলেও নিরুপদ্রবে থাকতে পারবে। উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য বন দপ্তর। সেইসঙ্গে এই জঙ্গলটিতে গন্ডার ছাড়া হবে। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো সেজে উঠবে পাতলাখাওয়া। 
এ ব্যাপারে রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানিয়েছেন, ‘‌কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি আবশ্যিক ছিল। তাই গন্ডার ছাড়তে পারছিলাম না। এখানে গন্ডার চলে এলে জঙ্গল থেকে তাড়িয়ে পাশের জলদাপাড়ার জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হত। কিন্তু কেন্দ্রের এই অনুমতি পাওয়ার পর আর গন্ডার ছাড়তে কোনও বাধা রইল না।’‌  
বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‌রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চান পর্যটন শিল্পের প্রসার। কারণ, তার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। তঁারই স্বপ্ন সফল করতে বন দপ্তরের তরফে কোচবিহারের এই জঙ্গলটিকে একটি পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’‌ 
কনজার্ভেটর অব ফরেস্ট (‌বন্যপ্রাণ)‌ শুভঙ্কর সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, আপাতত পাতলাখাওয়ার জঙ্গলটিতে হরিণ, শুয়োর এবং লেপার্ড আছে। এই জঙ্গলটির গা লাগোয়া জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। যেখানকার একশৃঙ্গ গন্ডার গোটা পৃথিবীতে পরিচিত। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এই গন্ডার দেখতে ছোটেন জলদাপাড়ার জঙ্গলে। কিন্তু মাঝে মাঝেই জঙ্গলে গন্ডাররা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আহত হয়ে পড়ে। বনকর্মীদের ছুটতে হয় এই আহত গন্ডারদের চিকিৎসা করাতে। ঠিক হয়েছে, মূলত জলদাপাড়ার গন্ডারই ছাড়া হবে এই পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে। 
বনমন্ত্রী বলেন, ‘‌জলদাপাড়ার জঙ্গলে এই মুহূর্তে প্রচুর গন্ডার আছে। মাঝে মাঝেই এই গন্ডাররা 
নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আহত হচ্ছে। পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে 
যেহেতু গন্ডারের আবাসস্থল তৈরি করা হবে, সে কারণে এই মারামারির 
সমস্যা মিটবে।’‌ 
আগামী পঁাচ বছরের এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের তরফে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে বারো কোটি টাকা। গন্ডার নিয়ে আসার আগে জঙ্গলের মধ্যে গন্ডারের খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস তৈরি করা এবং গন্ডারের প্রতি নজর রাখার জন্য ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হবে। সেইসঙ্গে তৈরি করা হবে অফিস এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে সমস্ত কর্মী থাকবেন সে সমস্ত কর্মীর আবাসস্থল। সমস্ত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেই জঙ্গলটিকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ‌

জলদাপাড়ায় গন্ডার।

জনপ্রিয়

Back To Top