যজ্ঞেশ্বর জানা, কাঁথি: ইতিহাসের রোমাঞ্চ আছে, চোখ–জুড়োনো প্রকৃতি আছে। সংস্কারে নতুন রূপ পেয়েছে ৫০০ বছরের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির আর দেউলের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। সব মিলিয়ে পর্যটনের নয়া দিশা এখন কাঁথি–৩ ব্লকের বাহিরি। ইতিহাস আর ভূগোলের রসায়নে নতুনভাবে সেজে ওঠা বাহিরির হাতছানিতে সাড়া দিতেই পারেন আপনিও। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের অভাবে কাঁথি–৩ ব্লকের প্রাচীন জনপদ বাহিরির পাঁচশো বছরের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির ও দেউলের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি নষ্ট হচ্ছিল। পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি সংরক্ষণ ও মন্দির সংস্কারের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। রাজ্যের প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহালয় অধিকার দপ্তরের সুপারিশে ৫৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গত জুনে সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেছিল পূর্ত দপ্তর। সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে বাকি কাজ। আর কাজ সম্পূর্ণ হলেই ছাড়পত্র মিলবে অবাধ প্রবেশের। মন্দির সংস্কার এবং সংরক্ষণের পাশাপাশি সেজে উঠেছে গোটা মন্দির চত্বর। স্থানীয় ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্দিরের ধারে শ্মশানে বিনোদন পার্ক তৈরির। পানীয় জল এবং শৌচালয় তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটন ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী প্রশাসন। আর এতেই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও দিশা দেখতে পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঐতিহাসিক জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। প্রাচীন এই নিদর্শনগুলিকে ঘিরে ইতিপূর্বে সার্কিট ট্যুরিজম গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল জেলা প্রশাসন এবং পর্যটন দপ্তর। সেই সার্কিট ট্যুরিজমের অন্যতম অঙ্গ বাহিরির এই প্রাচীন জনপদ। নন্দকুমার–দীঘা ১১৬বি জাতীয় সড়কে কাঁথির আগে মারিশদা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরেই অবস্থিত বাহিরী গ্রাম। যেখানে লুকিয়ে 
আছে কুষাণ, গুপ্ত ও পাল বংশের রাজত্বকালের বহু অজানা কাহিনী। সেই সময়ই বাহিরি শিল্পসৃষ্টিতে সমৃদ্ধ হয়েছিল বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা। এখান থেকে পাওয়া একটি পাথরের মূর্তিও রক্ষিত আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণাগারে। জগন্নাথ মন্দিরের দুটো ভাগ রয়েছে। একটি মূল দেউল আর অন্যটি জগমোহন নামে পরিচিত। দেউলটি ৫০ ফুট লম্বা আর ২৪ ফুট চওড়া। জগমোহনের উচ্চতা ৪০ ফুট। মন্দিরের অদূরেই রয়েছে প্রাচীন ঝাঁকড়া তেতুঁলগাছ। যা পরিচিত জাহাজবাঁধা তেঁতুলগাছ নামে। পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌ট্রেজারি)‌ প্রশান্ত অধিকারী বলেন, বাহিরির প্রাচীন জনপদ–সহ বাকি প্রাচীন জায়গাগুলিকে ঘিরে প্রশাসনের পর্যটন ভাবনা আছে।

নবরূপে বাহিরি দেউল। 

জনপ্রিয়

Back To Top