অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে পর্যটনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোনের কাছাকাছি আলিপুরদুয়ার জেলা। অন্তত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ বলছে, আলিপুরদুয়ারে দীর্ঘ দুই দশকের দাবি পূরণ হতে চলেছে। যার মধ্যে অন্যতম ‘এক জানলা’ ব্যবস্থায় কেবলমাত্র পর্যটকদের স্বার্থে জেলা সদরে নির্দিষ্ট ‘ট্যুরিজম ইনফরমেশন সেন্টার’ তৈরির জন্য জমি দেখার কাজ শুরু হল। পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কনসালটেটিভ কমিটি গড়তে প্রস্তাব গেল রাজ্য সরকারের কাছে। এ–‌ও জানা গেছে, রাজ্য সরকার ‘কেরল’–‌এর মতোই নির্দিষ্ট ‘হোম স্টে’ নীতি আনতে চলেছে— যার ফলস্বরূপ জেলার ভেতর থাকা প্রায় ২০০ হোম স্টে–র জন্য নির্দিষ্ট নীতি আসতে চলেছে। যাতে জেলার পর্যটন ব্যবস্থায় যেমন স্বচ্ছতা আনতে চলেছে, তেমনই জেলা পর্যটনের স্বার্থ ও পর্যটনের সম্মান দুই বৃদ্ধি পেতে চলেছে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে থাকাকালীন জেলার মানচিত্রে প্রথম ১২টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত নতুন ‘হোম স্টে’ উদ্বোধন হতে চলেছে। ‘ব্লু হোম স্টে পরিকল্পনায়’ প্রথম দফায় চিলাপাতা, টোটোপাড়া, শালকুমার হাট, হাতিপোতার নির্দিষ্ট ১২টি আদিবাসী পরিবার হোম স্টে–‌গুলি পরিচালনা করবে। দ্বিতীয় দফায় ফের তেমনই আরও ১৩ ব্লু হোম স্টে তৈরি হবে চিলাপাতা, ২৮ ও ২৯ বস্তি ও মাদারিহাটে। জেলা পর্যটনের নোডাল অফিসার তথা ডিস্ট্রিক্ট ওয়েলফেয়ার অফিসার অভিরূপ বসু এদিন ব্লু হোম স্টে ঠিক কেমন, কীভাবে কাজ করবে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনার কথাও জানান। উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ারে পর্যটন নিয়ে বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল হোম স্টে–‌গুলির ভাড়া নিয়ে। অভিযোগ ছিল, একেক হোম, স্টে থাকা–খাওয়া নিয়ে একেকরকম অর্থ দাবি করছে। কোনও নির্দিষ্ট রেট ছিল না। এদিন পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে নির্দিষ্ট সরকারি পারমিটযুক্ত ট্যুরিস্ট ট্যাক্সি নেই। যে যেমন পারছে, তেমন টাকা নিচ্ছে গাড়ি ভাড়া। ছিল না কোনও পর্যটন ইনফরমেশন সেন্টার। পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ স্পষ্ট বলেছে, সব কিছু যেন অগোছালভাবে চলছে। নিয়মনীতি না থাকায় পুরোপুরি ট্যাক্স থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট রেট চার্টেরর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ‘ব্লু হোম স্টে’ সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। উল্লেখ্য, ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা এদিনই মোট ১৫ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীকে পাঠান। তার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দ্রুত ট্যুরিস্ট ট্যাক্সি নিয়ে আরটিও–র সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নারারথলি, ভুটানঘাটে নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র, জয়ন্তীতে ট্যুরিস্ট হাবের জন্য পৃথকভাবে আলোচনা করা হবে বনদপ্তরের সঙ্গে। একইভাবে বক্সাতে হাতি সাফারি নিয়ে হবে আলোচনা। এদিকে ব্লু হোম স্টে নিয়ে জানা গেছে, সরকারের আর্থিক সাহায্যে হোম স্টে–‌গুলিকে সাজানো হচ্ছে। একটি আদিবাসী পরিবারে থাকার অনুভব কেমন তা সেখানে গেলেই বুঝতে পারবেন পর্যটকরা। সরকারের হাতে নির্দিষ্ট রেট চার্ট থাকছে সেখানে। অভিরূপ বসু জানান, ব্লু হোম স্টে নিয়ে কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার, অনলাইনে, উৎসবে, সড়কের পাশে ডিসল্পে করে প্রচার চলবে। নির্দিষ্ট ‘লোগো’ প্রায় তৈরি। জানা গেছে, ব্লু হোম স্টে যদি সরকারি সাহায্যে মডেল হোম স্টে হিসেবে জনপ্রিয় হয়, তবে জেলার বাকি হোম স্টে–‌গুলিও যেন একই নীতিতে নিয়ম মেনে পরিষেবা দেয়। সেজন্য খুব দ্রুত বেসরকারি হোম স্টে ট্যুর অপারেটরদের নিয়েও দ্রুত বৈঠক হবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top