অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, সিউড়ি, ২৮ জানুয়ারি— মাঝে মাত্র একদিন ক্যাজুয়াল লিভ (‌সি এল)‌ নিলেই টানা ৪ দিন ছুটি। আর এই টানা ছুটির সৌজন্যে পর্যটকদের রীতিমতো ঢল নেমেছে রাঙামাটির বীরভূমে। তারাপীঠ, শান্তিনিকেতন, বক্রেশ্বর প্রভৃতি পর্যটনকেন্দ্রগুলির হোটেল, লজে ‘‌ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’‌ অবস্থা। অনেকে শীতের মরশুমে শেষবারের মতো পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিকের আনন্দ উপভোগ করছেন বক্রেশ্বর নদের ধারে, বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশাল জলাধারের ‘‌নীল নির্জনে’‌র পাশে অথবা বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মশানজোড়ে।
২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ছিল সাধারণতন্ত্র দিবসের ছুটি। শুক্রবার অফিস, আদালত, ব্যাঙ্ক খোলা। শনি ও রবিবার ফের ছুটি। মাসের চতুর্থ শনিবার হওয়ায় ব্যাঙ্কের ছুটি। অর্থাৎ মাঝে শুধু শুক্রবার ক্যাজুয়াল লিভ (‌সি এল)‌ নিলে টানা ৪ দিনে ছুটিতে বেড়ানোর সুন্দর সুযোগ। 
আর স্কুল–‌কলেজেও এখন সরস্বতী পুজোর হাওয়ায় পড়াশোনার কড়াকড়ি নেই। সব মিলিয়ে সব ধরনের সরকারি কর্মচারী, ব্যাঙ্ক কর্মী, শিক্ষকদের কাছে কম শীতের এই আরামদায়ক সময়ে কাছে–‌পিঠে বেড়ানোর এক সুবর্ণ সুযোগ এসে হাজির। জানুয়ারির শেষে এরকম সুযোগ পেয়ে তাই ভ্রমণপ্রেমী বাঙালি চাকুরিজীবী সপরিবারে বেরিয়ে পড়েছেন ‘‌ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’‌ পর্যটনের জেলা বীরভূমে। রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদেরও এই সময় বীরভূমে বেড়াতে আসার হিড়িক পড়ে গেছে। জেলার সরকারি অতিথিশালাগুলিতে ‘‌ভি আই পি বুকিং’‌–‌এর তালিকা দেখলেই তা টের পাওয়া যায়। এমনকী বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মশানজোড়ে এ রাজ্যের সেচ দপ্তরের বাংলোতে সমস্ত ঘর এখন কলকাতা থেকে বেড়াতে আসা ‘‌ভি আই পি’‌ আমলাদের দখলে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি থেকে দেড়–‌দুশো কিলোমিটারের মধ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে শান্তিনিকেতন‌, বক্রেশ্বর, তারাপীঠের মতো পর্যটনস্থল। বক্রেশ্বর ছাড়াও আর ৪টি সতীপীঠ রয়েছে বীরভূমেই। 
এগুলি হল নলহাটি (‌নলাটেশ্বরী)‌, সাঁইথিয়া (‌নন্দীকেশ্বরী)‌, লাভপুর (‌ফুল্লরাওলা)‌ ও বোলপুরের কঙ্কালিতলা। এছাড়া রয়েছে নিত্যানন্দ মহাপ্রভূর জন্মস্থান বৈষ্ণব তীর্থ বীরচন্দ্রপুর–‌একচক্রা। 
ছোটনাগপুর মালভূমির পাহাড় ঘেরা ঝাড়খণ্ডের মশানজোড়ে সিউড়ি থেকে গাড়িতে মাত্র মিনিট চল্লিশের রাস্তা। সব মিলিয়ে ভ্রমণপ্রেমী বাঙালিদের কাছে দিন চারেক ছুটিতে ‘‌ঘর হতে শুধু দিই পা ফেলিয়া’‌ বেড়ানোর অন্যতম পছন্দের ঠিকানা যে বীরভূম, বৃহস্পতিবার থেকে জেলার পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটকদের ভিড় দেখেই তা বোঝা যায়। নোটবন্দীর জেরে গত আড়াই মাসে বীরভূমে পর্যটনশিল্প ভীষণভাবে মার খেয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top