আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বিরোধী দল বিএসপির সুপ্রিমো মায়াবতীর নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বসাল নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, যোগী আদিত্যনাথ আগামী ৭২ ঘণ্টা এবং মায়াবতী আগামী ৪৮ ঘণ্টা কোনও দলীয় প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবারই কমিশনকে জিজ্ঞেস করেছিল, কারও বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠলে সেই প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করবে কমিশন। তারপরই দুই নেতা–নেত্রীর বিরুদ্ধে এই নির্দেশ দেয় কমিশন। মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে নির্দেশ কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, যোগী আদিত্যনাথ এবং মায়াবতীর বিরুদ্ধে ভাষণে অবমাননাকর শব্দ এবং ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট চাওয়ার অভিযোগে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ে হয়েছিল। সম্প্রতি গাজিয়াবাদে একটি নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, ‘‌কংগ্রেস জঙ্গিদের বিরিয়ানি পরিবেশন করেছে আর ‌মোদিজির সেনা তাদের বুলেট আর বোমা দিয়েছে।’ জাতীয় সেনাবাহিনীকে কোনও নেতার নিজস্ব বাহিনী বলে সম্বোধন করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। এমনকি বিজেপিনেতা তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান ভিকে সিং–ও যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘‌সেনা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, সারা দেশের।’‌ যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে ‘‌‌সবুজ ভাইরাস’ বলে মন্তব্যের অভিযোগও রয়েছে।  
মায়াবতীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ, গত সাত তারিখ, দেওবন্দের একটি নির্বাচনী প্রচারে তিনি বলেছিলেন, ‘‌আমি মুসলিমদের বলব আপনারা বন্ধুত্ব এবং আত্মীয়তার খাতিএ ভোট ভাগ করবেন না। আপনারা যদি চান উত্তর প্রদেশে বিজেপি হারুক তাহলে ভোট ভাগ হতে দেবেন না। মহাজোটে সবাই মিলে ভোট দিন। এটা আমার আবেদন, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে।’‌ এর পরদিন মেরঠে পাল্টা জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, ‘‌আপনারা শুনেছেন মায়াবতীর কথা। মহাজোটের শুধু মুসলিম ভোট চাই। অন্যদের নয়। কংগ্রেস, সপা, বিএসপির যদি আলির উপর বিশ্বাস থাকে তাহলে আমাদের বজরঙ্গবলির উপর আছে।’‌    ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top