মধুরিমা রায়: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকেই বিরোধী শিবির ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলা সহ কলকাতা জুড়ে শাসক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় অশান্তি, হিংসা, হানাহানির অভিযোগ উঠেছে। খাস কলকাতার বুকেই কাঁকুরগাছিতে বিজেপি সমর্থক এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। একে রাজ্য জুড়ে অতিমারী আতঙ্ক, তাতে রাজনৈতিক উত্তাপ, নাজেহাল নগর জীবন। এ বিষয়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া অভিনেতা রুদ্রনীলের কাছে aajkaal.in প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করেছিল। রুদ্রনীলের অভিমত, 'এই হিংসার রাজনীতি তৃণমূল নির্বাচনের মাঝেও চালিয়েছিল। আমাকে নির্বাচনী প্রচারে আক্রমণ করা হয়েছিল। এখনও হচ্ছে। শাসক দল তৃতীয়বারের জন্য মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসছে যখন, তখন আগে রাজ্যকে শান্তিপূর্ন অবস্থায় আনুক, তারপর না হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হোক।' তাহলে সে কারণেই কি বেছে বেছে ঠিক পাঁচ তারিখ মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণের দিনেই দেশ জুড়ে বিজেপির ধর্ণাকর্মসূচী? এর জবাবে অভিনেতার অভিমত, প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব তো তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। অন্যদিকে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, কোথাও এমন কোনও ঘটনা ঘটছে না। অপপ্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। বীরভূম খুব শান্তিপূর্ন অবস্থায় আছে। এমনকি মহিলাদের ধর্ষণ এবং খুনের যে অভিযোগ বিজেপি করেছে, একেবারেই মিথ্যে সে সব। তিনিই যোগ করেন, ' বিজেপির আইটি সেল অভিযোগ করেছে রাণীনগরের যে মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মীরা, সেই মহিলাকে আমি নিজে ফোন করে কথা বলেছি। কোনও সমস্যা নেই তাঁর। দিব্যি বেঁচে বর্তে আছেন। আমি একটাই কথা বলব, যে আমাদের ভোট দিয়েছে সেও তৃণমূল, যে দেয়নি সেও তৃণমূল। আমার বীরভূম একেবারে শান্ত।' আবার বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় বলছেন, জেতার পরে হিংসা চালাচ্ছেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। প্রশাসন হাত তুলে নিয়েছে। অভিযোগ পুলিশকে জানাতে গেলে, তারা এমন আচরণ করছেন, মনে হচ্ছে এটা হওয়ার ছিল। তিনি যোগ করছেন, ' এটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জা, এত বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পরেও রাজ্যবাসীর কোনও সার্বিক সুরক্ষা দিতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!' তাঁর বক্তব্য অনেক জায়গায় বিজেপি কর্মীরা বাড়ি ছাড়া হয়ে আছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মা বোন স্ত্রী সন্তানকে আক্রমণ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল কর্মীরা। তাই যিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, তিনি তো সকলের মুখ্যমন্ত্রী, আগে এই ক্ষতগুলো সামলে নিন তারপরে শপথ নিন। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের এ বিষয়ে মন্তব্য, বিজেপির দলে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস চলছে। তাঁরা নাটক করছেন। ' আমি নিজে বাগমারি এলাকায় বিজেপি সমর্থক ঘর ছাড়া একটি ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে এলাম। বিজেপির আদি বিজেপি এবং তৎকাল বিজেপির মারামারিতে বিজেপির নীচু তলার কর্মীরা আহত হয়েছেন। আমাদের ছেলেদের বলা আছে প্ররোচনায় পা না দিতে। সংযত থাকতে। আমরা আসলে চৈতন্য দেবের নীতিতে বিশ্বাসী।' বিজেপির বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথাগত রায়কে এই সন্ত্রাস নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব দিয়েছেন, ' সরকার গঠন করছেন যাঁরা, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী আমারও মুখ্যমন্ত্রী। কাজেই একটাই আবেদন, রাজ্যবাসীর সুরক্ষা দিন তিনি।' আর পাঁচ তারিখেই কেন ধর্না ডাকা হ'ল? সেদিন তো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণের দিন। দলের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ এবং অসন্তুষ্ট দুঁদে এই রাজনীতিবিদ বলছেন, ' দল তার সিধান্ত নিয়েছে, আমি সামান্য কর্মী, এর কোনও উত্তর আমার কাছে নেই।' Aajkaal.in রাজনৈতিক হানাহানি প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে ফোন করলে, তিনি অভিযোগ করেন, ' একাধিক জায়গায় জেলায় জেলায় গ্রামে গ্রামে ধর্মীয় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। নানুরে ৭৯ -৮০ জন মহিলার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। দুজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রামগুলো কার্যত পুরুষ শূন্য করে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের অত্যাচার চলছে। বয়স্কদের পর্যন্ত রেয়াত করা হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় মদ্যপ যুবকরা রাত বাড়লেই সন্ত্রাস চালাচ্ছে।' তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে আবেদন শান্ত থাকার সংযত থাকার, তা কি কাজ করছে না? এই প্রশ্নের জবাবে শমীক বাবু বলছেন, ' মুখ্যমন্ত্রী যে দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকতে বলছেন, তাতে নিশ্চয় আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। নইলে রাজ্য জুড়ে এই হাল হয় না। ' অন্যদিকে তৃণমূলের নেতা রাজ্যর বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলছেন, কিছু ঘটনা শুনেছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের শুধুমাত্র সংযত থাকার অনুরোধ করছেন তিনি। নেতা,মন্ত্রী,মুখপাত্র, প্রার্থী সকলেই নিজের মতামতে সুশৃঙ্খল, শান্ত, সভ্য সমাজ চাইছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল বিপুল সংখ্যক ভোট পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সকলকেই শান্ত থাকতে বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'আমি প্রতিহিংসাপরায়ণ নই। আমি সবাইকে শুধু বলব, রাজধর্ম পালন করুন।’ তারপরেও নীচু তলার কর্মীদের কাছে কি সেই বার্তা সঠিক ভাবে পৌঁছচ্ছে না!

জনপ্রিয়

Back To Top