TMC on Yogi: ‘বিজেপি জুমলা, তৃণমূল উন্নয়নের দল’, যোগীকে একাধিক বিজ্ঞাপন করার পরামর্শ ডেরেকের

আজকাল ওয়েবডেস্ক: যোগী সরকারের উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে কলকাতার ‘মা’ উড়ালপুলের ছবি! আর এই নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, ‘বিজেপি জুমলা পার্টি। তৃণমূল উন্নয়নের দল। অবশেষে মমতা ব্যানার্জির সরকারের ভালো কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে ধন্যবাদ।’ এরই সঙ্গে যোগী সরকারকে আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপন করারও পরামর্শ দেন তিনি। তুলে ধরেন বিভিন্ন পরিসংখ্যান। বলেন, ‘একদিকে দেখান বাংলায় গ্রামীণ রাস্তা হয়েছে ২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর উত্তরপ্রদেশের খরচ হয়েছে ৯৫০ কোটি টাকা।’ আরেকটি বিজ্ঞাপন করতে পারেন। তৃণমূল ২০১৮-১৯ সালে গ্রামীণ রাস্তা করেছে ৫১০০ কিলোমিটার। আর উত্তরপ্রদেশে হয়েছে ১৬৮০ কিলোমিটার।’

ডেরেক আরও দাবি করেন, ‘সারাদেশে যে দুর্নীতি হয় তার ০.২ শতাংশ বাংলায় হয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে হয় ৩.২ শতাংশ।’ সেই সঙ্গে দাবি করেন, তপশিলি জাতিদের ১০০ দিনের কাজ দেওয়া হয়েছে ৯৭ হাজার মানুষকে। উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা ৫৭ হাজার। পাশাপাশি হাসপাতালের বেড সংখ্যাও তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, ‘বাংলায় হাসপাতালে ৮৬ হাজার বেড রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে রয়েছে ৫৭ হাজার বেড। তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের ওপর অন্যায়ের ঘটনা বাংলায় ০.৩ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে ২৫ শতাংশ।’

সমীর চক্রবর্তী বলেন, ‘সামনে নির্বাচন তাই উত্তরপ্রদেশে উন্নয়নের কিছু না পেয়ে এখন কলকাতার ছবি দেখানো হচ্ছে। আর ইনি এপ্রিল-মে মাসে মোট ১১ বার রাজ্যে এসেছিলেন। উনি যোগী আদিত্যনাথ নন, উনি ঠগি আদিত্যনাথ।’

এই নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী। তিনি টুইটে লেখেন, ‘সংবাদপত্রে একটি ভুল বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রচারে নেমেছে পাণ্ডারা। বৃদ্ধি ও উন্নয়নের সাক্ষ্য বহন করে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। উত্তরপ্রদেশ সরকারের অন্য রাজ্য থেকে ধার করার কিছুই নেই। দেউলিয়া হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এমন রাজ্যের থেকে তো নয়ই।’

প্রসঙ্গত, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ফ্রন্ট পেজে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ‘পরিবর্তন’ ট্যাগলাইনে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায় কলকাতার মা উড়ালপুলের ছবি। আর এই নিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র তুলোধনা করে তৃণমূল। যদিও পত্রিকার তরফের সেই ভুল স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। পাশাপাশি কাগজের সমস্ত ডিজিটাল সংস্করণ থেকে ছবিটি সরানোর কথাও বলা করা হয়েছে ওই সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের তরফে।