রিনা ভট্টাচার্য: দার্জিলিঙের শিল্প সম্মেলনে আসছেন বিশ্বখ্যাত চা–আমদানিকারক (‌‌টি ইম্পোর্টার)‌ সংস্থার প্রতিনিধিরা। এঁরা আসছেন জার্মান ও জাপান থেকে। দার্জিলিঙ থেকে এই দুই দেশে সবথেকে বেশি চা রপ্তানি হয়।
পাহাড়ে প্রথম শিল্প সম্মেলন হতে চলেছে ১৩ ও ১৪ মার্চ। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাহাড়ের মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে ‌‌‌দিশা দেখাতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। শিল্পপতিদের সামনে পাহাড়ের নতুন দরজা খুলে দিতে চান। 
সিআইআইয়ের সহযোগিতায় জিটিএ ক্ষুদ্র ও ছোট–মাঝারি শিল্পোদ্যোগ দপ্তর ও পর্যটন দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজন হয়েছে এই ‘‌হিল বিজনেস সামিট দার্জিলিং’।‌ সম্মেলনের অভিমুখ থাকবে বিভিন্ন দপ্তরে। কৃষি, উদ্যানপালন, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, বনৌষধি, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি। সম্মেলনে শিল্পপতিদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জয় বুধিয়া, সঞ্জীব পুরি, সত্যম রায়চৌধুরী, সাগর দারিয়ানি এবং সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার চেয়ারম্যান উমেশ চৌধুরি–সহ রাজ্যের প্রথম সারির সব শিল্পপতিই। সম্মেলন নিয়ে সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জিটিএ–র চেয়ারম্যান বিনয় তামাং আলোচনায় বসেছিলেন। তিনি বলেছেন, দার্জিলিঙের ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। চিরাচরিত হোটেলের পাশাপাশি যদি আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়া ‘‌হোমস্টে’র ব্যবস্থা করা যায় তা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে। জিটিএ–র প্রধান সচিব সুব্রত বিশ্বাস বলেছেন, পাহাড়ের শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখা অবশ্যই তাঁদের দায়িত্ব। তবে শুধু সেটাই নয়, পাহাড়ের শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পরিবহণ, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি জিটিএ। পাহাড়ের বিধায়ক অমর রাই এবং রোহিত শর্মা বলেন, পাহাড়ের মানুষ নতুন দার্জিলিং দেখার জন্য ২ দিনের এই সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছেন। দার্জিলিঙে পানীয় জলের একটি বড় সমস্যা রয়েছে। জিটিএ–র চেয়ারম্যান বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ের ৭০টি এলাকা জল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তা ছাড়া পরিবহণ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য নতুন রাস্তা তৈরি করার পাশাপাশি পুরনো রাস্তা সংস্কারের কাজও চলছে। ২৯ মার্চ থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে রাতেও উড়ান–পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। আরও বেশি সংখ্যক উড়ান বাগডোগরা বিমানবন্দরে ওঠানামা করতে পারবে। সিআইআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার চেয়ারম্যান দীনেশ চৌধুরি জিটিএ–র সহযোগিতায় পাহাড়ে দক্ষতা উৎকর্ষ কেন্দ্র, পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং পাহাড়ের মানুষদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ করবে। তারই সূচনা হবে এই শিল্প সম্মেলনের মঞ্চে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top